একসঙ্গে বিধানসভা ভোট প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে অসম, কেরল এবং পন্ডিচেরিতে। তিনটি রাজ্যই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রত্যেক জায়গাতেই আলাদা সমীকরণে লড়াই জমে উঠেছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 9 April 2026 07:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৬ সালের গুরুত্বপূর্ণ ভোটপর্বের (India elections 2026) আনুষ্ঠানিক সূচনা হল বুধবার সকালেই। একসঙ্গে বিধানসভা ভোট প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে অসম, কেরল এবং পন্ডিচেরিতে। তিনটি রাজ্যই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রত্যেক জায়গাতেই আলাদা সমীকরণে লড়াই জমে উঠেছে।
অসমে টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে ভারতীয় জনতা পার্টি তথা বিজেপি (Assam election BJP hat-trick)। অন্যদিকে কেরলে পঞ্চমবারের জন্য ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া বামফ্রন্ট (Kerala Left fifth term)। আর পন্ডিচেরিতে এন রাঙ্গাস্বামীর নেতৃত্বাধীন এআইএনআরসি (AINRC) চতুর্থবার জয়ের লক্ষ্যে লড়াইয়ে।
অসমে হাই-ভোল্টেজ লড়াই
এই পর্যায়ের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি নজর রয়েছে অসমে। মঙ্গলবারই শেষ হয়েছে প্রচারপর্ব। এই প্রচারে একে অপরের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি এবং কংগ্রেস।
বিজেপি তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে একাধিক বড় ঘোষণা করেছে -
এই এলপিজি সিলিন্ডারের প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষাপট যে, মার্কিন-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে সম্ভাব্য গ্যাস সঙ্কটের প্রেক্ষিত, সেটা স্পষ্টই।
‘জাতি-মাটি-ভেটি’ বনাম ‘ঘৃণার রাজনীতি’
অসমের ভোট প্রচারে সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে ‘জাতি-মাটি-ভেটি’ ইস্যু। বিজেপির দাবি, তারা অসমের জমি ও সংস্কৃতিকে ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ হাত থেকে রক্ষা করবে। এই প্রসঙ্গে ‘মিয়া’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, যা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুসলিমদের উদ্দেশে একটি বিতর্কিত ও অবমাননাকর শব্দ।
এর জবাবে কংগ্রেস সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে। তাদের অভিযোগ, বিজেপি ‘ঘৃণার রাজনীতি’ করছে। পাশাপাশি শর্মা পরিবারের আর্থিক লেনদেন নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কংগ্রেস দাবি করেছে, তাঁর স্ত্রীর একাধিক পাসপোর্ট ও বিদেশে সম্পত্তি রয়েছে এবং এই নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
জুবিন গর্গের মৃত্যু: ভোটে বড় ফ্যাক্টর?
এই নির্বাচনে বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গর্গের মৃত্যু। ৫২ বছর বয়সি এই শিল্পী ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে মারা যান।
স্থানীয় প্রশাসন এটিকে দুর্ঘটনা বললেও, অসম পুলিশ দাবি করে এটি ‘খুন’। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। কংগ্রেস প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ক্ষমতায় এলে ১০০ দিনের মধ্যে ‘ন্যায়’ দেবে।
ডিলিমিটেশনের পর প্রথম ভোট
২০২৩ সালে ডিলিমিটেশনের পর এই প্রথম ভোট হচ্ছে অসমে। এই প্রক্রিয়ায় ভোট কেন্দ্রগুলির সীমানা নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
বিশেষ করে যেসব কেন্দ্রে মুসলিম ভোটারদের প্রভাব বেশি ছিল, সেগুলির সংখ্যা কমে গিয়েছে - ১২৬টি আসনের মধ্যে ৩২টি থেকে কমে ২২টিতে নেমে এসেছে। ফলে এই পরিবর্তন ভোটের ফলাফলে কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে জোর জল্পনা চলছে।
কেরল ও পন্ডিচেরিতেও নজর
কেরলে বামফ্রন্ট টানা পঞ্চমবার ক্ষমতায় ফিরতে মরিয়া। অন্যদিকে পন্ডিচেরিতে এন রাঙ্গাস্বামীর এআইএনআরসি চতুর্থবার জয়ের লক্ষ্যে লড়ছে।
সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের ভোটপর্বের শুরুতেই দেশের রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে এবং অসম এই লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।