কংগ্রেসের সরকারি এক্স হ্যান্ডল থেকে ‘বিড়ি-বিহার’ নিয়ে করা একটি বিতর্কিত পোস্ট ঘিরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েই তিনি সরে দাঁড়ালেন।

কেরল কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া হেড ভি টি বলরাম
শেষ আপডেট: 6 September 2025 16:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির (Kerala Pradesh Gongress) সোশ্যাল মিডিয়া প্রধানের (Social Media Head) পদ থেকে ইস্তফা (Resign) দিলেন ভি টি বলরাম (VT Balaram)। কংগ্রেসের সরকারি এক্স হ্যান্ডল থেকে ‘বিড়ি-বিহার’ নিয়ে করা একটি বিতর্কিত পোস্ট ঘিরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েই তিনি সরে দাঁড়ালেন।
প্রসঙ্গত, কংগ্রেসের কেরল শাখার এক্স হ্যান্ডল থেকে পোস্ট করা হয়েছিল— “Bidis and Bihar start from B. Cannot be considered a sin anymore.” পরে সেটি মুছে দেওয়া হয়। আসলে সম্প্রতি জিএসটি কাউন্সিল বিড়ির করহার ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করেছে। একই সঙ্গে তেন্ডু পাতা— যা বিড়ি বানানোর মোড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তার উপর করও নামানো হয়েছে ৫ শতাংশে। অথচ সিগারেটের উপর বাড়তি কর বলবৎ থাকবে।
এই মন্তব্যকে বিহার এবং বিহারের মানুষকে অপমান বলে কড়া সমালোচনা করে রাজ্যের শাসক জোট এনডিএ। এমনকী কংগ্রেসের জোটসঙ্গী আরজেডি-ও দ্রুত সেই মন্তব্য থেকে দূরত্ব বজায় রাখে। কারণ বিহারই দেশের অন্যতম প্রধান বিড়ি উৎপাদন কেন্দ্র, যেখানে প্রায় ৭০ লক্ষ শ্রমিক এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত।
দুই দফার বিধায়ক বলরাম গত বছর ড: পি সারিন সিপিএম-এ যোগ দেওয়ার পর থেকে কেপিসিসির ডিজিটাল সেলের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। কিন্তু বিতর্ক চরমে উঠতেই শুক্রবার তিনি দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানান।
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, কংগ্রেসের এই পদক্ষেপ দলের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য হলেও, বিরোধীরা ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে আক্রমণ শানাতে শুরু করেছে।
জেডিইউ নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় কুমার ঝা কংগ্রেসকে আক্রমণ করে লেখেন, ‘‘বি মানে শুধু বিড়ি নয়, বি মানে বুদ্ধি, যা কংগ্রেসের নেই। বি মানে বাজেটও, যা বিহার বিশেষ সাহায্য পেলে কংগ্রেসকে কষ্ট দেয়। এই ধরনের পোস্ট শুধু বিহারের মানুষকেই নয়, দেশের গৌরবময় ইতিহাস এবং গণতন্ত্রকেও অপমান করেছে।’’ তিনি সতর্ক করে দেন, ‘‘আগামী নির্বাচনে বিহারের মানুষ এর জবাব দেবে।’’
বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়াল্লা কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘বি যদি বিহার আর বিড়ি হয়, তবে সি-ও জানা উচিত— সি মানে কংগ্রেস, সি মানে কোরাপশন (দুর্নীতি)।’’
জিএসটি কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিড়ির উপর কর এখন ১৮ শতাংশ, যা আগে ছিল ২৮ শতাংশ। বিড়ির মোড়ক হিসেবে ব্যবহৃত তেন্ডু পাতার করও ১৮ থেকে নামিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে, ৫, ১২, ১৮ ও ২৮ শতাংশের চার দফা হারের পরিবর্তে ব্যবস্থা সহজ করে দু'টি স্ল্যাব রাখা হচ্ছে— ৫ ও ১৮ শতাংশ। তবে তামাক ও সিগারেটের মতো কিছু নির্বাচিত দ্রব্যের জন্য বিশেষ ৪০ শতাংশ করস্ল্যাব প্রস্তাবিত হয়েছে।