যোনিতে সম্পূর্ণ প্রবেশ না করলেও শিশুর ক্ষেত্রে তা ধর্ষণই, পকসো আইনে রায় দিল কেরল হাইকোর্ট
ধর্ষণের সংজ্ঞা শুধু সম্পূর্ণ যোনির ভিতরে পেনিস প্রবেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আক্রান্ত যদি মেয়ে হয়, তাহলে তার বাহ্যিক যৌনাঙ্গ— লেবিয়া মেজোরা বা ভালভার সামান্যতম স্পর্শও এতে অন্তর্ভুক্ত।
শেষ আপডেট: 25 February 2025 10:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোনও শিশুর বাহ্যিক যৌনাঙ্গে সামান্যতম স্পর্শও যৌন নির্যাতনের তথা ধর্ষণের আওতায় পড়ে। এই নির্যাতনকে ধর্ষণ হিসেবে অভিহিত করার জন্য শিশুর রেচনাঙ্গে পুরুষাঙ্গের সম্পূর্ণ প্রবেশের (Vaginal entry of penis) প্রয়োজন নেই। পকসো আইনের (Pocso) অধীনে শিশু ধর্ষণের এই ব্যাখ্যা দিয়ে এক অভিযুক্তের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখল কেরল হাইকোর্ট (Kerala High Court)।
বিচারপতি পিবি সুরেশ কুমার এবং জোবিন সেবাস্টিয়ানের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট করেছে, ধর্ষণের সংজ্ঞা শুধু সম্পূর্ণ যোনির ভিতরে পেনিস প্রবেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আক্রান্ত যদি মেয়ে হয়, তাহলে তার বাহ্যিক যৌনাঙ্গ— লেবিয়া মেজোরা বা ভালভার সামান্যতম স্পর্শও এতে অন্তর্ভুক্ত। আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, 'পুরুষাঙ্গ যদি লেবিয়া মেজোরা বা ভালভায় প্রবেশ করে, তা সম্পূর্ণ হোক বা আংশিক, এমনকি সামান্যতম প্রচেষ্টা থাকলেও, তা পকসো আইনের অধীনে যৌন নির্যাতনের অপরাধ বলে গণ্য হবে।'
এই মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি ৪ বছরের মেয়েকে একাধিকবার যৌন নির্যাতন করেছিল। শিশুটি ব্যথার অভিযোগ করলে তার মা বিষয়টি জানতে পারেন এবং তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। চিকিৎসকেরা পুলিশকে বিষয়টি জানান, যার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়।
নিম্ন আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি কেরল হাইকোর্টে আবেদন করে দাবি করেন যে, অভিযোগকারিণীর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয় এবং তার বিরুদ্ধে কোনও সুস্পষ্ট চিকিৎসার প্রমাণও নেই। তিনি আরও দাবি করেন, ভুক্তভোগীর হাইমেন অক্ষত ছিল, যা প্রমাণ করে, তিনি মেয়েটির যোনিতে পুরুষাঙ্গ প্রবেশ করাননি।
তবে হাইকোর্ট এই যুক্তি খারিজ করে জানিয়ে দেয়, হাইমেন অক্ষত থাকলেও তা ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনকে অস্বীকার করার কারণ হতে পারে না। আদালত অভিযুক্তের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখে এবং ২৫ হাজার টাকা জরিমানারও রায় দেয়।
এই রায়ের মাধ্যমে কেরল হাইকোর্ট স্পষ্ট করেছে যে, শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের ক্ষেত্রে শারীরিক প্রমাণের বাইরেও আইনের কঠোর প্রয়োগ হবে এবং সামান্যতম শারীরিক স্পর্শকেও গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।