১৯৯৮ সালে আরও দুটি অস্ত্রোপচার হয় বিন্দুর। ধীরে ধীরে তাঁর চলাফেরা কমতে থাকে। কোনও চিকিৎসাতেই আর হাত-পায়ের শক্তি ফেরানো যায়নি। শেষমেশ তিনি পুরোপুরি শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন।

কেরলের দম্পতির অটুট ভালবাসা
শেষ আপডেট: 14 February 2026 14:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অসুস্থতা, সংগ্রাম আর সময়ের পরীক্ষায় কত সম্পর্কই (relationships) ভেঙে যায়। কিন্তু কেরলের বাদাকারা এলাকার মেপাইল গ্রামের চেতিল প্রেসীদ্ধরন ও তাঁর স্ত্রী বিন্দুর সম্পর্ক প্রমাণ করে দিয়েছে, সত্যিকারের ভালবাসা কোনও বাধাই মানে না (Kerala couple love story)। ৩৫ বছর ধরে অসুস্থ স্ত্রী বিন্দুকে একাই সামলাচ্ছেন ওই ব্যক্তি। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে স্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে তিনি যেন আজকের যুগের এক নিঃস্বার্থ ভালবাসার প্রতীক।
প্রেসীদ্ধকরনের (Chetil Preseedharan) দিন শুরু হয় ভোর ৪.৩০-এ। ঘুম থেকে উঠে তিনি প্রথমে রান্না করেন, সকালের জলখাবার থেকে শুরু করে দুপুরের ভাত-তরকারি। এর মাঝেই স্ত্রীকে কোলে তুলে বাথরুমে নিয়ে গিয়ে তাঁকে স্নান করিয়ে দেন। তারপর নিজে হাতে করেই খাবার খাইয়ে দেন।
সকালে সাড়ে সাতটায় কাজে বেরিয়ে যান। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আবার একইভাবে স্ত্রীর দেখাশোনা করেন। এটি তাঁর দৈনন্দিন রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর কথায়, 'ও (বিন্দু) আমাকে সবকিছুর জন্যই ডাকে। ও ছাড়া আমারও আর কোনও দুনিয়া নেই।'
বিন্দুর অসুস্থতা শুরু হয় ১৯৯০ সালে, সেইসময় তিনি দশম শ্রেণিতে পড়তেন। হঠাৎ ঘাড়ে ব্যথা! পরীক্ষা করে জানা যায়, তাঁর মেরুদণ্ডে টিউমার হয়েছে। তিরুবনন্তপুরমের শ্রী চিত্রা হাসপাতালে তাঁর অস্ত্রোপচারও হয়।
এই সময়েই বিন্দুর প্রতি ভালবাসা তৈরি হয়ে প্রেসিদ্ধকরনের। কলেজজীবনে তাঁরা আরও কাছাকাছি আসেন। বিন্দুর অসুস্থতা জেনেও পিছপা হননি, দীর্ঘ লড়াই জিতে ১৯৯৩ সালে বিয়ে করেন দু'জন (Kerala couple love story)। '৯৫ সালে তাঁদের একটি মেয়ে হয়। নাম রাখেন অহল্যা।
১৯৯৮ সালে আরও দুটি অস্ত্রোপচার হয় বিন্দুর। ধীরে ধীরে তাঁর চলাফেরা কমতে থাকে। কোনও চিকিৎসাতেই আর হাত-পায়ের শক্তি ফেরানো যায়নি। শেষমেশ তিনি পুরোপুরি শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন।
২০০৩ সালে দম্পতির ছেলে কিরণের জন্ম হয়। একটি ভাঙা বাড়িতে থাকে পরিবারটি। রান্নাঘরে একটি বিছানা, একসঙ্গে মানিয়েগুছিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে, ছেলে কিরণ একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থায় কাজ করেন।
বছরের পর বছর স্ত্রীকে কোলে তোলা, ঘুরিয়ে বসানো- এর ফলে প্রেসীদ্ধকরনের শরীরে প্রভাব পড়ছে। সম্প্রতি তাঁর পিঠে ব্যথা শুরু হয়েছে, চিকিৎসকেরা এক মাসের বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন। ফলে কাজও বন্ধ রাখতে হয়েছে।
এই কঠিন সময় কয়েকজন বন্ধুকে পাশে পেয়েছেন বিন্দু। তাঁরা আর্থিকভাবে সাহায্য করছে অসুস্থ সহপাঠীর পরিবারকে।