সরকার ইতিমধ্যেই অন্যান্য এয়ারলাইনকে এই স্লটের জন্য আবেদন করতে বলেছে। কেন্দ্রের মতে, এতে ইন্ডিগোর নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, কারণ স্লটগুলি এমন রুটে কমানো হয়েছে যেখানে সংস্থাটি অতিরিক্ত ফ্লাইট চালাত।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 24 January 2026 16:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিসেম্বরের একটানা বিপর্যয় কাটিয়ে স্বাভাবিকের পথে দেশের সবচেয়ে বড় এয়ারলাইন ইন্ডিগো। তবে গত মাসের ব্যাপক বিশৃঙ্খলার (IndiGo December flight chaos) কারণ খুঁজতে এখনও অভ্যন্তরীণ তদন্ত চালাচ্ছে সংস্থা। ভারতের বেসামরিক বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থার (Directorate General of Civil Aviation) নির্দেশে দোষীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা পরে ঠিক হবে বলে সংস্থার সূত্র জানিয়েছে। তবে ঘটনার তদন্তের পর ডিজিসিএ ইতিমধ্যেই একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে কোনও ভারতীয় এয়ারলাইনের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় শাস্তি।
ডিসেম্বরে কী হয়েছিল?
গত বছর ৩ থেকে ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ইন্ডিগো দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ২ হাজার ৫০৭টি বিমান বাতিল করে এবং ১ হাজার ৮৫২টি বিমান দেরিতে ছাড়ে। প্রায় তিন লাখ যাত্রী এতে ভোগান্তির শিকার হন। তদন্তে দেখা যায়, পাইলটদের নতুন Flight Duty Time Limitation (FDTL) নিয়ম চালুর জন্য সংস্থার প্রস্তুতি ছিল অত্যন্ত অপর্যাপ্ত। এর জেরেই পরিষেবা বিঘ্নিত হয়েছিল।
DGCA–র কঠোর পদক্ষেপ
তদন্তের পর ডিজিসিএ ইন্ডিগোর শীতকালীন পরিষেবা (IndiGo Winter Schedule) ১০ শতাংশ কমিয়ে দেয়, যা কার্যকর থাকবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এর ফলে এয়ারলাইনকে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ৭১৭টি স্লট খালি করতে হয় (IndiGo slot cut)। দিল্লি, মুম্বই, চেন্নাই, কলকাতা, বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদ- এই ছ’টি ব্যস্ত শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর থেকে সর্বোচ্চ স্লট ছাড়তে হয়েছে। জানুয়ারি ও মার্চে ৩৬১টি করে এবং ফেব্রুয়ারিতে ৪৩টি স্লট ছাড়তে হয়েছে।
সরকার ইতিমধ্যেই অন্যান্য এয়ারলাইনকে (Airlines) এই স্লটের জন্য আবেদন করতে বলেছে। কেন্দ্রের মতে, এতে ইন্ডিগোর নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, কারণ স্লটগুলি এমন রুটে কমানো হয়েছে যেখানে সংস্থাটি অতিরিক্ত ফ্লাইট চালাত। এছাড়া DGCA বিমান সংস্থাকে ২২.২০ কোটি টাকা জরিমানা করেছে এবং সিইও পিটার এলবার্স-সহ তিনজন সিনিয়র আধিকারিককে সতর্ক করেছে।
ইন্ডিগোর নেটওয়ার্কে কী প্রভাব পড়েছে?
ইন্ডিগো সাধারণত প্রতিদিনে ২ হাজার ২০০-র বেশি ফ্লাইট চালায়। শীতকালীন শিডিউলে অনুমতি ছিল প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ১৪৪টি ফ্লাইটের। ১০ শতাংশ কাটছাঁটের পর এটি কমে প্রতিদিনে প্রায় ১ হাজার ৯৩০টি ফ্লাইটে দাঁড়িয়েছে। তুলনায়, গ্রীষ্মকালে সংস্থাটি প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ২২টি ফ্লাইট চালাত।
এখন পরিস্থিতি কেমন?
ডিজিসিএ জানিয়েছে, নিয়মিত নজরদারি ও সংশোধনমূলক পদক্ষেপে ইন্ডিগোর (IndiGo) অবস্থা এখন স্থিতিশীল। সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় সংখ্যার তুলনায় এখন আরও বেশি পাইলট রয়েছে। ২ হাজার ২৮০-র জায়গায় ২ হাজার ৪০০ জন পাইলট-ইন-কমান্ড (PIC) রয়েছে এবং ২ হাজার ৫০ জনের জায়গায় বেড়ে ২ হাজার ২৪০ জন ফার্স্ট অফিসার রয়েছে। গত ১৯ জানুয়ারির রিভিউ মিটিংয়ে ইন্ডিগো (IndiGo) জানিয়েছে, ১০ ফেব্রুয়ারির পরের কার্যক্রম চালাতে পাইলটের কোনও ঘাটতি থাকবে না।
সংশোধনের পথে ইন্ডিগো
DGCA আরও নির্দেশ দিয়েছে, ইন্ডিগোকে ৫০ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি জমা রাখতে হবে, যা ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়া হবে- যতক্ষণ না সংস্থা প্রমাণ করে যে নেতৃত্ব, ম্যানপাওয়ার, ক্লান্তি-ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল অপারেশন এবং বোর্ড লেভেল তদারকিতে বড় পরিবর্তন এসেছে।