1.webp)
রাজস্থানের টঙ্ক-সোয়াই মাধোপুরের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 23 April 2024 13:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রামনবমীর পর মঙ্গলবার হনুমান জয়ন্তী উপলক্ষেও কংগ্রেসকে গদাযুদ্ধে আহ্বান করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজস্থানের টঙ্ক-সোয়াই মাধোপুরে এদিন এক নির্বাচনী জনসভায় কংগ্রেস জমানাকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, কংগ্রেস যখন সরকারে ছিল, তখন হনুমান চালিশা শোনাও পাপ ছিল। এদেশে যখনই কোনও দুর্বল সরকার ক্ষমতায় এসেছে তখনই সিরিয়াল বম্ব ব্লাস্ট হয়েছে। আতঙ্কবাদীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়িয়েছে।
লোকসভা ভোটের আগে রামনবমীর মতোই হনুমান জয়ন্তীকে ঘাড়ে করে প্রচার-লঙ্কায় দাপিয়ে বেড়াতে শুরু করেছে গেরুয়াধারী। দেশের বিভিন্ন কোণায় এদিন পুজোপাঠ, শোভাযাত্রা চলছে। প্রায় প্রতিটি মন্দিরে মাইক বাজিয়ে চলছে হনুমান চালিশা, রামভক্তের ভজন ইত্যাদি। এমনকী বিজেপির নেতারাও তাঁদের প্রচারে জয় শ্রীরামের বদলে আজকের দিনের জন্য জয় বজরঙ্গবলী ধ্বনি তুলে ভাষণ শুরু করছেন।
ফলে হিন্দুত্ববাদীদের কাছে দিনটির মাহাত্ম্য ও তাকে অস্ত্র করেই রাজস্থানে ভোটপ্রচার মোদীর। এদিন সকালেই প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে এক্সবার্তায় হনুমান জয়ন্তীর শুভেচ্ছা-অভিনন্দন জানিয়েছেন। এবং একই সঙ্গে হনুমানের বন্দনা ও গুণকীর্তন করেছেন। তারপরেই রাজস্থানের মাটিতে দাঁড়িয়ে কংগ্রেসকে হনুমান চালিশা পড়া নিয়ে জোরাল আক্রমণ শানান।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবারই কংগ্রেস মোদীকেও মঙ্গলসূত্র মন্তব্যের জন্য শূলে বিঁধেছে। দলের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ এদিন সকালে এক এক্সবার্তায় প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের জবাব দিয়ে বলেছেন, দেশের ৪০ শতাংশ সম্পদ রয়েছে মাত্র ১ শতাংশ ভারতীয়র পকেটে। এ ব্যাপারে কী বলবেন মোদীজি? মাত্র গত ১০ বছরে দেশের ৪০ শতাংশ অর্থ ১ শতাংশ মানুষের ঘরে কী করে ঢুকলে এ ব্যাপারে কোনও সাড়াশব্দ করেন না তিনি। রমেশ আরও বলেছেন, যেখানে আনুমানিক ৬৪ শতাংশ গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স দেয় দেশের গরিব মানুষ, নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্তরা।
কংগ্রেসের দাবি, অধিকাংশ সরকারি সম্পদ এবং পরিকাঠামো বেচা হয়েছে একটি বা দুটি কোম্পানির কাছে। গত ১০ বছরে একচেটিয়া মূলধনের কারণেই জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে বলে অর্থনীতিবিদরাই বলেছেন। আজকের দিনে ২১ জন কোটি কোটিপতির কাছে দেশের ৭০ কোটি মানুষের মিলিত সম্পদের অতিরিক্ত অর্থ রয়েছে।
মোদী অবশ্য অর্থনীতি ছেড়ে ধর্মীয় মেরুকরণকেই বেছে নেন এদিনের নির্বাচনী জনসভায়। হনুমান জয়ন্তীর কথা মাথায় রেখে আগাগোড়াই কংগ্রেসের মুসলিম তোষণের কথা তুলে ধরেন। বলেন, এদেশে ধর্মের নামে সংরক্ষণ চালু করতে দেব না। কংগ্রেস শুধুমাত্র মুসলিমদের জন্য সংরক্ষণ চায়। কংগ্রেসের জমানায় তো হনুমান চালিশা পড়াই গুনাহ্ ছিল।
মোদী আরও বলেন, রাজস্থানে কংগ্রেস রামনবমীর উৎসব, শোভাযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। এবারেই প্রথম রাজস্থানে রামনবমীর শোভাযাত্রা বেরিয়েছিল। এটা সেই রাজ্য যেখানকার মানুষ রামনাম জপ করেন, সেখানেই কংগ্রেস রামনবমী নিষিদ্ধ করে রেখেছিল। শুধু রাজস্থানেই নয় কর্নাটকের কংগ্রেস সরকারের কথা তুলে ধরে মোদী বলেন, সেখানেও তো হনুমান চালিশা শুনলে মারধর করা হয়।
মোদী বলেন, এখন আপনারা শান্তিতে-ভক্তিভরে হনুমান চালিশা পাঠ করতে পারেন। রামনবমী পালন করতে পারেন। এটাই বিজেপির গ্যারান্টি। শেষে রাজস্থানেও ডাবল ইঞ্জিন সরকারের আর্জি জানিয়ে বিজেপির তৃতীয়বারের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী বলেন, ২৫টির মধ্যে ২৫টি আসনই আমাদের দিন।