
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 5 November 2024 15:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফৌজদারি দণ্ড ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজতে চলেছে দেশ। সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বিচারে বা খুশিমতো শাস্তিদানের অভিযোগ ঠেকাতে এই প্রচেষ্টা বলে জানা গিয়েছে। ২০২২ সালে একটি ধর্ষণের মামলায় মাত্র আধঘণ্টার মধ্যে এক বিচারক দোষী ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল পড়েছিল।
পরে বিহারের উচ্চ আদালতে সেই দোষী সাব্যস্ত করার রায় খারিজ করা হয় এবং পুনঃবিচারের রায়দান হয়। উচ্চ আদালত বলে, অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং বিচারক খুব তাড়াহুড়ো করে পদক্ষেপ করেছেন। রায়ে বিচারক পদের জন্য আরও প্রশিক্ষণ জরুরি বলে মন্তব্য করা হয়েছিল।
তাই অপরাধ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ব্রিটেন, কানাডা এবং নিউজিল্যান্ডের কাছাকাছি বিচার ব্যবস্থাকে নিয়ে যেতে চায় ভারত। সরকার এর জন্য একটি গ্রেডিং ব্যবস্থা প্রণয়নের কথা ভাবছে। যাতে অপরাধের সঙ্গে শাস্তি এবং শাস্তিদানের একটি মান নির্দিষ্ট করে দিতে পারে।
দেশের আইন ও বিচার মন্ত্রক ডিসেম্বর মাস নাগাদ সুপ্রিম কোর্টের সামনে তার পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারে সূত্রে জানা গিয়েছে। গত মে মাসে আদালত সরকারকে এ বিষয়ে একটি পরিকল্পনা জানাতে বলেছিল। বিহারের ঘটনা পরিপ্রেক্ষিতে সরকারকে আদালত বলেছিল যে, তারা যেন শাস্তিদানের ক্ষেত্রে একটি সর্বাত্মক নীতি গ্রহণ করে।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে দ্য ইকনমিকস টাইমস এই খবর দিয়ে বলেছে, এ বিষয়ে সরকারি স্তরে কোনও মন্তব্য মেলেনি। সূত্রটি আরও জানিয়েছে, পরিকল্পনা এখনও চূড়ান্ত না হলেও একটি পরামর্শ রয়েছে যাতে নিম্ন আদালতে ন্যূনতম শাস্তিবিধানের ব্যবস্থাকে সহজ করা যায়। অপরাধের তারতম্য অনুযায়ী শাস্তিবিধানের কথা বলা হবে।
সূত্রটি জানিয়েছে, অনেক সময় নিম্ন আদালত অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনা না করে কঠিনতম শাস্তি দিয়ে দেয়। যেমনটি ঘটেছিল বিহারের ঘটনায়। যেখানে পকসো আইনে অপরাধীর ৩ বছর জেল থেকে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত শাস্তিবিধান করা হয়েছে।
এর আগে মধ্য ভারতের একটি নিম্ন আদালতের বিচারক ২০১৮ সালে ধর্ষণে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে গ্রেফতারের ২৩ দিনের মাথায় ফাঁসির আদেশ দিয়েছিলেন। কেননা সেবার ওই অভিযুক্তে বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে মানুষ প্রতিবাদ দেখিয়েছিলেন। দেশের বিচার ব্যবস্থার অধীনে কয়েক লক্ষ মামলা ঝুলে রয়েছে। যার মধ্যে ৩ লক্ষ মামলাই হল শিশুদের উপর যৌন নির্যাতনের। এর জন্য ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠিত হলেও মামলা নিষ্পত্তিতে তেমন সুরাহা মেলেনি।