
রাহুলকে চিঠি ইয়াসিন মালিকের স্ত্রীর
শেষ আপডেট: 7 November 2024 11:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্ট (ইয়াসিন)-এর প্রধান ইয়াসিন মালিকের মুক্তি চেয়ে দীর্ঘদিন আইনি পথে লড়াই চালাচ্ছেন তাঁর স্ত্রী মুশাল ইয়াসিন মালিক। তিনি এখন মনে করছেন ইয়াসিনের মুক্তির জন্য রাজনৈতিক তৎপরতা জরুরি। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে চিঠি লিখেছেন জম্মু-কাশ্মীরের নামজাদা মানবাধিকার কর্মী মুশাল।
বিরোধী দলনেতাকে তিনি লিখেছেন, জম্মু-কাশ্মীরে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমার স্বামী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। আপনি সংসদে আমার স্বামীর মুক্তির বিষয়টি উত্থাপন করুন। একদা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মানবাধিকার বিষয়ে উপদেষ্টা মুশাল ইয়াসিনের সঙ্গে বিয়ের পর জম্মু-কাশ্মীরে ধৃতদের মুক্তির দাবিতে লড়াই করে আসছেন। প্রসঙ্গত, দিল্লির তিহাড় জেলে বন্দি ইয়াসিন সম্প্রতি আদালতে পেশ করা হলফনামায় বলেছেন, 'আমি এখন গান্ধীবাদী। হিংসায় বিশ্বাস করি না। অহিংসাই আমার আরাধ্য।'
মালিক বহু বছর দিল্লির তিহাড় জেলে বন্দি। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ তাঁর বিরুদ্ধে জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য অর্থ সংগ্রহের অভিযোগে মামলা করেছিল। সেই মামলায় তাঁর যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। অবশ্য আগে থেকেই তিহাড়ে বন্দি ইয়াসিন। শ্রীনগরে বায়ুসেনার চার অফিসারকে হত্যার ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে আগেই জেল হয় তাঁর। এনআইএ তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিতে আদালতে জোর আইনি তৎপরতা চালিয়েও সফল হয়নি। নিম্ন আদালত ফাঁসির সাজা দিলেও হাই কোর্ট তা খারিজ করে যাবজ্জীবন কারাবাসের শাস্তি দিয়েছে।
ভারত সরকার সম্প্রতি ইয়াসিনের দলকে আরও পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এই সংক্রান্ত বিজ্ঞতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানায়, কেন জেকেএলএফ (ওয়াই)-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হল। ইয়াসিন মালিক সরকারি সিদ্ধান্তের জবাবে তাঁর আইনজীবী মারফত বলেন, আমি ও আমার সংগঠন হিংসায় বিশ্বাস করি না। আমরা গান্ধীর অংহিসার নীতিকে আদর্শ হিসাবে গ্রহণ করেছি। দলের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আর্জি জানান ইয়াসিন।
এবার তাঁর স্ত্রী উদ্যোগী হয়েছেন স্বামীর মুক্তি চেয়ে। জম্মু-কাশ্মীরে সদ্য অনুষ্ঠিত বিধানসভা ভোটের প্রচারে গিয়ে রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, উপত্যকায় শান্তি ফেরাতে আমি ও আমার দল যথাসাধ্য চেষ্টা করব। সেই প্রসঙ্গ টেনে ইয়াসিনের স্ত্রী বিরোধী দলনেতাকে লিখেছেন, সরকার বিনা কারণে আমার স্বামীক জেলে আটকে রেখেছে। আপনাদের উচিত সংসদে ইয়াসিনের মুক্তির বিষয়ে সরব হওয়া। সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করা।
জম্মু-কাশ্মীরে গত শতকের নয়ের দশক পর্যম্ত শক্তিশালী বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি ছিল জেকেএলএফ। বিচ্ছিন্নতাবাদী হলেও জেকেএলএফ দলগতভাবে কখনও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয়নি। যদিও ইয়াসিন মালিকের বিরুদ্ধে ভিন্ন পথ অনুসরণ করার অভিযোগ উঠেছে একাধিকবার। সেই সব দিনে নিজেকে সুভাষচন্দ্র বসুর অনুগামী বলে পরিচয় দেওয়া ইয়াসিনের অনুগামীদের বিরুদ্ধে হিংসায় যুক্ত হয়ে পড়ার অভিযোগ বারে বারে সামনে এসেছে। তাঁর বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ উঠতে থাকে। একটা সময় জেকেএলএফ ছেড়ে নিজের নামে দল গড়েন তিনি।
তুখোর বক্তা ইয়াসিন দীর্ঘদিন কাশ্মীরে প্রথমসারির দলগুলির সঙ্গে লড়াই করে রাজনীতিতে ভেসে ছিলেন। উপত্যকার যে নেতাদের গোটা দেশ চিনত, জানত, ইয়াসিন ছিলেন তাঁদের অন্যতম। এনআইএ তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আর্জি জানালেও আদালত যাবজ্জীবন সাজা দেয়। গুরুতর অসুস্থ ইয়াসিন নানাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন মুক্তি পেতে।