রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ইতিমধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে ‘সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক ডিজিটাল কারেন্সি’ (CBDC) চালু করেছে দুই ধাপে।

কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল
শেষ আপডেট: 7 October 2025 09:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে (India) এবার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে চলেছে ডিজিটাল মুদ্রা (Digital Currency)। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-র নিয়ন্ত্রণে থাকা এই নতুন মুদ্রা ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের আর্থিক লেনদেনে গতি ও স্বচ্ছতা দুই-ই বাড়বে বলে দাবি করলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল (Piyush Goyal)।
তিনি জানিয়েছেন, “ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবহারের ফলে কাগজের ব্যবহার অনেকটা কমবে। ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় লেনদেন হবে আরও দ্রুত ও নিরাপদ। ব্লকচেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে লেনদেনের পূর্ণ ট্রেসেবিলিটি বা নজরদারি সম্ভব হবে।”
গোয়েল আরও বলেন, “ক্রিপ্টোকারেন্সির (Crypto Currency) মতো নয়, এই ডিজিটাল মুদ্রা সরাসরি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক দ্বারা সমর্থিত। ফলে এর উপর সম্পূর্ণ সার্বভৌম বিশ্বাস ও নিশ্চয়তা থাকবে।”
দুই ধাপে চালু হয়েছে আরবিআইয়ের ডিজিটাল মুদ্রা
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ইতিমধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে ‘সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক ডিজিটাল কারেন্সি’ (CBDC) চালু করেছে দুই ধাপে।
প্রথম ধাপে ২০২২ সালের ১ নভেম্বর শুরু হয় পাইকারি স্তরে (Wholesale) ডিজিটাল মুদ্রা চালান। এরপর ১ ডিসেম্বর থেকে খুচরো স্তরেও (Retail) চালু করা হয় এই প্রকল্প।
আরবিআইয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ মাসের শেষে দেশে প্রচলিত ডিজিটাল মুদ্রার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১,০১৬ কোটি টাকা।
ক্রিপ্টোতে নয়, ডিজিটাল রুপিতেই ভরসা
মন্ত্রীর মতে, ক্রিপ্টোকারেন্সি কোনও দেশের সার্বভৌম মুদ্রা নয় এবং কোনও সরকারি ব্যাঙ্কের সমর্থনও নেই। ফলে তাতে ঝুঁকি অনেক বেশি। তিনি বলেন, “ভারত সরকার ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছে না। এটির উপর সরকারের কোনও নিয়ন্ত্রণ বা গ্যারান্টি নেই।”
তবে দেশে ক্রিপ্টো লেনদেনের উপর নিষেধাজ্ঞা নেই। গোয়েল বলেন, “ভারতে এখন ক্রিপ্টো ট্রেডিংয়ের উপর ৩০ শতাংশ কর আরোপিত হয়েছে। নাগরিকেরা নিজেদের ঝুঁকিতে ক্রিপ্টোতে লেনদেন করতে পারেন, তবে সরকারের পক্ষ থেকে কোনও সহায়তা দেওয়া হবে না।”
ভারত-কাতার বাণিজ্য আলোচনায়ও গুরুত্ব
বর্তমানে পীযূষ গোয়েল সরকারি সফরে রয়েছেন কাতারে। সেখানে ভারত-কাতার যৌথ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য কমিশনের বৈঠকেও তিনি সহ-সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে কাতারের বাণিজ্যমন্ত্রী শেখ ফয়সাল বিন হানি আল থানির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। গোয়েলের আশা, শীঘ্রই দুই দেশের মধ্যে একটি Comprehensive Economic Partnership Agreement (CEPA) বা বিস্তৃত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে।