
শেষ আপডেট: 5 December 2023 08:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস প্রধান কমলনাথ মঙ্গলবার দিল্লি যাচ্ছেন। রাজ্যে নির্বাচনী বিপর্যয় নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। এখনও পর্যন্ত ঠিক আছে দুপুরে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের সঙ্গে বৈঠক করবেন মধ্যপ্রদেশের এই নেতা। তাঁকে দিল্লিতে তলব করা হয়েছে বলেই খবর। তাঁকে নিয়ে দলে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেওয়ায় ডেকে পাঠিয়েছেন খাড়্গে।
কংগ্রেস মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিসগড় এবং রাজস্থানে হেরেছে। এরমধ্যে লজ্জার হার হয়েছে কমলনাথের রাজ্যে। মধ্যপ্রদেশে চারবারের বিজেপি সরকার দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতা ধরে রেখেছে।
এতবড় নির্বাচনী বিপর্যয়ের পরও দায় নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ ছাড়ার ব্যাপারে মধ্যপ্রদেশের এই নেতা উচ্চবাচ্য করছেন না। সাধারণত, এমন ক্ষেত্রে প্রধান নেতা হারের দায় নিয়ে নিজে থেকে সরে যান। কংগ্রেস সেটাই প্রচলিত। রাজস্থান এবং ছত্তিসগড়ে মুখ্যমন্ত্রীরা কেউ প্রদেশ কংগ্রেসের মাথায় নেই। তাছাড়া দল তাঁদের মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী বলে ঘোষণাও করেনি। কিন্তু মধ্যপ্রদেশে ছিল ভিন্ন চিত্র। রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ একাই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেকে দলের মুখ করে নিয়েছিলেন।
কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের অসন্তোষের আরও এক কারণ হল ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলের প্রতি মধ্যপ্রদেশের এই নেতার মনোভাব। আসন সমঝোতা করতে চাওয়ায় তিনি সমাজবাদী পার্টির প্রধানকে অখিলেশ-ভখিলেশ বলে উপহাস করেন। ফিরিয়ে দেন নীতীশ কুমারের জেডিইউ-র সঙ্গে বোঝাপড়ার প্রস্তাব।
রাজ্যে কংগ্রেসের আর এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিং নানাভাবে চেষ্টা করেও এই দুই শরিক দলের সঙ্গে জোট করাতে পারেননি।
বিজেপির হিন্দুত্বের মোকাবিলায় কমলনাথের মন্দির ও হিন্দুয়ানির রাজনীতিও ব্যর্থ হয়েছে। দলীয় সূত্রের খবর, মধ্যপ্রদেশের এই নেতা একার সিদ্ধান্তে চলতে গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে দায়িত্বপ্রাপ্ত রণদীপ সিং সুরজেওয়ালার পরামর্শ পদে পদে উপেক্ষা করেছেন।
সব মিলিয়ে দলে তীব্র ঝড়ের মুখে পড়তে চলেছেন কমলনাথ, এমনটাই খবর। দলীয় সূত্রে খবর, মধ্যপ্রদেশের এই নেতা নিজে থেকে সরে গেলে ভাল। নয়তো দল তাঁকে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেবে।