
বরাত জোরে প্রাণে বাঁচল পরিবারের সকলে - ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 24 April 2025 14:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাখে হরি, মারে কে!
কেরলের পরিবারের (Kerala Family) ক্ষেত্রে এই শব্দবন্ধ অকাট্য উদাহরণ হিসেবে থেকে যাবে। অনেকের মতোই জম্মু-কাশ্মীরে ঘুরতে গেছিলেন তাঁরা। হামলার দিন (Jammu Kashmir Pahalgam Terror Attack) ওই সময়ে ছিলেন পহেলগামেও ছিলেন। কিন্তু জঙ্গিদের হাত থেকে বেঁচে গেলেন সকলেই। আর তাঁদের বাঁচাল মটন রোগান জোস (Mutton Rogan Josh), তাও আবার নুনে পোড়া! কেরলের এই পরিবারের গল্প খানিক বিচিত্রই বটে।
কোচির বাসিন্দা লাবণ্য পরিবারের ১০ জন সদস্যের সঙ্গে গেছিলেন কাশ্মীর। ২ দিন শ্রীনগরে থাকার পর পহেলগাম পৌঁছেছিলেন তাঁরা। সেখানেও ২ দিন থাকার কথা ছিল তাঁদের। গত মঙ্গলবার অর্থাৎ জঙ্গি হামলার দিন ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে ছিলেন তাঁরা। সেই সময়ই বৈসরন ভ্যালি থেকে কয়েকজন পর্যটককে আতঙ্কিত হয়ে নামতে দেখেন। তাঁরাই তাঁদের বারণ করেন আর এগোতে। তাই নীচেই দাঁড়িয়ে যান লাবণ্যরা। ফলে সকলেই বেঁচে যান। কিন্তু এর সঙ্গে মটন রোগান জোসের সম্পর্ক কোথায়?
লাবণ্যর কথায়, গত ২-৩ দিন ধরে ঠিক মতো লাঞ্চ করতে পারেননি তাঁরা। পর্যটক বেশি থাকায় নানা রেস্তরোঁয় ভিড় ছিল। সেই কারণে কোথাও খেতে যাননি। কিন্তু ঘটনার দিন পহেলগাম পৌঁছে তাঁর স্বামী রীতিমতো জোর করেন তাঁদের লাঞ্চ করতে। সেই কারণে তাঁরা একটি রেস্তোরাঁয় ঢোকেন। সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা ছিলেন সকলে।
সংবাদমাধ্যমে লাবণ্য জানিয়েছেন, পরিবারের জন্য মটন রোগান জোস অর্ডার করেছিলেন তিনি। তবে সেটি ছিল নুনে পোড়া এবং তাতে প্রচুর হাড় ছিল। সে কারণে বয়স্করা ঠিক মতো খেতে পারছিলেন না, অনেক সময় লাগছিল। রেস্তোরাঁর মালিককে বিষয়টি বলতেই তিনি জানান, নতুন করে রান্না করে তাঁদের দেওয়া হবে। বারবার বারণ করলেও তা শোনেননি। ফলে রেস্তোরাঁতেই তাঁদের প্রায় দেড় ঘণ্টার ওপর কেটে যায়। ওই অতিরিক্ত সময়ের জন্যই বৈসরন ভ্যালি যেতে দেরি হয়েছিল তাঁদের। ফলে সকলে বেঁচে যান।
লাঞ্চ করে বেরনোর পর বৈসরন ভ্যালির দিকেই যাচ্ছিলেন লাবণ্যরা। সেই সময়েই ওপর থেকে অনেক পর্যটক এবং ঘোড়াদের নেমে আসতে দেখেন। তাঁরা যে সকলেই আতঙ্কিত ছিল তা বোঝাই যাচ্ছিল। লাবণ্য বলছেন, ''আমাদের ওপরে যেতে ওঁরা বারণ করছিল। কিন্তু তবুও আমরা উঠছিলাম। ভেবেছিলাম ধস নেমেছে হয়তো। কিন্তু ওপর থেকে কয়েকটি গাড়িও নেমে আসছিল। তাঁরা বলেন, নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে কিছু একটা ঝামেলা হয়েছে পর্যটকদের। একজন মহিলাকে কাঁদতেও দেখি আমরা। ফলে আর ওপরে উঠিনি। বুঝি, কিছু একটা খারাপই হয়েছে।'' শেষমেশ জঙ্গি হানার খবর পেয়ে ওই পরিবার সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। এই মুহূর্তে তাঁরা রয়েছেন শ্রীনগরে এবং শুক্রবারই কেরল ফিরবেন।
ভাগ্যিস রেস্তোরাঁর মটন রোগান জোসে একটু বেশি নুন হয়েছিল...