ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 12 February 2025 15:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৩ বছরের বেশি সময় পেরলেও শিনা বোরা হত্যা মামলার এখনও কিনারা হয়নি। মামলার মূল অভিযুক্ত ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায় বিদেশ যেতে চাওয়ার অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। বুধবার সেই আবেদন খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত। পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হল এই মুহুর্তে কোন ওভাবেই দেশের বাইরে পা রাখতে পারবেন না অভিযুক্ত প্রাক্তন মিডিয়া এক্সিকিউটিভ। পাশাপাশি হত্যা মামলার দ্রুত বিচার চেয়ে ট্রায়াল কোর্টকে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
বিদেশযাত্রার জন্য মুম্বইয়ের বিশেষ আদালত থেকে অনুমতি পান ইন্দ্রাণী। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্ট যায় সিবিআই। গত ২৭ সেপ্টেম্বর হাই কোর্টের রায় যায় সিবিআইয়ের পক্ষে। এরপরই নিম্ন আদালতের নির্দেশ খারিজ করে দেয় আদালত। এরপর হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে পুনরায় সুপ্রিম কোর্টে যান ইন্দ্রাণী।
বুধবার বিচারপতি এমএম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি রাজেশ বিন্দালের বেঞ্চ ট্রায়াল কোর্টকে এক বছরের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও পাল্টা সিবিআইয়ের আইনজীবী বলেন, এটি একটি সংবেদনশীল বিষয়। ইতিমধ্যে ৯৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এরপরই ইন্দ্রাণীর আইনজীবীকে বিচারপতি প্রশ্ন করেন, বিদেশে গেলে ফিরে আসবেন এমন গ্যারান্টি কে দিচ্ছে? মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দেশ ছেড়ে কোথাও যাওয়া যাবে না।
যদিও ইন্দ্রানীর আইনজীবী জানিয়েছেন, শীর্ষ আদালত তাঁর মক্কেলকে জামিন দিয়েছে এবং এই মামলায় এখনও ৯২ জন সাক্ষীর জেরা বাকি রয়েছে। পুরো বিচার শেষ হতে অনেক সময় লাগতে পারে।
২০১২ সালে শিনা বোরা হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে সিবিআই। নিজের মেয়েকে খুনের অভিযোগে ২০১৫ সালে গ্রেফতার হন ইন্দ্রাণী। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, ২০১২ সালের এপ্রিলে প্রাক্তন স্বামী এবং গাড়ি চালকের সঙ্গে প্ল্যান করে শিনাকে খুন করেছেন তিনি। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৫ সালে গ্রেফতার হন ইন্দ্রাণী। যদিও ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইন্দ্রাণী। প্রায় সাত বছর জেলে থাকার পর ২০২২ সালের জামিন পান তিনি।
গত ডিসেম্বরে মহারাষ্ট্রের এক বিশেষ আদালতে বিদেশ যাত্রার আবেদন জানান শিনা বোরা হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত। গত ১৯ জুলাই তাতে অনুমতি দেয় আদালত। স্পেন এবং ব্রিটেন মিলিয়ে তিন মাসের মধ্যে ১০ দিনের বিদেশযাত্রা সম্পন্ন করার অনুমতি পান তিনি। তবে সিবিআই বিরোধীতা করলে মামলা সুপ্রিম কোর্টে গড়ায়।
শিনা বোরা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে আসে ইন্দ্রাণীর গাড়িচালক শ্যামবর রাই গ্রেফতার হওয়ার পর। পুলিশের কাছে তিনি জানিয়েছিলেন, শিনাকে শ্বাসরোধ করে খুন করেছেন ইন্দ্রাণী।