
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 25 November 2024 10:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার উত্তরপ্রদেশের সম্ভল এলাকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মৃত্যু হয় চার জনের। জামা মসজিদের সমীক্ষার কাজ চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে। জখম বহু পুলিশ কর্মী। ঘটনার পরই থমেথমে এলাকা। বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা। বন্ধ স্কুলও।
শাহি জামা মসজিদের জায়গাতেই আগে ছিল মন্দির। ১৯ নভেম্বর কেলা দেবী মন্দির কমিটির তরফে চনদৌসির একটি আদালতে মামলা রুজু করা হয়। মামলাকারীদের দাবি, সম্ভলের শাহি জামা মসদিজ আসলে শ্রী হরিনাথ মন্দির। যা সম্রাট বাবরের শাসনকালে, ১৫২৯ সালে মসজিদে রূপান্তরিত করা হয়। এই মামলার ভিত্তিতেই মসজিদের ভিডিওগ্রাফি সমীক্ষার নির্দেশ দেন বিচারক।
মঙ্গলবার অন্য একটি দল সমীক্ষাটি করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ে। রবিবার ফের নতুন করে সমীক্ষা শুরু হয়। সকাল ৭টা৩০ নাগাদ এলাকায় উপস্থিত হয় সমীক্ষার দায়িত্বে থাকা দল। সেখানে ছিলেন জেলাশাসক রাজেন্দ্র পানসিয়া, পুলিশ সুপার কৃষ্ণ বিষ্ণোই, মহকুমাশাসক বন্দনা মিশ্রা, সার্কেল অফিসার অনুজ চৌধুরি এবং তহসিলদার রবি সোনকার-সহ অন্যান্যরা।
সমীক্ষা চলাকালীন যাতে কোনও অশান্তি না ছড়ায়, তা নিশ্চিত করতে পুলিশের বিরাট বাহিনী এবং ব়্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের সদস্যদের আগে থেকেই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও সমীক্ষা শুরু হতেই এলাকা অশান্ত হয়ে ওঠে। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়তে থাকে জনতার একাংশ। হামলাকারীদের কেউ কেউ গুলিও চালায় বলে অভিযোগ উঠছে। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় পুলিশের গাড়িতে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাল্টা লাঠি চার্জ করে পুলিশ। পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে মৃত্যু হয় চারজনের। জখম কমপক্ষে ৩০ জন পুলিশ কর্মী। পরিস্থিতি সামাল দিতে এরপর এলাকায় আসে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। আটক করা হয় ২১ জনকে। ঘটনাস্থলে পৌঁছন মোরাদাবাদের ডিআইজি। এরপর ফের শুরু হয় সমীক্ষা। আবারও পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে শুরু করে। ফের লাঠিচার্জ করতে শুরু করেন আধিকারিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। জখম কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।