Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনের

Kamikaze Drone: কোটি টাকায় নয়, মাত্র ৫০০ ডলারের ড্রোনে যুদ্ধের নতুন অধ্যায় লিখছে ভারত

মাত্র ৫০০ ডলারের কামিকাজে ড্রোন বদলে দিচ্ছে ভারতের যুদ্ধনীতি। ট্যাঙ্কের মতো কোটি টাকার অস্ত্রের বিরুদ্ধে এই স্বনির্মিত ড্রোন হয়ে উঠেছে ভবিষ্যতের প্রধান হাতিয়ার।

Kamikaze Drone: কোটি টাকায় নয়, মাত্র ৫০০ ডলারের ড্রোনে যুদ্ধের নতুন অধ্যায় লিখছে ভারত

কামিকাজে ড্রোন।

শেষ আপডেট: 9 May 2025 14:47

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আধুনিক যুদ্ধনীতিকে আমূল বদলে দিচ্ছে ‘লয়টারিং মিউনিশন’ তথা কামিকাজে ড্রোন। ভারতীয় যুদ্ধের ইতিহাসে যেন নতুন অধ্যায় রচিত হচ্ছে আকাশজুড়ে। মাত্র ৫০০ ডলার দামের, স্বল্পমূল্যের অথচ উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন এই ড্রোনগুলো একদিকে যেমন নজরদারির কাজ করে, আবার একই সঙ্গে নিখুঁত নিশানায় আঘাতও হানতে পারে।

গত কয়েক বছর ধরেই ইউক্রেন থেকে গাজা—সর্বত্রই এই প্রযুক্তির প্রভাব স্পষ্ট। সেই যুদ্ধপাঠ থেকে শিক্ষা নিয়েই ভারতও ঝুঁকেছিল নিজের স্বনির্মিত ড্রোন ক্ষমতা গড়ে তুলতে। যার লক্ষ্য স্পষ্ট, পরবর্তী যুদ্ধপ্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকা। হলও তাই। চলমান এই ভারত-পাক সংঘাতে এই ড্রোনেই বাজিমাত করছে ভারত।

লয়টারিং মিউনিশন বা কামিকাজে ড্রোন এমন এক ধরনের অস্ত্র, যা আগে আকাশে ঘোরাফেরা করে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে, তারপর সুযোগ বুঝে নিখুঁত আঘাত হানে। এটি ইউএভি-র মতো নজরদারি করতে পারে, আবার মিসাইলের মতো আঘাতও করতে পারে। সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্র যেখানে একটি নির্দিষ্ট গতিপথ অনুসরণ করে, সেখানে কামিকাজে ড্রোন সঠিক মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করে সুনির্দিষ্ট আঘাত হানতে।

গ্লোবাল যুদ্ধক্ষেত্রে কামিকাজে

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ল্যানসেট-৩ ড্রোন ৪০ কিমি পরিসীমা ও ৪০ মিনিট উড়ান ক্ষমতা নিয়ে নিয়মিত ইউক্রেনীয় তোপখানাকে নিশানা করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেন ব্যবহার করেছে আমেরিকার সুইচব্লেড এবং নিজস্ব RAM II ড্রোন।

মধ্যপ্রাচ্যে ইজরায়েল ব্যবহার করেছে হ্যারপ নামক কামিকাজে ড্রোন, যা ২৩ কেজি বিস্ফোরক বহন করতে পারে। রাশিয়ার হাতে থাকা ইরানি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন আবার প্রমাণ করেছে, স্বল্পদামি ও প্রচুর পরিমাণে তৈরি ড্রোনও উন্নত এয়ার ডিফেন্সকে ছাপিয়ে যেতে পারে।

দক্ষিণ সেনার কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরজ সেঠ এক সেমিনারে বলেন, 'মাত্র ৫০০ ডলারের ড্রোন ১০ মিলিয়ন ডলারের ট্যাঙ্ক ধ্বংস করতে পারছে, এক কথায় অবিশ্বাস্য ২০,০০০:১ কস্ট রেশিও!'

তিনি আরও বলেন, 'এই কারণেই ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, কাইনেটিক ইন্টারসেপটর এবং ডিরেক্টেড-এনার্জি ওয়েপনের মতো শক্তিশালী কন্ট্রা-ড্রোন সিস্টেম গড়ে তোলা এখন আবশ্যিক।'

ভারতের ড্রোন প্রস্তুতি: আত্মনির্ভরতা ও উদ্ভাবনের পথে

ভারত ইতিমধ্যেই নিজস্ব কামিকাজে ড্রোন ফ্লিট গঠনে সক্রিয়। SkyStriker ড্রোন, যার পরিসীমা ৫০০ কিমি, বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে SEAD (Suppression of Enemy Air Defence) মিশনের জন্য। ২০২৪ সালে ভারত সেনাবাহিনীতে যুক্ত হয় Nagastra-1—একটি হালকা ট্যাকটিকাল ড্রোন, যার পরিসীমা ১৫ কিমি ও ওয়ারহেড ১ কেজি।

প্রাইভেট সংস্থা ZMotion Autonomous Systems ২০২২ সালে লাদাখে সফলভাবে ৩টি লয়টারিং মিউনিশন পরীক্ষা করে। খরচ ছিল আমদানিকৃত ড্রোনের তুলনায় ৪০% কম। টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস-এর ALS-50 নামের ড্রোন ইতিমধ্যেই সফল ভিটিওএল (VTOL) ট্রায়াল দিয়েছে।

ড্রোনের গুচ্ছ: ভবিষ্যতের নতুন কৌশল

একক ড্রোন নয়, আগামী দিনে যুদ্ধ নির্ধারণ করবে ড্রোনের গুচ্ছ। ২০২১ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনী ৭৫টি ড্রোন নিয়ে ৫০ কিমি দূরত্বে সম্মিলিত আঘাতের প্রদর্শনী করেছে। ২০২৩ সালে NewSpace Research & Technologies আরও উন্নত ১০০-ড্রোনের গুচ্ছ তৈরি করেছে।

এখন গবেষণা চলছে এআই-চালিত স্বশাসিত ড্রোন নিয়ে, যা শব্দতরঙ্গ বা অ্যাকোয়াস্টিক সেন্সরের মাধ্যমে শত্রু শনাক্ত করতে পারে, যা ইউক্রেন যুদ্ধেও দেখা গেছে। National Aerospace Laboratories তৈরি করছে ১৫০ কেজি ওজনের লয়টারিং মিউনিশন, যার পরিসীমা ৯০০ কিমি এবং উড়তে পারবে টানা ৬–৯ ঘণ্টা।

স্বল্প খরচের লড়াই: ভারতের প্রতিযোগিতা রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে

স্বনির্মিত ড্রোন ইজরায়েলি প্রযুক্তির চেয়ে সস্তা হলেও, রাশিয়া ও ইরানের তুলনায় খরচ এখনও বেশি। তাই এখন লক্ষ্য প্রযুক্তি ও উৎপাদন খরচে উদ্ভাবন আনা।

এই দিক থেকে আমেরিকাও দ্রুত এগোচ্ছে। Cummings Aerospace সম্প্রতি পরীক্ষামূলকভাবে চালিয়েছে Hellhound S3 নামের এক হাইস্পিড ড্রোন, যার গতি ৩৮৪ মাইল প্রতি ঘণ্টা এবং খরচ কমাতে ৩ডি প্রিন্টিং ও কমার্শিয়াল কম্পোনেন্ট ব্যবহার করেছে।

স্বনির্ভর ভারতে প্রতিরক্ষা শিল্পের অগ্রগতি

ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্প এখন আমদানি নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে ৬৫% সামরিক সরঞ্জাম নিজেরাই তৈরি করছে। ২০২৩-২৪ সালে রেকর্ড ১.২৭ লক্ষ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা উৎপাদন হয়েছে, যা দশ বছরে ১৭৪% বৃদ্ধি। রপ্তানিও বেড়ে হয়েছে ২১ হাজার ৮৩ কোটি টাকা; লক্ষ্য ২০২৯ সালের মধ্যে ৫০ হাজার কোটি টাকা।

সরকারের iDEX, SAMARTHYA, এবং SRIJAN স্কিমের মাধ্যমে ১৪,০০০-এর বেশি সামরিক উপাদান দেশীয়ভাবে তৈরি হচ্ছে, যেখানে স্টার্টআপ এবং MSME-রা মুখ্য ভূমিকা নিচ্ছে।

DRDO, টাটা ও ভারত ফোর্জের যৌথ উদ্যোগে তৈরি ATAGS (Advanced Towed Artillery Gun Systems) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের ক্যাবিনেট কমিটি। ৪০ কিমিরও বেশি পরিসীমার এই তোপ যুদ্ধক্ষেত্রে বিপুল ক্ষমতা এনে দেবে।

চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যতের দিশা

ভারতের ড্রোন নির্মাতা সংস্থাগুলোর চ্যালেঞ্জ এখন আরও সস্তা, কার্যকর ও উন্নত ড্রোন তৈরি করা। সেইসঙ্গে রয়েছে সীমান্ত উত্তেজনা, চিন-পাকিস্তানের সামরিক তৎপরতা, এবং নতুন প্রজন্মের যুদ্ধের নতুন প্রস্তুতিও।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল সেঠ স্পষ্টভাবেই বলেছেন, 'আমরা ম্যানড এয়ারক্রাফট থেকে আনম্যানড, প্রিসিশন মিউনিশন, লয়টারিং ড্রোন এবং হাইপারসনিক অস্ত্রের যুগে প্রবেশ করেছি। যুদ্ধ আর কেবল ‘এয়ার সুপিরিয়রিটি’ নির্ভর নয়, এখন প্রয়োজন ‘এয়ার ডিনায়াল’-এর ক্ষমতা।'

ফলে সব মিলিয়ে একথা বলা যায়, আকাশেই রচিত হচ্ছে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ। কামিকাজে ড্রোন, এআই, প্রযুক্তি—সব মিলিয়ে ভারত এখন শুধু ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে না, বরং সেই ভবিষ্যতকে নিজেই গড়ে তুলছে।


```