এদিন সকালে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া তাঁর বাড়িতে প্রাতঃরাশে ডেকেছিলেন শিবকুমারকে।

কাঠপুতুলের রাজার মতো হম্বিতম্বির শেষে উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারও জানিয়ে দিলেন যে, মুখ্যমন্ত্রিত্ব নিয়ে তাঁদের মধ্যে কোনও বিরোধ নেই।
শেষ আপডেট: 29 November 2025 13:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছিল উপমা, ইডলি ও সম্বর। শনিবার সকালের দেশী পেটপুজো দিয়েই কর্নাটকের রাজদণ্ড দখলের খেলায় ইতি টেনে দিলেন রাজনীতিতে পোড়খাওয়া কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। গরম গরম উপমা-ইডলি-সম্বরে মজে গিয়ে গত বেশ কিছুদিন ধরে কাঠপুতুলের রাজার মতো হম্বিতম্বির শেষে উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারও জানিয়ে দিলেন যে, মুখ্যমন্ত্রিত্ব নিয়ে তাঁদের মধ্যে কোনও বিরোধ নেই। এদিন সকালে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া তাঁর বাড়িতে প্রাতঃরাশে ডেকেছিলেন শিবকুমারকে।
গত কয়েকদিন ধরে মুখ্যমন্ত্রিত্ব বদলের টানাপড়েন চলছিল কর্নাটক কংগ্রেসের অন্দরে। যা পৌঁছেছিল গান্ধী পরিবারেও। আগামী সোমবার, ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের শীত অধিবেশন। তার আগে কর্নাটক সরকারে দলীয় অস্থিরতা নিয়ে প্রবল অস্বস্তিতে মুখ বুজে ছিলেন রাহুল গান্ধীও। এই পরিস্থিতিতে এদিন সকালে দুই প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী এক টেবিলে প্রাতঃরাশ সেরে বেরিয়েই জানালেন, আমরা ঐক্যবদ্ধ ছিলাম, ঐক্যবদ্ধ আছি, ঐক্যবদ্ধ থাকব।
খাওয়াদাওয়ার পর সিদ্দারামাইয়া বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের নানান জল্পনার অবসান ঘটিয়ে জানিয়ে দেনষ আমাদের মধ্যে কোনও মতপার্থক্য নেই। ভবিষ্যতেও থাকবে না। মতপার্থক্যের এবং ডিকের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার জল্পনায় জল ঢেলে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল ২০২৮ সালের বিধানসভা ভোট। এছাড়া পুরসভা-পঞ্চায়েত ভোট নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ কথা হয়েছে। ২০২৮ সালের ভোটেও যাতে কংগ্রেস ক্ষমতায় ফিরে আসে, আমরা সে ব্যাপারে আলোচনা করেছি। আমরা ঠিক করেছি, আমরা একসঙ্গেই চলব। আমাদের ভিতরে কোনও বিরোধ ছিল না, ভবিষ্যতেও থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা ঠিক করেছি হাইকমান্ড যা বলবে তা পালন করব। কাল থেকে আর কোনও বিভ্রান্তি থাকবে না। যদিও এখনও তা নেই তবে মিডিয়ারাই এ ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। সিদ্দারামাইয়া সব দোষ বিরোধী দল বিজেপি এবং জেডিএসের উপর চাপিয়ে বলেন ওরা মিথ্যা অভিযোগ করছে। ওরা বলছে, অনাস্থা প্রস্তাব আনবে। কী করে আনবে। বিধানসভায় বিজেপির ৬০ ও জেডিএসের ১৮ জন বিধায়ক। আর আমাদের রয়েছেন ১৪০ জন।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ডিকে শিবকুমারও বলেন, আমি কংগ্রেসের অনুগত সৈনিক। কংগ্রেস হাইকমান্ড ডাকলে আমি দিল্লি যাব। নেতৃত্ব নিয়ে দলের হাইকমান্ড যা ঠিক করে দেবে আমরা তাই করব। দেশে যখন কংগ্রেস নানান ধাক্কা খেয়েছে তখন কর্নাটকে আমরা বিজেপির বিজয়রথ থামিয়েছি। আশা করি ২০২৮ সালেও তারই পুনরাবৃত্তি হবে। প্রাতঃরাশের পর দুই নেতাই তাঁদের নিজস্ব হ্যান্ডলে ছবি পোস্ট করেন।