
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 22 June 2024 20:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ‘তিস্তা’ এখনও স্পর্শকাতর বিষয়। ঘরোয়া রাজনীতির বাধ্যবাধকতার কারণে এই বিষয়টি থেকে কিছুটা দূরত্ব রেখেই চলে নয়াদিল্লি। কিন্তু এবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠকে কৌশলী পা ফেলল ভারত।
তিস্তা নদীর সংরক্ষণ নিয়ে ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের প্রকল্পের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। সেই প্রকল্পে শ্যেন নজর রেখেছে চিন। এহেন পরিস্থিতিতে তিস্তার প্রস্তাবিত সংরক্ষণ প্রকল্পের ব্যাপারে আগ্রহের ইঙ্গিত দিল নয়াদিল্লি।
তৃতীয় বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন মোদী। ৯ জুন তাঁর শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শেখ হাসিনা। তার ১১ দিনের মধ্যে ফের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের জন্য ভারত সফরে এসেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
শনিবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউজে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান, ভারতের একটি টেকনিকাল টিম খুব শিগগির ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবে। মোট ৫৪টি নদী ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে একই সঙ্গে বয়ে গিয়েছে। তিস্তার বাংলাদেশের অংশটির সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা আলোচনার জন্যই ভারতীয় প্রতিনিধি দল সে দেশে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়েছেন, ভারত বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার জলচুক্তিরও ৩০ বছর হল। ওই চুক্তির পুনর্নবীকরণের জন্যও একটি টেকনিকাল টিম এবার আলোচনা শুরু করবে।
সাউথ ব্লক সূত্রে বলা হচ্ছে, নয়াদিল্লির এই পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ। তিস্তার সংরক্ষণ প্রকল্পের জন্য ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। চিন ওই প্রকল্পের উপর নজর রাখছে। চিনা সংস্থাকে এই কাজের বরাত দেওয়ার ব্যাপারে নয়াদিল্লি ঢাকার কাছে পষ্টাপষ্টিউ উদ্বেগের কথা জানিয়েছে।
আরও তাৎপর্যপূর্ণ হল, আগামী মাসে চিন সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তার আগে কৌশলগত ভাবেই এই প্রসঙ্গ তুলেছে ভারত। কারণ, নয়াদিল্লির উদ্বেগ হল, শুধু মাত্র ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে জল প্রবাহের হিসাবনিকেশের ব্যাপারেই নয়, এই প্রকল্পে চিন ঢুকলে নিরাপত্তার দিক থেকেও এ দেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ইতিমধ্যে উত্তরবঙ্গের চিকেন-নেকের কাছে বাংলাদেশের মধ্যে চিনা প্রতিনিধিদের ক্যাম্প করতে দেখা গিয়েছে।
এদিনের বৈঠকের পর বিদেশ সচিব বলেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী তিস্তার সংরক্ষণের ব্যাপারে আলোচনা করেছেন। সেই আলোচনার বিষয়বস্তু জল বন্টনের ব্যাপারে ছিল না। তা তিস্তার মধ্যে জলের প্রবাহের ব্যবস্থাপনা নিয়ে। ভারতের টেকনিকাল টিমের ঢাকা সফরের ব্যাপারে বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয়েছে।