
পরিবারের চারজন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে রাতের অন্ধকারে হেঁটেছিলেন।
শেষ আপডেট: 16 November 2024 17:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কানাডা সীমান্ত পেরিয়ে আমেরিকায় ঢোকার দুঃসাহসী চেষ্টার মাশুল গুনতে হয়েছিল এক ভারতীয় পরিবারকে। ২০২২ সালের জানুয়ারির প্রবল ঠান্ডায় জগদীশ প্যাটেল, তাঁর স্ত্রী বৈশালীবেন এবং ১১ বছরের মেয়ে বিহঙ্গী ও ৩ বছরের ছেলে ধার্মিক মাইনাস ৩৮ ডিগ্রির তুষারপাতে জমে বরফ হয়ে মারা গিয়েছিলেন। কয়েক ঘণ্টা বরফের উপর দিয়ে হেঁটে সীমান্ত পেরনোর সময় তাঁদের চারজনেই মারা পড়েছিলেন। সেই হাড়হিম করা ঘটনায় দুই অভিযুক্ত আগামী ১৮ নভেম্বর, সোমবার থেকে বিচারের মুখোমুখি হতে চলেছে।
আমেরিকার বিচার বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, কানাডার দিক থেকে মানব পাচারের কারিগর ছিল হর্ষকুমার প্যাটেল ওরফে ডার্টি হ্যারি নামে কুখ্যাত পাচারকারী। অন্যজন স্টিভ শ্যান্ড নামে এক মার্কিন গাড়ি চালক। যাকে প্যাটেল ঘটনার কিছুদিন আগে ফ্লোরিডার একটি ক্যাসিনোয় চাকরি পাইয়ে দিয়েছিল। এই দুজনের বিরুদ্ধে আগামী সোমবার, ১৮ নভেম্বর থেকে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে।
এদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত চাতুরীর সঙ্গে মানব পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এদের জন্যই আমেরিকায় অবৈধভাবে বসবাসকারী ভারতীয়র সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মনে করছে মার্কিন বিচার বিভাগ। যদিও এই দুই অভিযুক্ত নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করেছে।
মিনেসোটায় তাঁদের জন্য একটি ভ্যান অপেক্ষা করে থাকবে, এই আশায় পরিবারের চারজন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে রাতের অন্ধকারে হেঁটেছিলেন। মাঠঘাট পেরিয়ে, বরফে ঢাকা পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে তাঁরা ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েন। গাড়ির চালক স্টিভ শ্যান্ড কানাডার সহযোগীদের বলে দিয়েছিল পরিবারের সকলে যেন অত্যন্ত ভারী শীতের পোশাক পরে আসে।
ওই রাতে প্যাটেলের পরিবার ছাড়াও ওই রাতে মোট ১১ জন কানাডা সীমান্ত পেরিয়ে আমেরিকায় ঢোকার চেষ্টায় ছিলেন। কিন্তু, পর্যাপ্ত শীত ও তুষার রোধী পোশাক না পরে থাকার কারণে এবং টানা ১১ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস পদযাত্রায় তাঁরা দলছুট হয়ে পড়েন। তাঁদের হিমায়িত দেহ কানাডা সীমান্তের ধারে উদ্ধার হয়। জগদীশ তখনও তাঁর ছোট ছেলে ধার্মিককে কোলে ধরে ছিলেন এবং মা-মেয়ের দেহ অদূরে পড়েছিল।