
শেষ আপডেট: 12 December 2023 09:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিপিএম পরিচালিত কেরলে রাজ্য সরকারের সঙ্গে রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খানের সংঘাত নতুন নয়। গত দু'বছর ধরে লাগাতার বিরোধে লিপ্ত রাজ্য ও রাজভবন। রাজ্যপাল খান রাজভবনে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে একাধিকবার অভিযোগ করেছেন, রাজ্যের সাংবিধানিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
তাঁর এই লাগাতার অভিযোগের সপক্ষে সোমবার রাতের ঘটনাকে যুক্ত করেছেন তিনি। রাজ্যপালের অভিযোগ, তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে এবং এই ষড়যন্ত্রের পিছনে আছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। রাজ্যপালের কথায়, এরপর কী করে বলা যায় রাজ্যে সাংবিধানিক ব্যবস্থা বজায় আছে!
রাজ্যপালের বক্তব্য, তিনি রাজ্য সরকারের চাপের মুখে নতি স্বীকার না করাতেই তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করে ভয় দেখানো হচ্ছে। যাতে তিনি কেরলের রাজ্যপালের পদ থেকে সরে যান।
প্রসঙ্গত, পাঞ্জাব, তেলেঙ্গানা তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গের মতো কেরলেও রাজ্যপালের বিরুদ্ধে বিধানসভায় পাশ হওয়া বিল আটকে রাখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কেরলের সিপিএম সরকারও এই ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। সপ্তাহ দুই আগে শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় এই ব্যাপারে রাজ্যপালের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন।
তারপরও রাজ্যপাল বিলে সায় দেওয়ার ব্যাপারে উচ্চবাচ্য করছেন না বলে কেরলের বাম সরকারের অভিযোগ।
এই ব্যাপারে রাজনৈতিক লড়াই এগিয়ে নিয়ে যেতে পথে নেমেছে সিপিএমের ছাত্র যুব সংগঠন এসএফআই এবং ডিওয়াইএফআই।
সোমবার দুটি ঘটনা ঘটে। দুটি ঘটনাতেই আঙ্গুল উঠেছে সিপিএমের ছাত্র সংগঠনের দিকে। দুপুরে শহরে বণিক সভার একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময় এসএফআই সমর্থকেরা রাজ্যপালের কনভয় আটকানোর চেষ্টা করে। রাজ্যপালকে কালো পতাকা দেখানো হয়।
ওই ঘটনায় পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে এগারো জন এসএফআই সমর্থককে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করে। দ্বিতীয় ঘটনাটি রাতের।সন্ধার পর রাজ্যপাল দিল্লির উদ্দেশ্যে রাজভবন ছাড়েন। বিমানবন্দর অভিমুখে তাঁর কনভয় এক জায়গায় আটকানোর চেষ্টা হয়। কনভয় দাঁড়িয়ে যায়। রাজ্যপাল গাড়ি থেকে নেমে আসেন। ওই সময় এসএফআইয়ের সমর্থকদের সঙ্গে তাঁর ধস্তাধস্তি হয়। রাজ্যপাল খান রাস্তায় দাঁড়িয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন।
তিনি তুলে ধরেন কান্নুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো ঘটনাও। সেখানে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন আচার্য রাজ্যপাল। আরিফ মহম্মদ খানের অভিযোগ, তখন তাঁর মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। তাঁর আরও অভিযোগ ওই ঘটনায় পুলিশ যাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার করে এক ব্যক্তি তাঁদের ছাড়িয়ে নিয়ে যান। পরে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী নিযুক্ত হন।
রাজ্যপালের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী এইসব ঘটনা জানতেন। আমার উপর শারীরিক নির্যাতনের দুটি ঘটনাই মুখ্যমন্ত্রীর ষড়যন্ত্র।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে রাজ্য সরকারের সঙ্গে রাজ্যপালদের বিবাদ নতুন নয়। তবে কোনও রাজ্যপালের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে শারীরিক নিপীড়নের ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ শোনা যায়নি। মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই এবং সিপিএম সরকার এখনও আরিফ মহম্মদ খানের অভিযোগ নিয়ে মুখ খোলেনি।