
আয়াতুল্লা খামেইনি।
শেষ আপডেট: 4 October 2024 16:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লেবাননি হিজবুল্লা গোষ্ঠীর প্রধান হাসান নাসরাল্লাকে খতম করার পর ইজরায়েলে বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণকে জনসেবা বললেন ইরানের শীর্ষ শিয়া ধর্মনেতা আয়াতুল্লা খামেইনি। একইসঙ্গে হামাস ও হিজবুল্লার উপর হানাদারির জবাবে নিকেশ করে দেওয়ার হুমকি দিলেন ইহুদি দেশকে। তাঁর কথায়, ইজরায়েল আর বেশিদিন টিকবে না। প্রসঙ্গত, পাঁচ বছর পর শুক্রবারই প্রথম তেহরানে প্রকাশ্য নামাজে অংশ নিয়ে জনসভার মতো হাজার হাজার মানুষের ভিড়ের সামনে ভাষণ দিলেন খামেইনি।
এদিন স্পষ্টভাষায় শিয়া ধর্মনেতা ইজরায়েলের বিরুদ্ধে প্যালেস্তিনীয় এবং লেবাননি আন্দোলনকে সমর্থন করেন। তাঁর ভাষণ শুনবেন বলে মসজিদে হাজার হাজার মানুষ এদিন জড়ো হয়েছিলেন। একপাশে একটি অত্যাধুনিক বন্দুক নিয়ে দাঁড়ানো খামেইনি জোরাল কণ্ঠে বলেন, হামাস এবং হিজবুল্লার বিরুদ্ধে ইজরায়েলকে কিছুতেই জিততে দেব না। জনতার মধ্য থেকে চিৎকার শুরু হয়, আমরা তোমাদের সঙ্গে আছি। মসজিদের খোলা প্রাঙ্গনে সেই শব্দ প্রতিধ্বনি হতে থাকে কিছুক্ষণ।
খামেইনিকে হত্যা করার জন্য যখন ইজরায়েলের চর বাহিনী মোসাদ উঠেপড়ে লেগেছে, তখন খোলা জায়গায় প্রায় পাঁচবছর পর প্রাণের তোয়াক্কা না করে তাঁর এই ভাষণ নতুন করে উদ্দীপনা জোগাচ্ছে জেহাদিদের। ভাষণে হিজবুল্লা প্রধান হাসান নাসরাল্লার প্রশংসা করেন খামেইনি। বলেন, হাসান নাসরাল্লা আজ আমাদের মধ্যে নেই। কিন্তু তাঁর আত্মা এবং লড়াইয়ের পথ চিরকাল আমাদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
খামেইনি বলেন, ইহুদি বিরোধী যুদ্ধে নাসরাল্লা সবসময় নিশান উঁচুতে তুলে ধরে রেখেছিলেন। তাঁর শহিদ হওয়া এই বোধকে আরও ছড়িয়ে দেবে। নাসরাল্লার আত্মত্যাগ এখানেই শেষ হয়ে যায়নি। আমরা শত্রুর বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়াব, রুখে দাঁড়াব, আল্লা আমাদের সঙ্গে আছে। হিজবুল্লা শিয়া গোষ্ঠীর হলেও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে খামেইনি সমস্ত মুসলিম দুনিয়াকে এক হওয়ার ডাক দেন এদিন।
আয়াতুল্লা আরও বলেন, সেদিন ইজরায়েলের উপর ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ ঠিক কাজ ছিল। প্যালেস্তাইন এবং লেবাননের উপর ইজরায়েলি দখলদারির বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে কোনও আন্তর্জাতিক আইন আপত্তি জানাতে পারে না। ইজরায়েলকে আমেরিকার হাতের খেলনা বলে বর্ণনা করে বলেন এই অঞ্চলের জমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের উপর দখল নিতে চাইছে ওরা।