
শেষ আপডেট: 1 April 2024 15:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এখনও প্রায়ই তিনি দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত জওহরলাল নেহেরুর ভুল ধরেন। ভুল ধরেন আর এক প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীরও। সেই নরেন্দ্র মোদী ভোটের ময়দানে পূর্বসূরীদের ছেড়ে কথা বলবেন না, বলাই বাহুল্য। তামিলনাড়ুতে অন্তত ভোটের ময়দানে সেই ভূমিকাতেই অবতীর্ণ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে খুঁচিয়ে তুলেছেন ৫০ বছর আগের একটি দ্বীপ হস্তান্তরের ইস্যু।
তামিলনাড়ুর রামেশ্বরমের অদূরে ভারত মহাসাগরের উপর অবস্থিত কাতচাথিভু দ্বীপ। ১৯৭৪ সালে ওই দ্বীপটি শ্রীলঙ্কাকে হস্তান্তর করেছিল ভারত সরকার। প্রধানমন্ত্রী তখন ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। সরকারি নথিপত্রে বলা হয়, ওই দ্বীপে বসবাসকারী তামিলদের স্বার্থের কথা ভেবেই শ্রীলঙ্কাকে সেটি হস্তান্তর করা হয়। পরিবর্তে ওই দ্বীপ থেকে প্রায় ছয় লাখ তামিলভাষী মানুষ ভারতে আশ্রয় পান। তারা ভারতের নাগরিক হতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
এখন ভোটের ময়দানে নরেন্দ্র মোদী প্রশ্ন তুলেছেন কেন ওই দ্বীপ শ্রীলঙ্কাকে দেওয়া হয়েছিল? তাঁর বক্তব্য, দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে ভারতের স্বার্বভৌমত্ব বিনষ্ঠ হয়েছে।
সোমবার বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর প্রধানমন্ত্রীর হয়ে ব্যাট ধরেছেন। মুখ খুলেছেন হিমাচল প্রদেশের মাণ্ডির বিজেপি প্রার্থী কঙ্গনা রানাওয়াত।
প্রধানমন্ত্রী রবিবার মিরাটের জনসভায় থেকে ওই দ্বীপ নিয়ে কংগ্রেস এবং ডিএমকে-কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানান। মনে করা হচ্ছে দ্বীপ হস্তান্তর নিয়ে প্রশ্ন খুঁচিয়ে দিয়ে জাত্যাভিমান উসকে দিতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী।
তাঁকে পাল্টা আক্রমণ করেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এবং ডিএমকে প্রধান এমকে স্টালিন এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী তথা প্রবীণ কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম।
স্টালিনের বক্তব্য, ৫০ বছর আগের একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিভাজন রাজনীতি উসকে দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এটা কাম্য নয়।
অন্যদিকে চিদম্বরম প্রশ্ন তুলেছেন ২০২০ থেকে লাদাখে দু হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা চিনের দখলে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যখন দেশের অখণ্ডতা নিয়ে এত চিন্তিত তখন লাদাখ নিয়ে তিনি চিনকে ক্লিনচিট দিয়েছেন।