কঙ্গনার রেস্তোরাঁ ব্যবসার দফরফা, দিনে ব্যবসা ৫০ টাকার, ঘুরে দেখা যাক দ্য মাউন্টেন স্টোরি

শেষ আপডেট: 19 September 2025 13:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত চব্বিশ ঘণ্টা ধরে ফের আলোচনায় অভিনেত্রী তথা হিমাচলের মান্ডির সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত (Kangna Ranaut)। অভিযোগ, হিমাচল যখন ভূমিধস আর বৃষ্টিতে তছনছ হয়ে যাচ্ছে তখন সাংসদের দেখা নেই। দেখা যায়, স্থানীয়দের গো-ব্যাক স্লোগানের মুখে পড়েন কঙ্গনা। তার পর কাঁদো কাঁদো মুখে বলেন, “আমার বাড়ি-রেস্তোরাঁও (Kangana Ranaut Restaurant) এখানেই। গতকাল আমার রেস্টুরেন্ট (The Mountain Story) মাত্র ৫০ টাকা ব্যবসা করেছে, অথচ মাসে ১৫ লাখ টাকা বেতন দিতে হয়”।
কঙ্গনা আরও বলেন, “আমারও দুঃখ আছে, আমি একা একজন মহিলা। আমাকে আক্রমণ করবেন না, প্রশ্ন করুন। আমাকে ইংল্যান্ডের রানি ভেবে দুর্ব্যবহার করবেন না।” বিপর্যস্ত হিমাচলে কঙ্গনার রেস্তোরাঁর কথা ফের আলোচনায় উঠে আসতেই অনেকে খোঁজ শুরু করেছেন। রেস্তোরাঁর নাম কী, কোথায় ঠিকানা, কী ধরনের ক্যুইজিনের খাবার সেখানে পাওয়া যায়! এমনিতে সিমলা, মানালি বহু বাঙালির স্বপ্নের ঠিকানাও।
কঙ্গনার জন্ম হিমাচলেই। ছোট থেকেই তাঁর নাকি স্বপ্ন ছিল সাদা তুষারে ঢাকা পাহাড়ের মাথায় তাঁর একটা ছোট্ট ক্যাফে হবে —‘দ্য মাউন্টেন স্টোরি’ (Kangana Ranaut Restaurant The Mountain Story) । সেই স্বপ্নপূরণ হয়েছে এতদিনে। তিনি সাংসদ হওয়ার পর। এ বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে এই অনন্য আড্ডাখানা খুলেছেন কঙ্গনা। যা ইতিমধ্যেই মানালির মানুষ ও পর্যটকদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
‘দ্য মাউন্টেন স্টোরি’র স্থাপত্যে আছে হিমাচলের ঐতিহ্য ও আধুনিকতার অনন্য মিশেল। ক্যাফেটির নকশা করেছেন বিখ্যাত ইন্টেরিয়র ডিজাইনার শবনম গুপ্তা। পাথরে গাঁথা দেওয়াল আর কাঠের বিম যেন পাহাড়ি গ্রামের ছোঁয়া এনে দিয়েছে। বিশাল জানলা দিয়ে চোখ মেলে তাকালে মনে হবে, ক্যাফের ভেতর থেকে যেন পাহাড় হাতছানি দিচ্ছে। ম্লান বাদামি, ধূসর আর অ্যাম্বার রঙে সাজানো পরিবেশে ঝুলছে দেশজ শিল্পকর্মে তৈরি ঝাড়বাতি। ফলে এখানে বসে চা-কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে মনে হবে, আপনি যেন প্রকৃতির সঙ্গেই আলাপ করছেন।

ক্যাফের মূল আকর্ষণ খাবার। কঙ্গনার ইচ্ছেতেই এখানে রাখা হয়েছে হিমাচলের ঐতিহ্যবাহী পদ। স্থানীয় সবজি, দুগ্ধজাত দ্রব্য, পাহাড়ি মশলার ব্যবহার। আধুনিক কুলিনারি টেকনিক ও পরিবেশনের ভঙ্গি একে দিয়েছে আলাদা মাত্রা। কঙ্গনার ভাষায়, “এটি আমার মায়ের রান্নাঘরের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি।”
তাঁর দাবি—এখানে খাবার কেবল স্বাদের জন্য নয়, প্রতিটি পদে লুকিয়ে থাকবে পাহাড়ি জীবনের গল্প।সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্যাফের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে কঙ্গনা এর আগে লিখেছিলেন— “এই সব পাহাড়ই আমার শরীরের অস্থি, এই নদী আমার শরীরের রক্তপ্রবাহ, এই বন জঙ্গল অরণ্য আমার চিন্তা আমার মনন, আর ওই আকাশের তারারা হল আমার স্বপ্ন”।

দ্য মাউন্টেন স্টোরির প্রসঙ্গে জানাতে গিয়ে আর একটি পোস্টে কঙ্গনা লিখেছিলেন, “ছোটবেলার একটা স্বপ্ন সত্যি হল, হিমালয়ের কোলে একটা ছোট্ট কাফে। দ্য মাউন্টেইন স্টোরি ইটজ আ লাভ স্টোরি”।

‘দ্য মাউন্টেন স্টোরি’-তে রয়েছে বাইরের খোলা আসনও। সেখান থেকে বসে বরফে ঢাকা শৃঙ্গ ও উপত্যকার মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যাবে। ভিতরের নকশায় ঐতিহ্যবাহী কাঠের কাজ ও আধুনিক নান্দনিকতার মিশেল দেখা যায়। পুরো জায়গাটিই তৈরি হয়েছে এমনভাবে, যেখানে খাবার, প্রকৃতি ও শিল্প একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়। হিমাচলে বিপর্যয়ের প্রহরে কঙ্গনার সেই রেস্তোরাঁতেই এখন কোনও ব্যবসা নেই। যা নিয়ে বড় দুঃখ অভিনেত্রীর।

দ্য মাউন্টেন স্টোরি