অভিযোগে জানানো তথ্যের ভিত্তিতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ। কিন্তু কোথাও অভিযোগের সমর্থনে কোনও প্রমাণ মেলেনি।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 11 February 2026 16:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অপহরণের অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছিল তীব্র চাঞ্চল্য। কিন্তু তদন্ত (police investigation) যত এগিয়েছে, ততই বদলেছে ছবিটা। শেষ পর্যন্ত কর্নাটক পুলিশের তদন্তে সামনে এল - অভিযোগ পুরোপুরি সাজানো গল্প, আর আঘাতও ছিল নিজেরই কারসাজি (Karnataka fake kidnapping case)।
ঘটনাটি কর্নাটকের মেঙ্গালুরুর কাছে বেলথাঙ্গাডির (Belthangady police case)। সোমবার এক নাবালিকা কলেজছাত্রী পুলিশের কাছে অভিযোগ জানায়, স্কুটিতে কলেজে যাওয়ার পথে একটি গাড়ি তাকে আটকায়। তারপরের যে ঘটনার বিবরণ সে দেয়, তা পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের চিন্তা বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল (staged kidnapping)।
তার দাবি ছিল, মুখোশ পরা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে অপহরণের চেষ্টা করে এবং শুধু তাই নয়, বাধা পেয়ে ছুরি দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা দায়ের করে এবং তাকে চিকিৎসার জন্য বেলথাঙ্গাডি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয় বিধায়ক হরিশ পুনজা এবং পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা হাসপাতালে গিয়ে ছাত্রীর শারীরিক অবস্থা খতিয়ে দেখেন এবং ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেন।
প্রথমে ছাত্রী পুলিশকে জানায় গাড়ির নম্বরপ্লেট কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। অপহরণকারীরা তিন জন ছিল এবং মুখোশধারী। তার ব্যাগ নিয়ে পালায় তারা। এই তথ্যের ভিত্তিতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ। কিন্তু কোথাও অভিযোগের সমর্থনে কোনও প্রমাণ মেলেনি।
জেরা শুরু হতেই মেলে অসংগতি
পরে তদন্তকারীরা গাড়ির রং, সঠিক জায়গা ও ঘটনার সময় নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে ছাত্রীর বক্তব্যে অসংগতি ধরা পড়ে। তার উত্তরে বারবার পরিবর্তন দেখা যায়, যা পুলিশকে সন্দিহান করে তোলে। দীর্ঘ জেরার পর অবশেষে ছাত্রী স্বীকার করে, অপহরণের কোনও ঘটনাই ঘটেনি।
অবশেষে আসল কারণ প্রকাশ্যে আসে
ছাত্রী জানায়, সে গ্রামীণ এলাকার কলেজে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাইছিল না। বরং মেঙ্গালুরু শহরের একটি কলেজে ভর্তি হতে চেয়েছিল। এই পরিকল্পনাকে বিশ্বাসযোগ্য করতে সে নিজেই শরীরে আঘাত করে এবং অপহরণের গল্প সাজায়।
দক্ষিণ কন্নড় জেলার পুলিশ সুপার ড. অরুণ কে জানান, মেডিক্যাল পরীক্ষায় দেখা যায় আঘাতগুলো খুবই উপর উপর এবং নিজের হাতেই তা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। জেরা ও মুখোমুখি বসিয়ে প্রশ্নের সময় ছাত্রী স্বীকার করে, বেলথাঙ্গাডির কলেজে নয় সে মঙ্গলুরুর কলেজে যেতে চাইছিল, তাই এই মিথ্যা গল্প বানায়।
প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, পরে বদল
এক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছিলেন, তিন জন ব্যক্তি তাকে দেখে পালিয়ে যায় এবং তিনিই মেয়েটিকে বাড়ি পৌঁছে দেন। কিন্তু পরে পুলিশি জেরায় তিনি জানান, ঘটনার বিবরণ ছাত্রীই তাকে বলেছিল, তিনি শুধু সেটাই পুনরাবৃত্তি করেছিলেন।
বই পুড়িয়ে প্রমাণ সাজানোর চেষ্টা
তদন্তে আরও জানা যায়, নিজের বাড়ির কাছে ছাত্রী তার বই পুড়িয়ে দেয়। পরে দাবি করে, অভিযুক্ত অপহরণকারীরাই বই নিয়ে গিয়েছে। এর মাধ্যমে নিজের গল্পকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করতে চেয়েছিল সে।
অপহরণের অভিযোগ খারিজ
মেডিক্যাল রিপোর্ট, বিবৃতিতে অসংগতি এবং ছাত্রীর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ অপহরণের অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করেছে।
পুলিশ সুপার অরুণ কে জানান, মেয়েটিকে কাউন্সেলিং করা হয়েছে এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনও দিক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে অন্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।