
শেষ আপডেট: 24 December 2024 11:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেখ হাসিনাকে ফেরাতে বাংলাদেশ সরকারের আর্জি নিয়ে এখনই কোনও প্রতিক্রিয়া দেবে না ভারত সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলছেন, 'এই বিষয়ে ভারত সরকারের তরফে আমরা এখনই কিছু বলছি না।'
পররাষ্ট্র মন্ত্রকের এক পদস্থ কর্তার কথায়, এমন বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেওয়ার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক নোট আমরা পেয়েছি। প্রাপ্তি স্বীকারের দায় ছিল। তাই আপাতত সে টুকুই করা হল।
সরকারি সুত্রের খবর বাংলাদেশ সরকার যে চিঠি পাঠিয়েছে সেটিকে কূটনীতির পরিভাষায় বলা হয় ডিপ্লোমেটিক নোট-ভারবাল। এই ধরনের নোটে কারও সই থাকে না।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে সোমবার তৎপরতা জোরদার করে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লিগ নেত্রীকে তাদের হাতে তুলে দিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রক ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন সোমবার ঢাকায় জানান, ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের কাছে কূটনৈতিক নোট পাঠানো হয়েছে। বলা হয়েছে, দেশে বিচারের উদ্দেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ফেরানো হোক। দিল্লির বাংলাদেশ হাই কমিশন অফিস থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে নোট পৌঁছে দেওয়া হয়।
এদিকে কেন অবস্থান বদলে ইউনুস সরকার হাসিনাকে ফেরত চেয়ে তৎপর হয়েছে সে বিষয়েও খোঁজখবর রাখছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক। সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মহম্মদ ইউনুস এর আগে একাধিকবার বলেছেন, বিচারে দোষী সাব্যস্ত হলে তখন শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এখনই হাসিনাকে কেন ফেরত চাইল ইউনুস সরকার তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
একাধিক সূত্রের খবর, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের এই সিদ্ধান্তের পিছনে মাকিন প্রশাসনের হাত রয়েছে। জো বাইডেন বিদায় নেওয়ার আগে ভারত সরকারকেও অস্বস্তিতে ফেলতে চাইছেন। আগামী মাসে বাইডেনের জায়গায় ফের প্রেসিডেন্ট পদে বসতে চলছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর সঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর ব্যক্তিগত স্তরে সম্পর্ক রয়েছে।
অন্যদিকে, বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাঁর পাঁচ বছরের কার্যকালে একাধিকবার মানবাধিকার, গণতন্ত্রের ইস্যুতে মোদী সরকারকে বিপাকে ফেলেছেন।
হাসিনাকে চাইলেই ভারত ফেরাবে না, এটা জানাই আছে। বিদায় নেওয়ার আগে বাইডেন প্রশাসন দেখাতে চাইছে, মোদীর ভারত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং কূটনৈতিক দায় অস্বীকার করছে। সেই কারণেই হাসিনাকে ফেরত চাইতে বাংলাদেশ সরকারের উপর চাপ তৈরি করেছে তারা।
একাধিক সূত্রের খবর, হাসিনা জমানায় বাংলাদেশে গুমের ঘটনাগুলিতে ভারতের যোগ থাকা নিয়ে ইউনুস সরকার গঠিত কমিটির বক্তব্যের পিছনেও মার্কিন প্রশাসনের হাত রয়েছে। ঢাকার যে মানবাধিকার সংগঠনটি গুমের ঘটনায় ভারতের যোগ থাকা নিয়ে রিপোর্ট দিয়েছে সেটির প্রধান কর্তা ছিলেন ইউনুসের এক উপদেষ্টা। ওই পদে বসার আগে তিনি ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের প্যানেলভুক্ত আইনজীবীও ছিলেন।