এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। অভিভাবকদের অনেকেই সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ইতস্তত করছেন।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 3 August 2025 23:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকারি স্কুলের জলের ট্যাঙ্কে বিষ মিশিয়ে ১২ জন পড়ুয়াকে অসুস্থ করে দেওয়ার অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কর্নাটকের বেলগাভিতে। অভিযোগ, স্কুলের মুসলিম অধ্যক্ষকে সরাতেই এই ভয়ানক চক্রান্ত।
দক্ষিণপন্থী সংগঠন ‘শ্রী রাম সেনা’র এক স্থানীয় নেতার দিকে উঠে এসেছে অভিযোগের তির। এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে তিনজনকে।
১৪ জুলাই বেলগাভির একটি সরকারি নিম্ন প্রাথমিক স্কুলে ঘটে ভয়াবহ এই ঘটনা। অধ্যক্ষ সুলেমান গোরিনায়েক বিগত ১৩ বছর ধরে পদের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তাঁর ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করাই ছিল চক্রান্তকারীদের মূল উদ্দেশ্য। তাঁকে বদলি করানোর জন্যই ছক কষে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা চলে বলে দাবি পুলিশের।
স্কুলের জল খেয়েই অসুস্থ হয়ে পড়ে ১২ জন পড়ুয়া। যদিও তাদের অবস্থা স্থিতিশীল এবং চিকিৎসাধীন, তবে ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছে তারা। কিন্তু এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। অভিভাবকদের অনেকেই সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ইতস্তত করছেন।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। এক পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়ার হাতেই বিষের শিশি তুলে দেওয়া হয়েছিল, যাতে সে সেটা জলের ট্যাঙ্কে ফেলে দেয়। ওই পড়ুয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, একজন যুবক তাকে এই কাজ করতে বলে। পরে পুলিশ কৃষ্ণ মদার নামে ওই যুবককে শনাক্ত করে।
পুলিশ জানায়, কৃষ্ণ নিজেও চাপের মুখে ছিল। সাগর পাটিল ও নগন পাটিল নামের দুই যুবক তাকে হুমকি দিয়েছিল, ভিন্ন জাতের মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কের কথা ফাঁস করে দেওয়া হবে। এই হুমকির জেরেই কৃষ্ণ শিশু পড়ুয়ার মাধ্যমে বিষ মেশানোর কাজ করায়।
এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উঠে এসেছে সাগর পাটিলের নাম, যিনি ‘শ্রী রাম সেনা’র তালুক স্তরের সভাপতি। জেরায় সে অপরাধের দায় স্বীকার করেছে। পুলিশের কাছে সাগর জানায়, সে স্কুলের শীর্ষপদে এক মুসলিম অধ্যক্ষকে মেনে নিতে পারেনি।
বর্তমানে সাগর, নগন এবং কৃষ্ণ তিনজনই পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।
ঘটনায় কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “ধর্মীয় বিদ্বেষ কতটা ভয়াবহ হতে পারে, এই ঘটনাই তার দৃষ্টান্ত। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংস করার অপচেষ্টা চলছে।” তিনি আরও জানান, “সামান্য এদিক-ওদিক হলেই শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রাণহানি ঘটতে পারত।”