
শেষ আপডেট: 22 November 2023 07:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের নেতৃত্বে জি ২০ সম্মেলনের শেষ বৈঠক আজ দিল্লিতে বসতে চলেছে। এই বৈঠক হবে ভার্চুয়াল মাধ্যমে।
সরকারি সূত্রে খবর দাবি করা হচ্ছে জি-২০ র বিগত সম্মেলনগুলিতে কোনও দেশ এক বছরে দু'বার রাষ্ট্রপ্রধানদের এক মঞ্চে হাজির করতে পারেনি, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগের ফলে সম্ভব হতে চলেছে। জি-২০ ছাড়াও ভয়েস অফ গ্লোবাল সাউথ এ বছর আয়োজন করেছে ভারত। সব মিলিয়ে চলতি বছরে ভারত বিদেশনীতিতে বড় সাফল্য অর্জন করেছে বলে জি-২০ - শেরপা অমিতাভ কান্তের দাবি।
বুধবারের জি ২০ - র একদিনের সম্মেলনে অবশ্য চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিংপিন থাকছেন না। পরিবর্তে যোগ দেবেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও থাকবেন না। মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত কানাডা জানায়নি তাদের প্রেসিডেন্ট জাস্টিন ট্রুডো বৈঠকে অংশ নেবেন কিনা।
কানাডার মাটিতে এক খলিস্তানি জঙ্গির হত্যাকাণ্ডে ভারতীয় এজেন্সি যুক্ত, ট্রুডোর এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুই দেশের সম্পর্ক এখন অনেকটাই তলানিতে এসে ঠেকেছে। দুই দেশই তাদের অভিযোগে অনড়।
ভারতের বক্তব্য, কানাডা খলিস্তানি উগ্রপন্থীদের আশ্রয় দিচ্ছে। ভারতে অপরাধ করে কানাডায় গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে খলিস্থানি সন্ত্রাসীরা। সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
একইসঙ্গে ভারতের দাবি খলিস্তানি নেতা হরদীপ সিং গুজ্জারের হত্যার পেছনে ভারতীয় বাহিনীর যুক্ত থাকার কোন প্রমাণ কানাডা দিতে পারেনি। এককদম এগিয়ে দিল্লি বিষয়টি অস্ট্রেলিয়ার বিদেশ মন্ত্রী পেনি উইংয়ের সঙ্গে টু প্লাস টু আলোচনায় উত্থাপন করেছে। মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে পেনির বৈঠক হয় নয়াদিল্লিতে। সেখানে জয়শঙ্কর অস্ট্রেলিয়া বিদেশ মন্ত্রীকে বলেন কানাডা কূটনৈতিক এবং দ্বিপাক্ষিক সব ধরনের সম্পর্ক উপেক্ষা করছে। খলিস্তানি উগ্রবাদীদের আশ্রয় দিয়ে দেশটি ভারতের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে তুলেছে।
এ'বছর জি টুয়েন্টি সম্মেলন ছাড়াও নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে ভারত ভয়েস অফ গ্লোবাল সাউথের সম্মেলনের আয়োজন করে। সেই সম্মেলন হয়েছিল ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে।
আয়োজক দেশ হিসাবে বুধবার জি ২০ সম্মেলন প্রথামত উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈঠক উত্তপ্ত হতে পারে ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধ নিয়ে। যদিও ভারতের বক্তব্য, টি-টোয়েন্টি হল আর্থিক বিকাশ বিষয়ক মঞ্চ। এখানে যুদ্ধ, হিংসার প্রসঙ্গ আসার কথা নয়। তবে নয়া দিল্লির আশঙ্কা মানবিক কারণ দেখিয়ে কিছু দেশ ইজরাইল নিয়ে আলোচনা চাইতে পারে। তাৎপর্যপূর্ণ হল, আজ প্রধানমন্ত্রী মোদীর ভাষণ ছাড়া বাকিদের বক্তব্য সম্প্রচার করা হবে না। মনে করা হচ্ছে ইজরায়েল হামাস দ্বন্দ্বের কারণেই এই সিদ্ধান্ত করা হয়েছে।