
শেষ আপডেট: 12 February 2024 14:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের একাধিক রাজ্যে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ রয়েছে। কেন্দ্রের একাধিক মন্ত্রিসভায় এক সময় উপ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। যদিও কেন্দ্র বা রাজ্য, কোনও সরকারেরই উপ মুখ্যমন্ত্রী/উপ প্রধানমন্ত্রী পদের কোনও সংস্থান নেই।
সোমবার একটি জনস্বার্থ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চ বলেছে, সংবিধানে না থাকলেও উপ মুখ্যমন্ত্রী বা উপ প্রধানমন্ত্রী পদ বেআইনি নয়। কোনও বিধায়ক বা সাংসদকে বিশেষ মর্যাদা দিতে এই পদ দেওয়া যেতেই পারে।
প্রসঙ্গত, স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম মন্ত্রিসভায় উপ প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল। বিশ্বনাথ প্রতাপ সিংহের মন্ত্রিসভায় উপ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন হরিয়ানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দেবী লাল। এই পদে লালকৃষ্ণ আডবাণী ছিলেন অটল বিহারী বাজপেয়ীর মন্ত্রিসভায়।
এই দুই পদ কখনও জোটের অঙ্ক, তো কখনও জাত-ধর্মের সমীকরণ অথবা দলীয় বিবাদ মোকাবিলায় দেওয়া হয়।
পশ্চিমবঙ্গে ১৯৬৭ এবং ১৯৬৯ সালে দুই যুক্তফ্রন্ট সরকারের উপ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জ্যোতি বসু। ওই সময় দেশের বহু রাজ্যে কংগ্রেস বিরোধী জোট ক্ষমতায় আসে। জোটের অঙ্কে অনেক নেতাই উপ মুখ্যমন্ত্রী হন। বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় কেউ উপ মুখ্যমন্ত্রী নন। তবে আগের সরকারে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে উপ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। সেটা জ্যোতি বসুর সরকারের শেষ কয়েক বছরের জন্য। বুদ্ধদেববাবুর মন্ত্রিসভায় কেউ এই পদে ছিলেন না।
হালে বিহারে বিজেপির সমর্থনে সরকার গড়েছেন নীতীশ কুমার। জোট অঙ্কে তাঁর মন্ত্রিসভায় বিজেপির দুজন উপ মুখ্যমন্ত্রী আছেন। একই অঙ্কে মহারাষ্ট্রে একনাথ শিণ্ডের মন্ত্রিসভায় উপ মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন বিজেপির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ ও এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ার।
আবার উত্তর প্রদেশে বিজেপির যোগী আদিত্যনাথের মন্ত্রিসভায় দলেরই দুই প্রবীণ নেতা উপ মুখ্যমন্ত্রী পদে আছেন।
প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ সোমবার বলেছে, জোট সরকার বা মন্ত্রিসভায় কোনও প্রবীণকে মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দিলেও তাতে অন্য মন্ত্রীদের গুরুত্ব কমে না। কমে না মুখ্যমন্ত্রীর গুরুত্বও।