
সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 23 January 2025 16:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার বিকেলে মহারাষ্ট্রে ঘটে যায় একটি মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনা। ট্রেনে আগুন লেগেছে। এই শুনে ভয়ে রেল লাইনে ঝাঁপ দেন পুষ্পক এক্সপ্রেসের যাত্রীদের একাংশ। মুহূর্তেই উল্টো দিক থেকে সামনে চলে আসে কর্নাটক এক্সপ্রেস। মৃত্যু হয় ১৩ জনের। ঘটনার বেশ কয়েক ঘণ্টা পরও ঠিক কী হয়ে গেল তা বুঝে উঠে পারছেন না প্রত্যক্ষদর্শীরা। অনেকেই বলছেন, এক চা বিক্রেতার কথা থেকেই ছড়িয়ে পড়ল আতঙ্ক।
ঠিক কী হয়েছিল বুধবার?
রেল কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, ট্রেনে আগুন লেগেছে, কিছুর একটা ধোঁয়া দেখতে পাওয়ার পর এমনই খবর ছড়িয়ে পড়েছিল লখনউ থেকে মুম্বই যাওয়া ওই ট্রেনে। কেউ ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা না করেই কার্যত গুজবে কান দিয়ে লাইনে ঝাঁপ দেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই পিষে দেয় কর্নাটক এক্সপ্রেস। ঘটনা সামনে আসার পর প্রশ্ন উঠতে শুরু করে কেন মহেজি ও পাধার্ড স্টেশনের মাঝে হঠাৎ দাঁড়িয়েছিল ট্রেনটি। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই স্টেশন দুটির মাঝে যখন ট্রেন পৌঁছয় তখন কেউ বা কারা চেইন টেনে দাঁড় করানোর চেষ্টা করে। সিগন্যাল পেয়ে ট্রেন থামান চালক। তারপরই ঘটে যায় এই ঘটনা।
ট্রেনটি পরীক্ষা করে ও বাকি যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে রেল কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, ট্রেনে কোনওরকম স্ফুলিঙ্গ ছিল না। পুরোটাই গুজব। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, যেদিকে যাত্রীরা ঝাঁপ দিয়েছিলেন তার বিপরীত দিকে ঝাঁপ দিলে আরও ভয়াবহ ঘটনা হতে পারত। মৃতের সংখ্যাও বাড়ত লাফিয়ে।
এদিকে যে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁদের মধ্যে আট জনের পরিচয় জানা গেছে। আধার কার্ড দেখে দু'জনের পরিচয়ও জানতে পেরেছে পুলিশ। ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত। তাঁদের চিকিৎসা চলছে স্থানীয় হাসপাতালে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার পিছু ১.৫ লক্ষ টাকা, গুরুতর আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং সামান্য আহতদের জন্য ৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছেন। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশও নিহতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছেন এবং আহতদের চিকিৎসার সমস্ত খরচ সরকার বহন করবে বলে জানিয়েছেন।