Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
অ্যাপল ওয়াচ থেকে ওউরা রিং, কেন একসঙ্গে ৩টি ডিভাইস পরেন মুখ্যমন্ত্রী? নেপথ্যে রয়েছে বড় কারণপ্রসবের তাড়াহুড়োয় ভয়াবহ পরিণতি! আশাকর্মীর গাফিলতিতে দু'টুকরো হল শিশুর দেহ, মাথা রয়ে গেল গর্ভেইনীতীশ জমানার অবসান! বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা ‘সুশাসন বাবু’র, কালই কি উত্তরসূরির শপথমুম্বইয়ের কনসার্টে নিষিদ্ধ মাদকের ছড়াছড়ি! 'ওভারডোজে' মৃত্যু ২ এমবিএ পড়ুয়ার, গ্রেফতার ৫IPL 2026: ‘টাইগার জিন্টা হ্যায়!’ পাঞ্জাবকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ভাইরাল মিমের স্মৃতি উসকে দিলেন সলমন আইপ্যাকের ডিরেক্টর গ্রেফতারের পর এবার পরিবারের পালা! ইডির নজরে প্রতীক জৈনের স্ত্রী ও ভাই, তলব দিল্লিতেSakib Hussain: গয়না বেচে জুতো কিনেছিলেন মা, সেই ছেলেই আজ ৪ উইকেট ছিনিয়ে আইপিএলের নতুন তারকা হয় গ্রেফতার, নয় কৈফিয়ত! অমীমাংসিত পরোয়ানা নিয়ে কলকাতার থানাগুলোকে নির্দেশ লালবাজারের‘মমতা দুর্নীতিগ্রস্ত! বাংলায় শুধু সিন্ডিকেট চলে, কাজই বেকারের সংখ্যা বাড়ানো’, মালদহে রাহুল‘আমার মতো নয়’! সন্দেহের বশে ৬ বছরের ছেলেকে নদীতে ফেলে খুন, দেহ ভেসে উঠতেই ফাঁস বাবার কীর্তি

৩৭ বছর আগে ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল কিশোর, ৫৩ বছর বয়সে তিন বছরের জন্য হোমে পাঠাবে আদালত

সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ১৯৮৮ সালে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি তখন কিশোর ছিল। এখন ৫৩ বছর বয়সে তার সাজা পুনর্বিবেচনা করে পাঠানো হয় জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে।

৩৭ বছর আগে ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল কিশোর, ৫৩ বছর বয়সে তিন বছরের জন্য হোমে পাঠাবে আদালত

৫৩ বছরের ব্যক্তির সাজা দিল জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ড।

তিয়াষ মুখোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: 24 July 2025 12:11

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১১ বছরের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল ১৬ বছরের কিশোর। ১৯৮৮ সালের ১৭ নভেম্বর, রাজস্থানের আজমেরে সেই ঘটনার পরে কেটে গেছে ৩৭ বছর। আজ সেই দোষীর বয়স ৫৩ বছর। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে মামলা চলার পর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে হোমে পাঠানো হল ওই ব্যক্তিকে!

এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ওই অপরাধ সংঘটনের সময় অভিযুক্ত একজন কিশোর ছিল। ১৬ বছর বয়স ছিল তার। অর্থাৎ তখন সে নাবালক ছিলেন। সেই অনুযায়ী মামলাটি পাঠানো হয়েছে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের কাছে, যারা সর্বোচ্চ তিন বছরের শাস্তি দিতে পারে বিশেষ হোমে পাঠানোর মাধ্যমে।

জানা গেছে, এই মামলা চলছে বহুদিন ধরে। ট্রায়াল কোর্ট তাকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৪২ (অবৈধভাবে আটকে রাখা) এবং ৩৭৬ (ধর্ষণ) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। রাজস্থান হাইকোর্টও সেই রায় বহাল রাখে। এর পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি যখন ট্রায়াল কোর্ট এবং রাজস্থান হাইকোর্টের রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন, তখনই এই রায় আসে। 

সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় অভিযুক্তের পক্ষের আইনজীবী আদালতে জানান যে, অপরাধের সময় তার মক্কেল নাবালক ছিল। এই যুক্তির ভিত্তিতে শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহর বেঞ্চে।

সুপ্রিম কোর্ট তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, মামলার অভিযোগ শুধু নির্যাতিতার সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর করে নয়, তা অন্যান্য সাক্ষীদের বিবৃতি ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রমাণ দ্বারাও দৃঢ়ভাবে সমর্থিত। আদালত বলেছে, দোষ সাব্যস্ত করার প্রমাণগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এবং আগে দেওয়া রায়গুলোতেও কোনও ভুল ছিল না।

তবে আদালত স্বীকার করেছে, অপরাধ সংঘটনের সময় অভিযুক্ত কিশোর ছিলেন, এবং সে হিসেবে তাকে জুভেনাইল জাস্টিস আইনের আওতায় আনা উচিত। রাজ্য সরকারের আইনজীবী দাবি করেন, এই ৫৩ বছর বয়সে পৌঁছনোর পরে কিশোরত্বের দাবি তোলার মানে হয় না। আদালত অবশ্য জানায়, ভারতের বিচারব্যবস্থায় কিশোরত্বের দাবি যে কোনও পর্যায়ে, এমনকি চূড়ান্ত রায়ের পরও তোলা যেতে পারে এবং সেটিকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য আদালত।

ফলে, সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, ট্রায়াল কোর্ট ও হাইকোর্ট যে সাজা দিয়েছে, তা আর বহাল থাকতে পারে না। সেই সাজা বাতিল করে বিষয়টি পাঠানো হয়েছে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে। বোর্ড চাইলে ৫৩ বছর বয়সি ওই ব্যক্তিকে বিশেষ সংশোধনাগারে পাঠাতে পারে সর্বোচ্চ তিন বছরের জন্য।

এই ঘটনাটি একদিকে যেমন দীর্ঘ বিচার-প্রক্রিয়ার জটিলতা ও দেরির চিত্র তুলে ধরে, তেমনি আইনগত প্রক্রিয়ায় কিশোরের অধিকার সংরক্ষণের গুরুত্বও স্মরণ করিয়ে দেয়।


```