
শেষ আপডেট: 5 January 2024 19:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমালিয়ায় ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ ছিনতাই করেছে জলদস্যুরা। ১৫ জন ভারতীয় নাবিক জলদস্যুদের হাতে বন্দি। তাদের উদ্ধার করতে দেশের সবচেয়ে এলিট কম্যান্ডো বাহিনীকেই পাঠিয়েছে ভারতীয় নৌসেনা। যুদ্ধজাহাজ আইএনএস চেন্নাইতে চেপে মার্কোস বাহিনী পৌঁছে গেছে উপকূলে। জলদস্যুদের সঙ্গে লড়ে ভারতীয় নাবিকদের বাঁচিয়ে ফিরিয়ে আনবে তারা।
ভারতের মেরিন কম্যান্ডো ফোর্স ১৯৮৭ সাল থেকে সক্রিয়। জল এবং স্থলে যে কোনও অবস্থায় মার্কোস অপারেশন চালাতে সক্ষম। বস্তুত, ভারতীয় বাহিনীদের মধ্যে অসীম শক্তিধর এই মার্কোস। ভারতীয় নৌসেনার বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত বাহিনী ‘মার্কোস’ (মেরিন কম্যান্ডোস)। কঠিন তেকে কঠিনতম অভিযানে ডাক পড়ে এই কম্যান্ডো বাহিনীর। জম্মু-কাশ্মীরের দুর্গম এলাকায় অবস্থিত উলার লেক এবং তার আশপাশের এলাকাকে জঙ্গিদের কবল থেকে মুক্ত করতে এই মার্কোস-ই দীর্ঘ দিন সেখানে ছদ্মবেশে কাজ করেছে
জল, স্থল, অন্তরীক্ষ— তিন জায়গাতেই সমান ভাবে লড়াই করতে পারে মার্কোস। যুদ্ধজাহাজ, অফশোর ইন্সস্টলেশন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সমরাঙ্গনে অতি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এই কমান্ডো বাহিনীকে কাজে লাগানো হয়। শত্রুপক্ষের উপর অতর্কিত হামলা চালানোয় বিশেষ ভাবে দক্ষ এই বাহিনী। সামুদ্রিক বাতাবরণে যুদ্ধ করতে এরা পারদর্শী।
মার্কোস বাহিনীর ব্যবহার করে পিস্তল অটো ৯ এমএম এবং সেমি অটোমেটিক পিস্তল, বেরেট্টা ৯২ এফসি পিস্তল, এসএএফ কার্বাইন ২ এ-ওয়ান বন্দুক, একে ১০৩ অ্যাসল্ট রাইফেল-এর মতো অত্যাধুনিক অস্ত্রসস্ত্র। মুম্বইয়ের আইএনএস অভিমুন্যতে এই কম্যান্ডো বাহিনীর প্রথম ট্রেনিং শুরু হয়। এরপর আগ্রায় প্যারাট্রুপারের ট্রেনিং দেওয়া হয়। এরপর সবথেকে শেষে কোচির ডাইভিং স্কুলে তাদের ট্রেনিং চলে। হাইজ্যাকিং, জঙ্গি হানা যুদ্ধের মতো আরও বিভিন্ন কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করার ট্রেনিং দেওয়া হয় তাদেরকে। এছাড়াও প্যারা জাম্পিং এর পাশাপাশি ‘ফ্রিং ফল’ -এর ট্রেনিংও চলে। বিশ্বের মুষ্টিমেয় কয়েকটি সেনাবাহিনীর মধ্যে এই মার্কোস বাহিনী সমস্ত অস্ত্রশস্ত্র পিঠে নিয়ে প্যারা ড্রপিং এর মাধ্যমে সমুদ্রে ঝাঁপ দিতে সক্ষম। ১৯৮৮ সালে অপ ক্যাকটাস নামের একটি বিশেষ অপারেশনে এই বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। ২০০৮ সালের মুম্বই হামলাতে মার্কোস বাহিনী জঙ্গি নিধন অভিযান চালায়।