
শেষ আপডেট: 27 January 2024 12:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বনাম বিচারপতি সেন, দুই বিচারপতির নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিল শীর্ষ আদালত।
একই সঙ্গে মেডিকেলে ভর্তি দুর্নীতি মামলায় বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের জারি করা সিবিআই তদন্তের নির্দেশের ওপরও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
অন্যদিকে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে এদিনই পৃথক মামলা দায়ের করেছে রাজ্য।
বৃহস্পতিবার দুই বিচারপতির বেনজির সংঘাতের সাক্ষী থেকেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতি সৌমেন সেনের এক নির্দেশ নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভের জ্বালামুখ খুলে দিয়েছিলেন সিঙ্গল বেঞ্চের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এ ব্যাপারে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম ও সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন তিনি।
কলকাতা হাইকোর্টে এই বেনজির সংঘাত নিয়ে শুক্রবার স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলা দায়ের করে সুপ্রিম কোর্ট। শনিবার ছুটির দিনে এ ব্যাপারে পাঁচ জন বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে জরুরি ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়।
সুপ্রিম কোর্টের ওই পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে রয়েছেন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি সঞ্জীব খান্না, বিচারপতি বিআর গাওয়াই, বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি অনিরুদ্ধ বসু। দুপক্ষের সওয়াল জবাবের পর বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বনাম বিচারপতি সেন, দুই বিচারপতির নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিল শীর্ষ আদালত।
শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় যদি মনে করেন তিনি এই মামলার অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। একই সঙ্গে আদালতের পর্যবেক্ষণ, এভাবে ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ দিতে পারে না। সাধারণ ক্ষেত্রে বাড়ি ভাঙা বা ফাঁসির আসামীর ক্ষেত্রে এইধরনের মৌখিক নির্দেশ দেওয়া যায় বলেও জানায় আদালত।
মেডিকেলে ভর্তি দুর্নীতি মামলার নির্দেশকে ঘিরে সংঘাতে জড়িয়েছিলেন দুই বিচারপতি। ওই মামলায় সিঙ্গল বেঞ্চের তরফে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর অর্ডার কপি না দেখেই কীভাবে ডিভিশন বেঞ্চ স্থগিতাদেশ জারি করল তা নিয়ে এজলাসে বসেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশের বিরুদ্ধে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর নির্দেশে লিখেছিলেন, “বিচারপতি সেন খুব পরিষ্কার ভাবে এই রাজ্যের একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করছেন। তিনি এদিন আদালতে যা করেছেন তা কেবলই তাঁর ব্যক্তিগত স্বার্থে। এই রাজ্যে কিছু রাজনৈতিক দলকে বাঁচানোর জন্য তিনি এটা করেছেন। এটা পেশাগত অসদাচরণ।” বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় নির্দেশে এও বলেন, সেই কারণেই এই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের দেখা উচিত।
কলকাতা হাইকোর্টের একজন বিচারপতি উচ্চ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চের একজন বিচারপতির বিরুদ্ধে এভাবে রায় দেওয়ায় আন্দোলিত হয়ে উঠেছে বিচারব্যবস্থা। বস্তুত সে জন্যই সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে বিচার করে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইনজ্ঞদের মতে, যে বেনজির ঘটেছে তার পর বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা টিকিয়ে রাখতে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের তরফে এমন পদক্ষেপ অনিবার্যই ছিল।