
অমিত শাহ
শেষ আপডেট: 5 July 2024 14:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অমরনাথ যাত্রা শেষ হলেই জম্মু-কাশ্মীরে ভোট। খুব তাড়াতাড়ি এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত জম্মু-কাশ্মীরের বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে বিধানসভা ভোট নিয়েই আলোচনা হয়েছে। তিনি উপত্যকার বিজেপি নেতাদের ভোটের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। তাই মনে করা হচ্ছে, অমরনাথ যাত্রা শেষ হলেই ভূ-স্বর্গের ভোটের দামামা বাজিয়ে দেবে নির্বাচন কমিশন।
লোকসভা ভোটের সঙ্গেই জম্মু ও কাশ্মীরে বিধানসভা ভোট হতে পারে এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আদতে তেমন কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি নির্বাচন কমিশন। এদিকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরে বিধানসভা নির্বাচন করাতেই হবে। সেই প্রেক্ষিতে মনে করা হচ্ছে অমরনাথ যাত্রা শেষ হলেই আগস্ট মাসের শেষের দিকে হতে পারে এই ভোট।
২০১৪ সালের শেষবার বিধানসভা ভোট হয়েছিল অবিভক্ত জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যে। এরপর ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট সংবিধানের ৩৭০ নম্বর ধারা তুলে দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। ফলত জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা আর নেই। বর্তমানে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরকে।
জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার বিজেপি ও সঙ্ঘ পরিবারের বহু পুরনো দাবি ছিল। জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অন্যতম স্লোগানই ছিল, এক দেশে এক বিধান, এক নিশান ও এক প্রধানই থাকবে। পৃথক বিধি থাকতে পারে না উপত্যকায়। বহু সময় ধরে উঠতে থাকা সেই দাবি পূরণ হয়, ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট।
এই ধারা বাতিলের বিষয় গড়িয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, জম্মু ও কাশ্মীরকে যে বিশেষ অধিকার দেওয়া হয়েছিল, তা সাময়িক। কাশ্মীরের গণপরিষদ বাতিল হয়ে যাওয়ার পরেও রাষ্ট্রপতির ওই অনুচ্ছেদ বাতিল করার অধিকারও ছিল। ফলে কেন্দ্রীয় সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা কখনই অসাংবিধানিক বা অনৈতিক নয়। তবে জম্মু ও কাশ্মীরকে পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা দিতে কেন্দ্রকে নির্দেশও দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।