
ঘটনাস্থল ও শহিদ জওয়ান
শেষ আপডেট: 8 May 2025 12:53
দ্য ওয়ল ব্যুরো: অপারেশন সিঁদুরের পর লাগাতার নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর গুলি বর্ষণ করছে পাক সেনা। যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে গভীর রাতে জম্মু ও কাশ্মীরের কুপওয়াড়া, বারামুল্লা, উরি এবং আখনুরে গুলি এবং মর্টার শেল চলে। সেনা সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই ঘটনায় বুধবার রাতে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ১২ থেকে ১৫ নিরীহ মানুষের। সেনার তরফে এখনও নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। শহিদ হয়েছেন এক জওয়ানও।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, ৭ ও ৮ মে মধ্যরাতে কুপওয়াড়া, বারামুল্লা, উরি এবং আখনুর সেক্টরের বিপরীত দিকে পাক সেনারা ছোট অস্ত্র এবং কামান ছোড়ে। বিনা উসকানিতে গুলি চালায়। মৃতদের মধ্যে রয়েছে ৪ জন শিশুও।
পুঞ্চে চলা ওই হামলায় শহিদ হয়েছেন দিনেশ কুমার শর্মা। হরিয়ানার বাসিন্দা ছিলেন। হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নায়াব সাইনি সামাজিক মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর খবর জানান এবং লেখেন, 'দেশের প্রতিটি নাগরিক তোমার কাজে গর্বিত। তোমার এই আত্মত্যাগ দেশ কোনওদিন ভুলবে না। আমি এই বীর শহিদকে শ্রদ্ধা জানাই।'
পাকিস্তানের প্রত্যাঘাতে অতিষ্ট কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর এলাকার মানুষজন। শেষ দুই দিনে রাতে কার্যত ঘুম হচ্ছে না কারও। হঠাৎ উড়ে আসা গুলি-বোমায় কারও ঘর উড়েছে তো কারও জীবনের সবকিছু। কারও সন্তান চলে গেছে তো কারও বাবা বা মা। তাঁদের প্রত্যেকের একটাই কথা, আমাদের কী দোষ? আমরা কী করেছি? কথা বলতে বলতেই কেঁদে ফেলছেন কেউ কেউ।
উল্লেখ্য, ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামের বৈসরনে পর্যটকদের উপর হামলা চালায় জঙ্গিরা। মৃত্যু হয় ২৬ জনের। এই ঘটনার পরই ২৪ এপ্রিল রাতে ভারত ইন্দাস জলচুক্তি (Indus Waters Treaty) স্থগিত করে এবং রাত থেকে পাক সেনা নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর একাধিক গুলি চালাতে শুরু করে। মঙ্গলবার রাতের গুলিগোলায় মৃত্যু হয় ১০ জনেরও বেশি মানুষের। বুধবার রাতের গুলি বর্ষণেও প্রাণ হারান কাশ্মীরের স্থানীয় প্রায় ১৫ জন।
বাড়ি-ঘরে হামলা চলার পাশাপাশি পুঞ্চের গুরুদ্বারায়ও গুলি চালায় পাক সেনা। রাতে তিন ঘণ্টা ধরে গুলি চলে। শুরু হয় রাত দেড়টা নাগাদ। এবিষয়ে স্থানীয় একজন বলেন, 'বাড়ি তো ভেঙে গেছে। ক্ষতি আমাদের হচ্ছে। সব হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের। কিছু থাকছে না। কী খাব, কী পরব! বলতে বলতে কেঁদে ফেললেন বৃদ্ধা।'