ভারতের সময় অনুযায়ী, বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে স্পেসএক্সের ড্রাগন স্পেসক্রাফট ISS থেকে বিচ্ছিন্ন (Undocking) হয়।

ভারতীয় মহাকাশচারী শুভাংশু শুক্লা
শেষ আপডেট: 14 July 2025 20:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২২ ঘণ্টার যাত্রাপথ পেরিয়ে পৃথিবীতে ফিরছেন ভারতীয় মহাকাশচারী শুভাংশু শুক্লা ও তাঁর তিন মিশনসঙ্গী। অ্যাক্সিয়ম-৪ (Axiom-4) সোমবার সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS) থেকে পৃথিবীর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। ভারতের সময় অনুযায়ী, বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে স্পেসএক্সের ড্রাগন স্পেসক্রাফট ISS থেকে বিচ্ছিন্ন (Undocking) হয়।
নাসার তরফে জানানো হয়েছে, প্রক্রিয়ায় কিছুটা দেরি হলেও কোনও ত্রুটি ঘটেনি। এবার প্রায় ২২ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের দীর্ঘ যাত্রা শেষে তাঁরা ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে সমুদ্রে নামবেন মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ভারতীয় সময় অনুযায়ী বিকেল ৩টের আশেপাশে।
#
২৫ জুন স্পেসএক্সের ড্রাগন স্পেসক্রাফট নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে যাত্রা শুরু করে। শুভাংশু শুক্লা এই মিশনের পাইলট। এই যাত্রার মধ্য দিয়ে তিনি রাকেশ শর্মার (১৯৮৪) পর দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে মহাকাশ ভ্রমণ করলেন।
ড্রাগন মহাকাশযানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন পোল্যান্ডের ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার (ESA) মহাকাশচারী স্লাওসজ উজনানস্কি-ভিসনিয়েভস্কি, হাঙ্গেরির মহাকাশ কর্মসূচি HUNOR-এর টিবর কাপু এবং অ্যাক্সিয়ম স্পেসের ডিরেক্টর ও প্রাক্তন NASA মহাকাশচারী পেগি হুইটসন।
এই মিশনে শুভাংশু শুক্লা মূলত কাজ করেছেন মহাকাশে হাড় ও পেশির ক্ষয় সংক্রান্ত বিষয়ে। এছাড়াও তাঁরা গবেষণা করেছেন ক্যানসার, মাইক্রোগ্রিন ও উদ্ভিদ জৈববিদ্যা এবং মহাকাশে মাধ্যাকর্ষণহীন অবস্থায় মানুষের রক্ত সঞ্চালনের ওপর।
শুভাংশু আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করেছেন — দীর্ঘ মহাকাশযাত্রায় পুষ্টির টেকসই উৎস হিসেবে মাইক্রোঅ্যালগি উৎপাদন। এই মিশনে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কেও এক বিশেষ গবেষণায় অংশ নেন চার মহাকাশচারী।
নাসা (NASA) ও ইসরো (ISRO)-র যৌথ উদ্যোগেই এই মিশন সম্ভব হয়েছে। নাসা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “ISS-এ প্রথম ISRO মহাকাশচারী পাঠানোয় এই সহযোগিতা ট্রাম্প-মোদী আলোচনায় ঘোষিত প্রতিশ্রুতি পূরণের পথ প্রশস্ত করল।”
লখনউতে শুভাংশুর পরিবার তাঁর ফেরার অপেক্ষায়। বাবা শম্ভু দয়াল শুক্লা জানান, “ও আমাদের মহাকাশে কোথায় থাকে, কাজ করে, ঘুমোয়—সব দেখিয়েছে ভিডিও কলে। ওখানে হাঁটা যায় না, সবাই ভেসে চলে। ঘুমোয় দাঁড়িয়ে, কোমরে বেল্ট বেঁধে।”
মা আশা দেবী বলেন, “ও আমাদের আকাশ থেকে সূর্যোদয়, পৃথিবীর চেহারা, পাহাড়, এমনকি চাঁদের চলাফেরা পর্যন্ত দেখিয়েছে। শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবারে আমরা শিবমন্দিরে গিয়ে ওর নিরাপদ ফেরার জন্য প্রার্থনা করেছি।”