Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তান

সুনামির ২০ বছর: সাপে ভরা আন্দামানের জঙ্গলে ছেলের জন্ম দিয়েছিলেন নমিতা, নাম 'সুনামি'

২০ বছর আগে ২৬ ডিসেম্বর সুমাত্রার কাছে ভারত মহাসাগরে সমুদ্রের নীচে প্রবল ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে গোটা দুনিয়া

সুনামির ২০ বছর: সাপে ভরা আন্দামানের জঙ্গলে ছেলের জন্ম দিয়েছিলেন নমিতা, নাম 'সুনামি'

২০ বছরের ছেলে জয়রসা ও সুনামি (বাবা ও মায়ের সঙ্গে)

শেষ আপডেট: 26 December 2024 11:57

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নমিতা রায়। ২০ বছরের ছেলে সুনামি যেদিন তাঁর কোলে আসে, তখন নমিতার বয়স ছিল মাত্র ২৬ বছর। ২০ বছর আজ, বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বরের সেই দিনটি কোনওদিন ভুলতে পারবেন না নমিতা। বিষাক্ত সাপে ভরা আন্দামানের জঙ্গলের ভিতর কীভাবে মৃত্যুকে মুঠোয় চেপে ছেলের জন্ম দিতে হয়েছিল তাঁকে।

২০ বছর আগে ২৬ ডিসেম্বর যেদিন সুমাত্রার কাছে ভারত মহাসাগরে সমুদ্রের নীচে প্রবল ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে গোটা দুনিয়া, সেদিন শ্রীলঙ্কাতেও তার ব্যাপক প্রভাব পড়েছিল। শুধুমাত্র ক্ষুদ্র এই দ্বীপরাষ্ট্রে ৩৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সেদিন পূর্ব শ্রীলঙ্কার উপকূলের বাসিন্দা মুরুগুপিল্লাই এবং জেনিটার পরিবারও ছত্রখান হয়ে যায়। হারিয়ে যায় তাঁদের ২ মাসের সন্তান। ছেলের বাবা কটি অন্তর্বাস পরে লাগাতার খোঁজ করার পর উদ্ধার করেন তাঁর স্ত্রী ও মাকে। কিন্তু, তখনও ছেলে মানে কোলের শিশুটি বেপাত্তা।

জয়রসা অভিলাষ নামে সেই একরত্তি ছেলেটির খোঁজ পান উদ্ধারকারী। এক জায়গায় কাদার মধ্যে শরীরের অর্ধেকটি ঢুকে গিয়েছিল জয়রসা। হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তার ক্রমিক সংখ্যা ছিল ৮১। সেই থেকে সে বিখ্যাত হয়ে ওঠে বেবি ৮১ নামে। এখন সেই একরত্তি বাচ্চা উচ্চশিক্ষার জন্য পড়ে যাচ্ছে। সমুদ্রের ঝাপটায় মায়ের কোল থেকে ভেসে গিয়েছিল জয়রসা। হাসপাতালে তাকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া যায়, এক সহৃদয় নার্স তাকে সুস্থ করে তুলেছিলেন।

২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর বিশ্ব ইতিহাসে চিরকাল প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ইতিহাসে লেখা থাকবে। ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায় ৯.১ রিখটার স্কেলে এক ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়, যার জেরে সমুদ্রে প্রবল ঢেউ ও জলোচ্ছ্বাস দেখা দেয়। পূর্ব আফ্রিকা সহ এশীয় দেশগুলিতে প্রবল ক্ষয়ক্ষতি হয়। কয়েক লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়। ৩০ মিটার (১০০ ফুট) উচ্চতায় ঢেউ উঠেছিল যা ২৩০০০ অ্যাটম বোমার সমান শক্তিশালী। ঢেউয়ের সর্বোচ্চ গতি ছিল ৮০০ কিমি, অর্থাৎ বুলেট ট্রেনের চেয়ে দ্বিগুণ গতি। সরকারি তথ্যে সুনামিতে মোট ২২৬,৪০৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তথ্য অনুসারে শ্রীলঙ্কায় ৩৫ হাজার, ভারতে ১৬,৩৮৯ এবং থাইল্যান্ডে ৮,৩৪৫ জন মারা যান। 

সেদিন সকালে চোখের সামনে দেখা সেই ভয়াবহ দিনের কথা মনে করতে গেলে আজও চমকে ওঠেন নমিতা রায়। আন্দামান-নিকোবরের হাট-বে এলাকায় থাকতেন তিনি। নমিতা বলেন, আমি আজ আর সেই কালোদিনের কথা মনে করতে চাই না। আমি তখন পূর্ণ গর্ভবতী, ঘরের কাজ করছিলাম। হঠাৎ দেখি চারদিক কেমন থমথমে হয়ে গেল। পাখিরা ডাকা বন্ধ করে দিল। দূর থেকে দেখলাম সাগরের ঢেউ অন্যরকমভাবে এগিয়ে আসছে।

কয়েক সেকেন্ডের অপেক্ষা! তারপরে দেখলাম কয়েক তলা বাড়ির সমান ঢেউ হাট-বের দিকে ধেয়ে আসছে। আমি ভয়ে অজ্ঞান হয়ে যাই। জ্ঞান ফিরতে দেখি, আমরা একটা গভীর জঙ্গলের মধ্যে রয়েছি। শুধু আমি আমার স্বামী ও বড় ছেলেই নয়, হাজার হাজার লোক সেখানে। নমিতা রায় এখন পশ্চিমবঙ্গের হুগলিতে থাকেন। তাঁর বড় ছেলের নাম সৌরভ এবং ছোটটির নাম সুনামি। স্বামী লক্ষ্মীনারায়ণ কোভিডে মারা গিয়েছেন।

নমিতা আরও জানান, রাত ১১টা ৪৯ মিনিট নাগাদ আমার ব্যথা ওঠে। তখন আর কোনও সাহায্য ছিল না। ওই অন্ধকার জঙ্গলে, জলকাদা, সাপের বাসার মধ্যেই অন্যান্য মহিলার সহযোগিতায় সুনামির জন্ম হয়। ওই জঙ্গলে কোনও খাবার ছিল না। আমারও শরীর খারাপ হতে শুরু করে। প্রচুর রক্তক্ষরণের জন্য দুর্বল হয়ে পড়ি। চারদিন ওভাবেই লাল টিকরি পাহাড়িতে আমরা ছিলাম। পরে সেনাবাহিনী এসে উদ্ধার করে, বলেন নমিতা। স্বামীর মৃত্যুর পর ছেলেদের বড় করে তুলতে নমিতা একটি ফুড ডেলিভারির ব্যবসা খোলেন। তারও নাম দিয়েছেন সুনামি কিচেন। 

অন্যদিকে, দু মাসের বাচ্চাকে খুঁজে পেলেও জেনিটা ও তাঁর স্বামীকে নতুন বিপদের মুখে পড়তে আদালতে। ওই বাচ্চাকে নিজের বলে দাবি করেন আরও পাঁচ দম্পতি। তাই নিয়ে বেশ কিছুদিন আদালতের সিঁড়িতে ঘোরাঘুরি করার পর ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা হয়। সেই পরীক্ষায় উতরে গিয়ে ছেলের অধিকার ফিরে পান দম্পতি। 


```