
ইমার্জেন্সি মুক্তি পেয়েছে গত ১৭ জানুয়ারি।
শেষ আপডেট: 24 January 2025 18:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কঙ্গনা রনৌত অভিনীত-পরিচালিত 'ইমার্জেন্সি' ছবির প্রদর্শনী নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলছে ইংল্যান্ডে। বিভিন্ন সিনেমা হলে এই বিক্ষোভ-হুজ্জতের নেতৃত্ব দিচ্ছে খলিস্তানপন্থীরা। শো চলাকালীন সিনেমা হলে হামলা চালিয়ে প্রদর্শনী বন্ধ রাখতে বাধ্য করছে ব্রিটেনে বসবাসকারী শিখ সংগঠনগুলি, যার সামনের দিকে রয়েছে মূলত খলিস্তানপন্থীরা। শুক্রবার বিজেপির সাংসদ কঙ্গনার ছবি নিয়ে এই ঘটনা প্রসঙ্গে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দেশের বিদেশ মন্ত্রক।
হিমাচল প্রদেশের মান্ডির বিজেপির সাংসদ কঙ্গনা রনৌতের ইমার্জেন্সি মুক্তি পেয়েছে গত ১৭ জানুয়ারি। ইন্দিরা গান্ধীর জীবনাংশ নিয়ে নির্মিত এই ছবিটি নিয়ে বহু বিতর্ক-চর্চা হলেও সাতদিনে মাত্র ১৪ কোটি টাকার কিছু বেশি আয় দিয়েছে ছবিটি। ইন্দিরা গান্ধী হত্যাকাণ্ড নিয়ে শিখ সম্প্রদায়কে দোষী সাব্যস্ত করা ও খলিস্তান আন্দোলন দমনে অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরে চলা অপারেশন ব্লু স্টার প্রসঙ্গে হিংসাত্মক দৃশ্য সম্পর্কে আপত্তি ছিল আগেভাগেই। সে কারণে পাঞ্জাবে এই ছবিটি এখনও মুক্তিই পায়নি। কিন্তু, ব্রিটেনে বহু শিখ বসবাস করায় সেখানে ব্যাপক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ইংল্যান্ডে বিভিন্ন সিনেমা হলে ইমার্জেন্সির প্রদর্শনী চলাকালীন হাঙ্গামা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিদেশ মন্ত্রক। ভারত আশা করে, যারা আইন ভঙ্গ করে চলেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এদিন বিদেশ মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ইমার্জেন্সি দেখানোর সময় কীভাবে প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে আমরা বিভিন্ন সূত্রে খবর পাচ্ছি। ভারত বিরোধী কিছু লোক এ ধরনের হাঙ্গামায় উৎসাহ-উসকানি দিচ্ছে, যা নিয়ে সেদেশের সরকার-প্রশাসন আশা করি ব্যবস্থা নেবে। যারা অন্যায় করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
জয়সওয়াল বলেন, আমরা আশা করি মত ও বাকপ্রকাশের স্বাধীনতা বাছাই করে প্রয়োগ করা যায় না। যারাই গন্ডগোল পাকাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আমাদের লন্ডনস্থিত হাইকমিশন সেদেশে বসবাসকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলছে এবং তাদের সুরক্ষার কথা চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত রবিবার রাতে খলিস্তানি একদল সমর্থক মুখ ঢাকা দিয়ে হ্যারো ভ্যু সিনেমা হলে চিৎকার করতে করতে ঢুকে পড়ে। তারা জোরজবরদস্তি সিনেমা দেখানো বন্ধ করে দর্শকদের বের করে দেয়।
ব্রিটিশ শিখ গোষ্ঠীগুলি বার্মিংহাম, ওলভারহাম্পটন এবং পশ্চিম লন্ডনের একাংশেও ছবির প্রদর্শনী বন্ধ করে দেয়। শিখদের অভিযোগ, এই ছবি শিখ-বিরোধী ভারতের প্রচারমূলক ছবি। এ সপ্তাহের শেষেও এই ছবি ইংল্যান্ডে দেখানো হয় তাহলে সর্বত্র অশান্তির হুমকি দিয়েছে সংগঠনগুলি। শিখ প্রেস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, এই ছবিতে যা দেখানো হয়েছে তা শিখ বিরোধী প্রচার। অবিলম্বে ইমার্জেন্সি দেখানো বন্ধ না হলে ব্রিটেন জুড়ে সর্বাত্মক বিক্ষোভ হবে।