এর আগেও কর্নাটকে আইটি সংস্থাগুলি কাজের সময় বাড়িয়ে ১৪ ঘণ্টা করার প্রস্তাব দিয়েছিল। সেই সময়ও তীব্র বিরোধিতার মুখে তা স্থগিত রাখতে হয়েছিল।

শেষ আপডেট: 20 June 2025 13:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্নাটক সরকার বেসরকারি সংস্থায় প্রতিদিন ১২ ঘণ্টার কর্মঘণ্টা চালু করার যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা প্রবল আপত্তির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) এবং আইটি পরিষেবা (ITeS) সংস্থার কর্মীরা এই পদক্ষেপকে ‘আধুনিক যুগের দাসত্ব’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
বুধবার কর্নাটক সরকারের শ্রম দফতর একটি বৈঠকে এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে, যেখানে অংশ নেন শিল্প প্রতিনিধি ও ট্রেড ইউনিয়ন নেতারা। আলোচ্য বিষয় ছিল কর্নাটক শপস অ্যান্ড কমার্শিয়াল এস্টাব্লিশমেন্টস অ্যাক্টে সংশোধন এনে কর্মঘণ্টা বাড়িয়ে ১২ ঘণ্টা করা।
তীব্র আপত্তি জানিয়েছে কর্নাটক স্টেট আইটি/আইটিইএস এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (KITU)। সংগঠনের নেতা সুহাস আদিগা ও লেনিল বাবু এই বৈঠকে সরব হয়ে বলেন, এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে কাজের নিরাপত্তা ও কর্মীদের ব্যক্তিগত জীবনে বড়সড় প্রভাব পড়বে। তাঁরা সব কর্মীকেই ঐক্যবদ্ধভাবে এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামার ডাক দিয়েছেন।
KITU জানিয়েছে, বর্তমানে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ ঘণ্টা কাজের অনুমতি আছে (ওভারটাইম বা অতিরিক্ত সময়-সহ)। প্রস্তাবিত এই পরিবর্তন ১২ ঘণ্টার শিফট এবং দু’টি ভাগে কাজের ব্যবস্থাকে আইনি বৈধতা দেবে, ফলে কর্মসংস্থানের এক-তৃতীয়াংশ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হবে।
KITU নেতা আদিগার কথায়, ‘এটি কোনও প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানোর প্রস্তাব নয়। মানবিকতাবিরোধী পরিবেশকে কর্মক্ষেত্রে স্বাভাবিক করতে চাইছে সরকার। এই সংশোধনের উদ্দেশ্য কর্পোরেট মুনাফাকে প্রাধান্য দেওয়া, কর্মীদের মানুষের বদলে যন্ত্রে পরিণত করা।’
KITU আরও জানায়, ২০২৪ সালের স্টেট ইমোশনাল ওয়েলবিয়িং রিপোর্ট অনুযায়ী, কর্নাটকের কর্পোরেট কালচারে ২৫ বছরের নিচে ৯০ শতাংশ কর্মী উদ্বেগজনিত মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। এই প্রস্তাব বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলবে বলেই তাঁদের আশঙ্কা।
ট্রেড ইউনিয়নগুলি রীতিমতো সংঘবদ্ধ হয়ে এই সংশোধনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাঁরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে কর্মীদের অধিকারে প্রভাব পড়বে এবং কর্মক্ষেত্রের মানবিক পরিবেশ ব্যাহত হবে।
প্রসঙ্গত, এর আগেও কর্নাটকে আইটি সংস্থাগুলি কাজের সময় বাড়িয়ে ১৪ ঘণ্টা করার প্রস্তাব দিয়েছিল। সেই সময়ও তীব্র বিরোধিতার মুখে তা স্থগিত রাখতে হয়েছিল।
অন্যদিকে, এই মাসের শুরুতে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারও শ্রম আইন সংশোধন করে বেসরকারি সংস্থায় কাজের সময় বাড়িয়ে ৯ ঘণ্টা থেকে ১২ ঘণ্টা করেছে। সরকারের দাবি, এর মাধ্যমে বিনিয়োগ ও শিল্পোন্নয়নে সুবিধা হবে, যদিও এ নিয়েও বিতর্ক দানা বাঁধছে।