
শেষ আপডেট: 6 October 2023 19:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চন্দ্রযান-৩ মিশনের সাফল্য যেন অন্য সব মিশনে বাড়তি অক্সিজেন জুগিয়েছে। শুক্র অভিযানের প্রস্তুতি তুঙ্গে। এদিকে গগনযানের তোড়জোড়ও চলছে। এর মধ্যেই ইসরোর চেয়ারম্যান এস সোমনাথ ঘোষণা করেছেন, এবার আমেরিকা, চিন, রাশিয়ার মতো মহাকাশে নিজস্ব স্পেস স্টেশন তৈরি করবে ভারত। পৃথিবীর সর্বনিম্ন কক্ষপথে একটা আস্ত বাড়ি বানানোর পরিকল্পনা আছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা তথা ইসরোর।
ইসরো চেয়ারম্য়ান এস সোমনাথ এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, আগামী ভবিষ্যতে একাধিক মিশনের পরিকল্পনা রয়েছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার। এরই মধ্যে রয়েছে নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন তৈরির কাজও। পৃথিবী থেকে যে নভশ্চররা মহাকাশে যাবেন তাঁরা এই স্পেস স্টেশনেই বিশ্রাম নেবেন। সেখান থেকেই রকেটে চেপে পাড়ি দেবেন চাঁদে বা অন্য গ্রহে। একদিকে যেমন জ্বালানীর সাশ্রয় হবে, তেমনি পৃথিবী থেকে এত বেশি রসদ বয়ে নিয়ে যেতে হবে না। স্পেশ স্টেশনে সব ব্যবস্থাই পাকা থাকবে।
ইসরোর গগনযান মিশন হল স্পেস স্টেশন তৈরির প্রথম ধাপ। গগনযানে চেপে নভশ্চরা মহাকাশে ঘুরে বেরিয়ে হাল হকিকত খতিয়ে দেখে আসবে।
কাজ এগোবে ধাপে ধাপে। ওজন হবে ২০ টনের মতো। ভেতরে প্রাথমিকভাবে তিনটে ঘর থাকবে। তিনজন নভশ্চরের থাকার মতো জায়গা থাকবে। নিজেদের স্পেস স্টেশনে বসেই বিভিন্ন পরীক্ষা করতে পারবেন মহাকাশচারীরা। প্রয়োজনে ১৫-২০ দিন টানা থাকতে পারবেন। ইসরোর পরিকল্পনা ছিল, গগনযান মিশন সফল হলে ২০৩০ সালের মধ্যেই স্পেস স্টেশন বানানোর কাজ সম্পূর্ণ করা যাবে।
এখন স্পেস স্টেশন তো হঠাৎ করে বানানো যায় না। তার জন্য আগাম প্রস্তুতি লাগে। পৃথিবীর কক্ষে কোন জায়গায় স্পেস স্টেশন বসবে, আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের সঙ্গে যেন দূরত্ব থাকে, সেসব দেখে তবেই কাজ শুরু হবে। এর জন্য ইসরো ঠিক করেছে, দুটি রকেটকে আগে পাঠিয়ে হাল হকিকত জেনে নেওয়া হবে। পিএসএলভি রকেটে চাপিয়ে দুটি উপগ্রহ যাবে মহাকাশে। পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতেই স্পেস স্টেশন বানানোর জায়গা বের করে ফেলবে তারা। এর পর শুরু হবে বাড়ি বানানোর প্রক্রিয়া।
মহাশূন্যে সবকিছুই ভর-শূন্য দশায় থাকে। অর্থাৎ মাইক্রোগ্র্যাভিটি (মাধ্যাকর্ষণের প্রভাব যেখানে নেই) কাজ করে। কাজেই সব দিক ভেবেচিন্তে, বিচারবিবেচনা করেই নকশা বানাতে হবে উপগ্রহ দুটিকে। এই কাজকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে গগনযান। প্রথমে ‘আনম্যানড মিশন’ হবে অর্থাৎ শুধু মহাকাশযান পাঠানো হবে। নভশ্চরদের নিয়ে উড়ে যাবে গগনযান। শূন্য মাধ্যাকর্ষণে কেমনভাবে কাজ করা হবে সে খবর তাঁরা নিয়ে আসবেন মহাকাশ থেকে। গগনযানের ভিতরেও ওজন-শূন্য অবস্থায় থাকবেন মহাকাশচারীরা। সেই সময় তাঁদের অভিজ্ঞতা কেমন, বেঁচে থাকার জন্য তাঁদের কেমন রসদই বা দরকার তার খুঁটিনাটি জানতে পারবে ইসরো।
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) রয়েছে পৃথিবী থেকে বড়জোর ৩৭০ কিলোমিটার উপরে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA), রাশিয়ার রসকসমস (Roscosmos), জাপানের জাক্সা (JAXA), ইউরোপের ইসএ (ESA) এবং কানাডার সিএসএ (CSA)—এই পাঁচটি মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের সম্মিলিত চেষ্টায় ১৯৯৮-২০১১ সালের মধ্যে গড়ে উঠেছিল আইএসএস। ভারতের স্পেস স্টেশন তৈরিতেও সাহায্য করবে নাসা। মহাকাশ গবেষণায় এখনই জোট বেঁধেছে নাসা ও ইসরো। আগামী দিনে আরও বৃহত্তর পরিকল্পনা আছে তাদের।