
শেষ আপডেট: 22 March 2024 18:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বামীর গ্রেফতারি নিয়ে মুখ খুললেন স্ত্রী সুনীতা কেজরিওয়াল। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৩ মিনিটে এক এক্সবার্তায় তিনি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে গ্রেফতারের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কাঠগড়ায় তোলেন। সুনীতা লিখেছেন, আপনাদের দ্বারা নির্বাচিত তিনবারের মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেফতার করেছেন মোদীজি। ক্ষমতার ঔদ্ধত্যে তিনি এই কাজ করেছেন। মোদীজি সবাইকে গুঁড়িয়ে দিতে চান। সুনীতা আরও লিখেছেন, দিল্লির মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছে বিজেপি। আপনাদের মুখ্যমন্ত্রী সবসময় আপনাদের সঙ্গে ছিলেন। উনি জেলে থাকুন বা বাইরে, ওনার জীবন দেশের জন্য সমর্পিত। জনতা জনার্দন সব কিছু টের পাচ্ছেন। জয় হিন্দ, লিখেছেন সুনীতা।
অরবিন্দ কেজরিওয়াল ইস্তফা দিলে দিল্লির পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনার জলঘোলা শুরু হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আম আদমি পার্টির বিধায়ক, কাউন্সিলাররা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বাড়িতে যান এদিন। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কেজরির স্ত্রী সুনীতা কেজরিওয়াল ও অন্যদের সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা। তবে আরও একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে শুক্রবার যদি কেজরিওয়ালের ইডি হেফাজত হয়, তাহলে তাঁর ইস্তফা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি চাপ আসবে। তাই আগেভাগে মুখ্যমন্ত্রী মুখ ঠিক করে রাখলে লেফটেন্যান্ট গভর্নর রাষ্ট্রপতির শাসনের সুপারিশ করতে পারবেন না। কেজরি ইস্তফা দিলে পরবর্তী দলনেতা ঠিক করে সরকার গঠনের দাবি জানাবে আপ।
দলের তরফে সকালে দাবি করা হয়, মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেবেন না কেজরি। কিন্তু, বল এখন দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর বিনয়কুমার সাক্সেনার কোর্টে। যাঁর নির্দেশেই আবগারি দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছিল। লেফটেন্যান্ট গভর্নর এখন 'সাংবিধানিক অচলাবস্থা'র যুক্তি দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির শাসন জারির সুপারিশ করতে পারেন। ভোটের আগে সরকার পতন ঠেকাতে কেজরিওয়ালের পরবর্তী মুখ বাছাই করতে হবে। কিছুদিন আগে ঝাড়খণ্ডে এভাবেই সরকার টিকিয়ে রেখেছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের দল জেএমএম। তারও আগে বিহারে রাতারাতি স্ত্রী রাবড়ি দেবীকে মুখ্যমন্ত্রীর গদিতে বসিয়ে সরকার বাঁচিয়ে রেখেছিলেন গ্রেফতার হওয়া মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদব।
এই অবস্থায় অরবিন্দের স্ত্রী সুনীতার নাম নিয়ে জোর জল্পনা চলছে। কোনওদিন সক্রিয় রাজনীতি না করলেও অরবিন্দ কেজরিওয়ালের স্ত্রী সুনীতা দলের ভিতরে বেশ জনপ্রিয়। তিনি আপের সক্রিয় সদস্য না হয়েও স্বামীর জন্য বহুবার প্রচারে বেরিয়েছেন। প্রথমেই তাঁর নাম ভেসে উঠেছে রাজধানীর রাজনীতিতে। অরবিন্দের মতোই সুনীতা ইন্ডিয়ান রেভেনিউ সার্ভিসে চাকরি করতেন। ২০১৬ সালে চাকরি থেকে স্বেচ্ছাবসর নেন। বিভিন্ন রাজ্যে গিয়ে এবং লোকসভা ভোটেও সুনীতা তাঁর স্বামীর হয়ে প্রচার করেছেন। তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করতে দলের ভিতরে আপত্তি ওঠার প্রশ্ন নেই।