
ভারত-পাক সংঘাত।
শেষ আপডেট: 24 April 2025 18:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পহেলগাম হামলার পরে ভারত সরকার যখন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক পথে একাধিক কড়া পদক্ষেপ করেছে, তখন তার পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিতেও সময় নেয়নি ইসলামাবাদ। একের পর এক পাল্টা পদক্ষেপ নিয়ে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক একেবারে তলানিতে ঠেকেছে।
বুধবার ভারত ঘোষণা করেছিল পাঁচ দফা কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়ায়। এর মধ্যে রয়েছে সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতকরণ এবং উভয় দেশের দূতাবাসে কর্মী সংখ্যা কমানো। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তানও জানিয়ে দিল তাদের কড়া পাল্টা সিদ্ধান্ত।
সিমলা চুক্তি-সহ সমস্ত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্থগিত করা হয়েছে।
ওয়াঘা সীমান্ত অবিলম্বে বন্ধ করা হয়েছে। এই পথ দিয়ে যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ। যাঁরা এই সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তানে ঢুকেছেন, তাদের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ভারতে ফিরে যেতে বলা হয়েছে।
সার্ক ভিসা স্কিমের আওতায় ভারতীয়দের সমস্ত ভিসা বাতিল। তবে শিখ তীর্থযাত্রীদের ছাড় দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানে থাকা ভারতীয়দের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে।
পাকিস্তানের আকাশপথে ভারতীয় মালিকানাধীন বা ভারতীয় পরিচালিত কোনও বিমান চলাচল করতে পারবে না।
ভারতের সঙ্গে সমস্ত ধরনের বাণিজ্য, এমনকি তৃতীয় দেশের মাধ্যমে হওয়া বাণিজ্যও বন্ধ করতে হবে।
ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় প্রতিরক্ষা, নৌ ও বিমান উপদেষ্টাদের 'persona non grata' অর্থাৎ অবাঞ্ছিত বলে ঘোষণা করে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে পাকিস্তান ছাড়তে বলা হয়েছে।
ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মী সংখ্যা কমিয়ে ৩০ জনে আনা হবে মাসের শেষে।
এই পদক্ষেপগুলো জানিয়ে ইসলামাবাদ ভারতীয় কূটনৈতিক আঘাতকে 'একতরফা, অবিচারপূর্ণ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও আইনত অগ্রহণযোগ্য' বলেও আখ্যা দিয়েছে।
পাশাপাশি, বিশ্বব্যাঙ্ক-সমর্থিত সিন্ধু জলচুক্তিকে 'আন্তর্জাতিক বাধ্যতামূলক চুক্তি' বলে উল্লেখ করে পাকিস্তান জানিয়েছে, ভারতের এই সিদ্ধান্তকে যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য বলে গণ্য করা হবে।
জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে মঙ্গলবার মর্মান্তিক জঙ্গি হামলায় নিহত হয়েছেন ২৬ জন নিরীহ পর্যটক। এর পরেই ভারত পাকিস্তানকে 'সন্ত্রাসবাদের নিরাপদ আশ্রয়' বলে অভিযুক্ত করে এবং একাধিক কূটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পাকিস্তান অবশ্য এই সমস্ত অভিযোগকেই যুক্তিহীন ও ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দিয়েছে। এবার তারাও পাল্টা কূটনৈতিক পদক্ষেপ করল ভারতের বিরুদ্ধে।
প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল সিমলা চুক্তি। এটি একটি ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা, যা ভারত ও পাকিস্তানকে কাশ্মীর-সহ সমস্ত বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এই চুক্তি স্থগিত করাকে ভারত-পাক সম্পর্কে এক গুরুতর ধাক্কা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।