Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
নির্বাচকদের শর্টলিস্টে বৈভব! আয়ারল্যান্ড সফরে যাওয়ার জোর সম্ভাবনা, ভাঙতে পারেন সচিনের রেকর্ডIPL 2026: ‘কাছের অনেককে বলেছিলাম, বৈভবকে প্রথম বলে আউট করব!’ কথা দিয়ে কথা রাখলেন প্রফুল্লI PAC-Vinesh Chandel: ভোর পর্যন্ত আদালতে শুনানি, ১০ দিনের ইডি হেফাজতে আইপ্যাক ডিরেক্টর ভিনেশ'নিষিদ্ধ' ভারতীয় গানে প্রয়াত আশা ভোঁসলেকে শেষ শ্রদ্ধা! পাক চ্যানেলকে শোকজ, সমালোচনা দেশের ভিতরেই হরমুজ মার্কিন নৌ অবরোধে কোণঠাসা ইরান! তেল রফতানি প্রায় থমকে, দিনে ক্ষতি ৪৩৫ মিলিয়ন ডলারIPL 2026: আইপিএল অভিষেকে সেরা বোলিং পারফরম্যান্স! কে এই সাকিব হুসেন? ৪৯ লাখের টিকিট থাকা সত্ত্বেও বোর্ডিং বাতিল! বিমান সংস্থার সিইও-র বিরুদ্ধে FIR-এর নির্দেশ আদালতেরশ্রমিকদের বিক্ষোভে অশান্ত নয়ডা! পাক-যোগে ষড়যন্ত্র? তদন্তে পুলিশ, ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩০০ নিজেকে ‘যিশু’ সাজিয়ে পোস্ট! তীব্র বিতর্কের মুখে ছবি মুছলেন ট্রাম্প, সাফাই দিয়ে কী বললেন?IPL 2026: পয়লা ওভারেই ৩ উইকেট, স্বপ্নের আইপিএল অভিষেক! কে এই প্রফুল্ল হিঙ্গে?

দেশে প্রথম ক্যানসার-মুক্ত দিল্লির ডাক্তার, ভারতের ‘কার টি সেল থেরাপি’ সাড়া ফেলল বিশ্বে

ভারতীয় বিজ্ঞানীদের যুগান্তকারী আবিষ্কার সাড়া ফেলে দিল বিশ্বে।

দেশে প্রথম ক্যানসার-মুক্ত দিল্লির ডাক্তার, ভারতের ‘কার টি সেল থেরাপি’ সাড়া ফেলল বিশ্বে

দেশে প্রথম কার-টি সেল থেরাপিতে রক্তের ক্যানসার সারিয়েছেন চিকিৎসক

শেষ আপডেট: 12 February 2024 19:49

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্যানসার সারছে?

ভারতীয় বিজ্ঞানীদের যুগান্তকারী আবিষ্কার সাড়া ফেলে দিল বিশ্বে।

রক্তের ক্যানসার (Blood Cancer) সারিয়ে সুস্থ হয়েছেন দিল্লির গ্যাস্ট্রোএন্ট্রোলজিস্ট ডা. (কর্নেল) ভিকে গুপ্তা। কার টি সেল থেরাপি চিকিৎসা পদ্ধতিতে দেশে প্রথম ক্যানসার-মুক্ত হলেন কোনও রোগী।

ক্যানসার কোষ চিহ্নিত করে তাকে ছেঁটে ফেলতে ক্রিসপার জিন এডিটিং পদ্ধতি নিয়ে বিশ্বজুড়েই গবেষণা চলছে। ক্রিসপার জিন এডিটিং থেরাপি নিয়ে গবেষণা করে গত বছর নোবেলও পেয়েছেন দুই বিজ্ঞানী। কিন্তু দেশের পদ্ধতিতে কার-টি সেল থেরাপি (CAR-T Cell Therapy) ক্যানসার মুক্তির নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে বলে দাবি করেছেন ভারতীয় বিজ্ঞানী-চিকিৎসকদের টিম। ডা. অলকা দ্বিবেদীর নেতৃত্বে এই টিম এমন এক থেরাপির প্রয়োগ করেছে যা রক্তের ক্যানসার সারাতে পারে বলে দাবি। গত বছর সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (CDSCO) ক্যানসারের চিকিৎসায় কার-টি সেল থেরাপি প্রয়োগের অনুমোদন দিয়েছে। এই পদ্ধদিতেই রক্তের ক্যানসার সেরেছে দিল্লির চিকিৎসকের। টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে তাঁর এই থেরাপি নিতে খরচ পড়েছে ৪২ লক্ষ টাকা।

কার-টি সেল থেরাপি কী?

চিমেরিক অ্যান্টিজেন রিসেপ্টর (CAR) টি-সেল থেরাপি হল এক ধরনের ইমিউনোথেরাপি যা লিম্ফোমা কোষগুলিকে নষ্ট করে দেয়। বি-সেল লিম্ফোমা এবং বি-অ্যাকিউট লিম্ফোব্লাস্টিক লিউকেমিয়ার চিকিৎসা হয় ইমিউনোথেরাপির এই বিশেষ পদ্ধতিতে।

ক্যানসার নিরাময়ে অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপির ওপর বেশি ভরসা রাখেন গবেষকরা। তবে ইদানীং উন্নত পদ্ধতিতে ইমিউনোথেরাপিতেও মারণ রোগের মোকাবিলা করা হচ্ছে। ইমিউনোথেরাপি মানেই হল শরীরের ইমিউন কোষকে সক্রিয় করে রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উপযোগী করে তোলা। তার জন্য বাইরে থেকে নানা রকম ইমিউন বুস্টার বা ইনহিবিটর প্রয়োগ করেন ডাক্তাররা। এই ইনহিবিটর শরীরের বি-কোষ ও ঘাতক টি-কোষকে সক্রিয় করে তোলে।

ইমিউনোথেরাপিতে শরীরে ঘাতক টি-কোষ বা সাইটোটক্সিক টি-লিম্ফোসাইট কোষ সক্রিয় হয়ে ওঠে। কার-টি সেল থেরাপিতে শরীর থেকে ঘাতক টি-কোষ সংগ্রহ করে তাকে বাইরে থেকে শক্তিশালী করে তোলা হয়। অ্যাফেরোসিস পদ্ধতিতে রক্ত থেকে টি-কোষের একটা অংশ বের করে নেওয়া হয়। তারপর বিশেষ প্রক্রিয়ায় শরীরের নিজস্ব টি-কোষকে জিনগতভাবে আরও ‘মডিফায়েড’ ও ঘাতক করে তোলেন বিজ্ঞানীরা। এই ঘাতক টি-কোষ ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি থামিয়ে দিতে পারে। শরীরের যেখানে ক্যানসার কোষ দ্রুত বিভাজিত হচ্ছে, ঠিক সেই জায়গা লক্ষ্য করে সেই পরিবর্তিত টি-কোষগুলিকে প্রয়োগ করেন বিজ্ঞানীরা। সেই টি-কোষগুলো তখন দেহকোষের রিসেপটরের সঙ্গে জুড়ে গিয়ে অ্যান্টিবডির মতো কাজ করে। সংখ্যায় বাড়তে শুরু করে। ঝাঁকে ঝাঁকে চারদিক থেকে আক্রমণ করে ধ্বংস করে দেয় ক্যানসার কোষগুলিকে।

রক্তের ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে প্রতি দিন। এই রোগে আক্রান্ত হলেই অজানা মৃত্যুভয় গ্রাস করে সর্ব ক্ষণ। যে কোনও বয়সে ব্লাড ক্যানসার হতে পারে। শিশুদের মধ্যে এই ক্যানসারের আশঙ্কা বেশি। এই রোগে আক্রান্ত হলে রক্তের মধ্যে থাকা উপাদানগুলির অনিয়ন্ত্রিত গঠন ও বিস্তার হতে থাকে। তাই ক্যানসার কোষগুলির বিভাজন বন্ধ করতে না পারলে তা ধীরে ধীরে গোটা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। রেডিওথেরাপি ও কেমোথেরাপিতে এতদিন রক্তের ক্যানসারের চিকিৎসা করছিলেন ডাক্তাররা। তবে রেডিওথেরাপির অনেক সাইড এফেক্টস আছে। ক্যানসার কোষের পাশাপাশি সুস্থ কোষও ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। কিন্তু কার-টি সেল থেরাপিতেত শরীরেরই ইমিউন বা প্রতিরক্ষা কোষ নিয়ে তাকে পরিবর্তি করে শক্তি বাড়িয়ে ক্যানসারের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হয়। এই ঘাতক কোষগুলো শুধুমাত্র নির্দিষ্ট লক্ষ্যে গিয়ে ক্যানসার কোষগুলিকে আক্রমণ করে। সুস্থ কোষের কোনও ক্ষতি করে না। তাই দ্রুত ক্যানসার ছড়িয়ে পড়া বন্ধ হয়। রোগীও ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।


```