এই প্রযুক্তিতে ইঞ্জিনের সামনের দিক দিয়ে প্রবেশ করা বাতাসকে উচ্চ গতিতে সংকুচিত করা হয়। সেই বাতাসই জ্বালানি পোড়ানোর প্রক্রিয়ায় শক্তি তৈরি করে, যা ক্ষেপণাস্ত্রকে গতিশীল রাখে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 4 February 2026 13:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে (Indian Defence System) গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ঘটল বুধবার। ওড়িশার চাঁদিপুরে ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ থেকে সফলভাবে ‘সলিড ফুয়েল ডাক্টেড র্যামজেট’ (Ramjet Missile) প্রযুক্তির সফল পরীক্ষা করেছে ডিআরডিও। এই সাফল্যের ফলে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র চালনা প্রযুক্তির অধিকারী বিশ্বের অল্প কয়েকটি দেশের তালিকায় ভারতের নাম যুক্ত হল।
র্যামজেট (Ramjet) এক বিশেষ ধরনের জেট ইঞ্জিন, যা মূলত সুপারসনিক গতির ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহৃত হয়। এই প্রযুক্তির অন্যতম বিশেষত্ব হল, এতে প্রচলিত জেট ইঞ্জিনের মতো জটিল টার্বাইনের প্রয়োজন হয় না। ফলে এই ইঞ্জিন ব্যবহার করা ক্ষেপণাস্ত্র তুলনামূলক ভাবে হালকা হয় এবং অত্যন্ত দ্রুতগতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়।
এই প্রযুক্তিতে ইঞ্জিনের সামনের দিক দিয়ে প্রবেশ করা বাতাসকে উচ্চ গতিতে সংকুচিত করা হয়। সেই বাতাসই জ্বালানি পোড়ানোর প্রক্রিয়ায় শক্তি তৈরি করে, যা ক্ষেপণাস্ত্রকে গতিশীল রাখে। ডিআরডিও-র (DRDO) তৈরি সলিড ফুয়েল ডাক্টেড র্যামজেট ব্যবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্রের গতি ও কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
চাঁদিপুর থেকে পরীক্ষামূলক ভাবে র্যামজেট প্রযুক্তিনির্ভর ক্ষেপণাস্ত্র (Ramjet Missile) উৎক্ষেপণ করা হয়। ডিআরডিও জানিয়েছে, পরীক্ষার সময় ক্ষেপণাস্ত্রের সমস্ত কার্যক্ষমতা নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী সফলভাবে কাজ করেছে। এর ফলে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র চালনা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ভারতের সক্ষমতা আরও দৃঢ় হল।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, র্যামজেট প্রযুক্তি ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণে মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারে। প্রচলিত সলিড প্রপেলান্ট রকেটের ক্ষেত্রে ক্ষেপণাস্ত্রকে নিজস্ব অক্সিডাইজার বহন করতে হয়, যা ওজন বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু র্যামজেট প্রযুক্তি বায়ুমণ্ডল থেকেই অক্সিজেন গ্রহণ করে, ফলে ক্ষেপণাস্ত্রের ওজন কমে এবং একই সঙ্গে গতি ও পাল্লা বাড়ে। পাশাপাশি অস্ত্র ব্যবস্থায় বেশি পরিমাণ পেলোড বহনের সুযোগ তৈরি হয়।
ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা (India Pakistan Conflict) এবং সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার দিকে জোর দিচ্ছে নয়াদিল্লি। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে প্রতিরক্ষা খাতে ৭.৮৫ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সুপারসনিক ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রকে ভবিষ্যতে হাইপারসনিক স্তরে উন্নীত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে র্যামজেট প্রযুক্তিতে ভারতের সাফল্য দেশের সামরিক শক্তিকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।