
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 21 January 2025 13:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোয়ার পর্যটন দুরবস্থা ও বেড়াতে গিয়ে অপদস্থ হওয়া নিয়ে প্রায় মাস ছয়েকের বেশি সময় ধরেই নানান অভিযোগ সামনে আসছে। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় বিখ্যাতরা এবং সাধারণ পর্যটকরা তাঁদের বিরক্তি পোস্ট করে চলেছেন। গোয়ার শুধু সেই রাজ্যের নয়, দেশের অন্যতম পর্যটন-চুম্বক। যার আকর্ষণে লক্ষ লক্ষ বিদেশি আসেন সুন্দরী গোয়ার সৈকত সৌন্দর্যে ভাগ বসাতে। সেই গোয়ার পর্যটন শিল্প এখন পিছনের দিকে হাঁটছে।
বম্বে শেভিং কোম্পানির সিইও শান্তনু দেশপাণ্ডে লিঙ্কডিন পোস্টে যাচ্ছেতাই ভাবে নিন্দা করায়, ফের একবার পর্যটন দুনিয়ার মানচিত্রে হোঁচট খেল গোয়ার অতিথি বাৎসল্য। শান্তনু লিখেছেন, গোয়া পর্যটনের খুব দ্রুত এবং মারাত্মক পতন ঘটে চলেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বছরের পর বছরের পরিবর্তে ঘণ্টায় ঘণ্টায় নিন্দিত কটু কথা উঠে আসছে। একসময়ের সদা ব্যস্ত, হাসিখুশি, আমোদপ্রমোদে ভরপুর পানশালাগুলি শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছে। হোম স্টের কুঁড়েগুলি নির্জন হয়ে পড়ে রয়েছে। সৈকত প্রমোদের অনুষ্ঠানে লোক আসে না, লিখেছেন শান্তনু দেশপাণ্ডে।
এর কারণ হিসেবে দেশপাণ্ডের মত, গোয়ায় যেসব বিনিয়োগকারী অতিরিক্ত মুনাফার দিকে চেয়ে হলিডে হোম কিনেছিলেন, তাঁরা এখন নিজেরাই আফশোস করছেন। তাঁরা এখন কী বলছেন, আমরা খুব খুশি যে, একদা পর্যটকের চিৎকার-চেঁচামেচিতে ভরা গোয়া এখন শান্ত, নিরিবিলি জায়গা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তাঁদের মনের কথা কী! তাঁরা বলছেন, ছিঃ আমাদের সব টাকা জলে গেল। আমি নিজেরও গোয়ায় যাওয়ার ইচ্ছে হচ্ছে না।
কিছুকাল ধরেই গোয়ার পর্যটন শিল্প ধুঁকছে। তার প্রধান কারণ এখানে বেড়াতে এসে পর্যটকদের পদে পদে অপদস্থ-হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষত অন্য কোনও পরিবহণের বিশেষ সুবিধা না থাকায় শহরের ট্যাক্সিওয়ালাদের একচ্ছত্র দাপট। যার ফলে ভুগছে হোটেলগুলি এবং বিমান খরচ। উদ্যোগপতি রামানুজ মুখোপাধ্যায়ের দাবি, বিদেশি পর্যটকরা গোয়াকে পরিত্যাগ করছেন। তাঁরা এখন সৈকত পর্যটনের জন্য শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের দিকে ঝুঁকছেন।
উল্লেখ্য, এই গত শনিবারই উত্তর গোয়ায় প্যারাগ্লাইডিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় এক পর্যটক ও প্যারাগ্লাইডিং ইনস্ট্রাকটরের। মৃত পর্যটকের নাম শিবানী দাবলে (২৭) ও ইনস্ট্রাকটরের নাম সুমল নেপালি (২৬)। শিবানী পুনের বাসিন্দা ছিলেন ও সুমল নেপালের। পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধভাবে অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস প্যারাগ্লাইডিং করাচ্ছিল একটি সংস্থা। বিকেল ৫টা নাগাদ গোয়ার কেরি গ্রামের কাছে পাহাড়ের খাদে পড়ে দুজনেরই মৃত্যু হয়।
এই ঘটনার পরপরই গোয়ায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্নের মুখে সরকার। স্থানীয়দের কথায়, সরকারি আধিকারিক ও পুলিশের চোখের সামনেই অবৈধভাবে এই প্যারাগ্লাইডিং চলছে দিনের পর দিন ধরে। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় পর্যটকের মৃত্যু ভুল বার্তা পাঠাচ্ছে বিদেশি পর্যটকদের কাছে। গত কয়েক বছর ধরেই হরমল ও কেরি সৈকতের মালভূমি এলাকায় এই ব্যবসা চলছে। উপকূল পুলিশকে বারবার বলা সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অবিলম্বে এই ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর চারেক ধরে রোজ অন্তত ৪০ জন পর্যটক এখানের প্যারাগ্লাইডিং করতে আসেন। খরচ পড়ে প্রায় প্রতি ১০ মিনিটের জন্য চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। এর আগেও অনেকেই কমবেশি জখম হয়েছেন। কিন্তু তাতেও সংশ্লিষ্ট পর্যটন দফতরের চোখ খোলেনি। সব মিলিয়ে পর্যটনের স্বর্ণবেলাতট গোয়ার আকর্ষণ দিনদিন দেশী-বিদেশি মানুষের কাছে কমছে। কিন্তু, পরিসংখ্যান যাই বলুক নতুন বিয়ের পর হানিমুনের অন্যতম আকর্ষণ এখনও গোয়া। গোয়ার তটে একবার যিনি ঢেউয়ের তালে গা ভাসিয়েছেন তাঁরা কেউই ভুলতে পারবেন এর অপার সৌন্দর্যের কথা। যেমন বাঙালি পর্যটক সুমন ঘোষ। ২০০৪ সালের পর ২০ বছর বাদে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে গোয়ায় গিয়েছিলেন সুমন।
তিনি জানান, ২০ বছর কেটে গেলেও গোয়া এখনও অপূর্ব। ব্যক্তিগত খরচ অনেক বেড়েছে। তাছাড়া সব কিছুই সেই আগের মতোই রয়েছে। অবশ্যই গোয়া এখনও সব বয়সের, সব লিঙ্গের মানুষের কাছে নিরাপদ পর্যটনস্থল।