
কাঁওয়ার যাত্রা
শেষ আপডেট: 22 July 2024 14:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাঁওয়ার যাত্রা নিয়ে উত্তর প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড সরকারের নির্দেশ খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে।
বিজেপি শাসিত দুই সরকার সরকার গত সপ্তাহে ঘোষণা করে, যে পথ ধরে তীর্থযাত্রীরা যাবেন তার দু’পাশের রাস্তায় সমস্ত খাবার দোকানের মালিক ও কর্মচারীদের নাম বড় হরফে লিখে টাঙিয়ে রাখতে হবে। সোমবার থেকে শুরু হয়েছে হিন্দুদের ওই তীর্থযাত্রা।
প্রথমে মুজফফরনগর পুলিশ এমন নির্দেশ জারি করে। শুক্রবার দুই রাজ্য সরকার গোটা রাজ্যেই এই সিদ্ধান্ত বলবৎ করে।
প্রশাসনের ব্যাখ্যা ছিল, যাত্রা পথে হিন্দু তীর্থযাত্রীরা যাতে অহিন্দুদের খাবারের দোকানে ঢুকে না পড়েন, নিরামিষভোজীরা যাতে আমিষ খাবারের দোকান এড়িয়ে চলতে পারেন তারজন্যই এই সিদ্ধান্ত।
ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধী দল তো বটেই, এমনকী এনডিএ-র একাধিক শরিক এবং বিজেপির বেশ কিছু নেতা আপত্তি তুলেছিলেন। শেষ পর্যন্ত দুই সরকারই শীর্ষ কোর্টে ধাক্কা খেল। বিরোধীরা বলেছিল, ধর্মীয় প্রবিত্রতা রক্ষার নামে আসলে ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন করা হচ্ছে। বিএসপি নেত্রী মায়াবতী কড়া প্রতিক্রিয়া দেন। তাঁর বক্তব্য ছিল এই সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক। সংবিধানে সকলের অধিকার সমান। যোগী সরকার কিছু মানুষের রুটিরুজিতে থাবা বসাচ্ছে।
মুখ খোলেন বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুক্তার আব্বাস নকভিও। তিনিও মায়াবতীর সুরেই বলেন, এরফলে ধর্মীয় বিভাজন বাড়বে। যোগী প্রশাসনের সিদ্ধান্তের কঠোর নিন্দা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা লোকজন শক্তি পার্টির নেতা চিরাগ পাশোয়ান। আপত্তি তোলে বিজেপির আর এক শরিক নীতীশ কুমারের দল জনতা দল ইউনাইটেড। দলের সর্ব ভারতীয় মুখপাত্র কেসি ত্যাগি এবং চিরাগ এক সুরে বলেন, কাঁওয়ার যাত্রা বিহারেও মহা ধূমধাম করে হয়। দেশের একাধিক রাজ্যে এই সময় শিব ভক্রেরা বাবার মাথায় জল ঢালে। কোথাও কখনও এইভাবে খাবারের দোকানদের ভাগাভাগি করা হয়নি। এরফলে সম্প্রীতি নষ্ট হবে। কেন্দ্র ও রাজ্যে বিজেপির শরিক চরণ সিংহের নাতি জয়ন্ত চৌধুরীর দল আরএলডি-ও যোগী সরকারের সিদ্ধান্তের নিন্দা করেছেন।
বিজেপি শাসিত দুই প্রশাসন অবশ্য এই সিদ্ধান্তকে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষার লক্ষ্যে সঠিক পদক্ষেপ বলেই বরাবর দাবি করে। তাদের বক্তব্য, এরফলে ভুল বোঝাবুঝি বন্ধ হবে। এই ধরনের ধর্মীয় উৎসবের সময় অনেকেই ধর্ম পরিচয় গোপন করে ব্যবসা করে। সেটা এবার হবে না।
কাঁওয়ার যাত্রা হল শিবের মাথায় জল ঢালার তীর্থযাত্রা। উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বার, গঙ্গোত্রী, গোমুখ এবং বিহারের সুরতানগঞ্জ এলাকা থেকে গঙ্গার জল নিয়ে তীর্থযাত্রীরা নিজেদের এলাকায় ফিরে গিয়ে স্থানীয় শিব মন্দিরে মহাদেবের মূর্তির মাথায় ঢালেন। বাংলায় যেটা বাঁক, হিন্দি বলয়ে সেটাই বাঁশের তৈরি কুঁওয়ার। প্রাচীন এই ধর্মীয় পার্বণ জনপ্রিয় হয় গত শতকের আটের দশকে বিশ্বহিন্দু পরিষদের উদ্যোগে। বাংলাতেও শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবার তারকেশ্বরে হাজার হাজার মানুষ গিয়েছেন শিবের মাথায় জল ঢালতে।