Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে হেরে টেবিলের তলানিতে কেকেআর! গুরুতর বদলের ইঙ্গিত রাহানের নববর্ষের 'শুভনন্দন'-এও মুখ্যমন্ত্রীর SIR তোপ! বাংলায় পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীরইরানের সব পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে‌ দেওয়া হয়েছে, দাবি আমেরিকার, চিন্তা ইরানি ল্যান্ডমাইনও Poila Baisakh: দক্ষিণেশ্বর থেকে কালীঘাট, নববর্ষে অগণিত ভক্তের ভিড়, পুজো দিতে লম্বা লাইনপয়লা বৈশাখেই কালবৈশাখীর দুর্যোগ! মাটি হতে পারে বেরনোর প্ল্যান, কোন কোন জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাসমেয়েকে শ্বাসরোধ করে মেরে আত্মঘাতী মহিলা! বেঙ্গালুরুর ফ্ল্যাটে জোড়া মৃত্যু ঘিরে ঘনীভূত রহস্য UCL: চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারে পিএসজি-আতলেতিকো, ছিটকে গেল বার্সা-লিভারপুল‘ইরানকে বিশ্বাস নেই’, যুদ্ধবিরতির মাঝে বিস্ফোরক জেডি ভ্যান্স! তবে কি ভেস্তে যাবে শান্তি আলোচনা?১৮০ নাবালিকাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে শোষণ! মোবাইলে মিলল ৩৫০ অশ্লীল ভিডিও, ধৃতের রয়েছে রাজনৈতিক যোগ ৩৩ বছর পর মুখোমুখি ইজরায়েল-লেবানন! ওয়াশিংটনের বৈঠকে কি মিলবে যুদ্ধবিরতির সমাধান?

ভারত-চিন সম্পর্কের ৭৫ বছর: অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন পথে এগনো সময়ের দাবি

আগামী বুধবার অর্থাৎ ২ এপ্রিল ভারতীয় পণ্যের উপর আমেরিকার বাড়তি শুল্ক বলবৎ হবে।

ভারত-চিন সম্পর্কের ৭৫ বছর: অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন পথে এগনো সময়ের দাবি

শেষ আপডেট: 31 March 2025 10:29

অমল সরকার

 আগামী বুধবার অর্থাৎ ২ এপ্রিল ভারতীয় পণ্যের উপর আমেরিকার বাড়তি শুল্ক বলবৎ হবে। নয়াদিল্লির কর্তারা নানাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন মার্কিন সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করানোর। ট্রাম্প কেন মাস পয়লা অর্থা ১ এপ্রিলের পরিবর্তে ২ এপ্রিল বেছে নিলেন? নিজেই বলেছেন, আমি চেয়েছিলাম ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর করতে। তাতে অনেকে হয়তো ধরে নিতেন, আমি এপ্রিল ফুল করছি। তাই ২ এপ্রিল থেকে পারস্পরিক শুল্ক চালু করব।’

ট্রাম্পের শুল্কনীতির বড় টার্গেট চিনও। তারা ইতিমধ্যে মার্কিন পণ্যের উপর পাল্টা শুল্ক চাপিয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্টকে কড়া জবাব দিয়েছে। সেই চিন ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল ১৯৫০-এর ১ এপ্রিল। সদ্য স্বাধীন দুটি দেশ একে-অপেরের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল। সময়ের সরণিতে সেই করমর্দন নানা কারণে বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছিল। তারমধ্যে অন্যতম হল কমিউনিস্ট বিশ্বের বাইরে ভারত ছিল প্রথম দেশ যারা চিনের নয়া নেতৃত্বের সঙ্গে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেয়। তারপর হোয়াং হো আর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গিয়েছে। মাঝখানে কেটে গিয়েছে ৭৫টি বছর। ২০২৫—ভারত-চিন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর উদযাপন করবে।

এমন ঐতিহাসিক মুহূর্ত শুরুর প্রাক্কালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি সাক্ষাৎকারের বক্তব্য দু-দেশের ৭৫ বছরের সম্পর্কের ঘাত-প্রতিঘাতকে পিছনে ফেলে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। মার্কিন পডকাস্টার ফ্রিডম্যানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সীমান্ত নিয়ে চিনের সঙ্গে সমস্যা মেনে নিয়েও ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে মতানৈক্য থাকতেই পারে, কিন্ত তা যেন বিবাদের পর্যায়ে না যায়।’

কালক্ষেপ না করে বেজিংয়ে চিনা বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রশংসা করেছেন, যা অতীত অভিজ্ঞতার সঙ্গে খুব একটা মেলে না। বেশিরভাগ সময়েই দু-দেশের দায়িত্বশীল নেতা পরস্পরের ইতিবাচক মন্তব্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। সীমান্ত বিরোধকে দৃষ্টান্ত করে সম্পর্কের অগ্রগতিতে জল ঢেলে দিয়েছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বন্ধুত্বের বার্তাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চিন দু-দেশের সম্পর্কের একটি চমৎকার ভাবনা তুলে ধরে বলেছে এই বোঝাপড়া হাতি ও ড্রাগনের যৌথ ব্যালে হয়ে উঠবে। এই কথার অর্থ ভারতের তুলনায় উন্নত অর্থনীতি এবং সামরিক শক্তিতে বলিয়ান চিন তাদের অগ্রগতি সচল রাখতে এই পড়শি দেশটিকে পাশে চায়।

এত গেল সরকারি কর্তাদের কথা। চিন-ভারত সম্পর্কের সুচনা পরবর্তী বারোটি বছর দু-দেশের জনসাধারণকে যেভাবে স্পর্শ করেছিল তা ভারত-বাংলাদেশের মধ্যেও হয়নি। যে দেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে ভারতীয় সেনা প্রাণ দিয়েছে এবং ভারতবাসী সক্রিয়ভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। ১৯৬২-তে ভারত-চিন যুদ্ধেই ‘হিন্দি-চিনি ভাই ভাই’ সম্পর্কের ইতি পড়ে গিয়েছিল। যে যুদ্ধ ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকেও টালমাটাল করে তোলে। কমিউনিস্ট চিনের দালালি করার অভিযোগ তোলা হয় ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির বিরুদ্ধে। নেতারা কারারুদ্ধ হন। শেষে কমিউনিস্ট পার্টির ভাঙনেও ছাপ ফেলে চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ঘিরে মতবিরোধ। কমিউনিস্টদের একাংশ আওয়াজ তোলে ‘চিনের চেয়ারম্যান আমাদের চেয়ারম্যান।’ তবু স্মৃতিপটে ‘হিন্দি-চিনি ভাই ভাই’ কথাটি অমলিন থেকেছে।

১৯৫৫। ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এবং চিনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাই।

যদিও রাষ্ট্রের কর্ণধারেরা এগিয়েছেন নাগরিক ভাবনার বিপরীতে। ’৬২-এর যুদ্ধ থেকে নয়ের দশকের গোড়া পর্যন্ত দুই দেশই ‘শত্রুর শত্রু আমার মিত্র’ নীতি নিয়ে চলে। ভারত হাত মেলায় চিনের শত্রু আমেরিকার সঙ্গে। চিন পাশে দাঁড়ায় ভারতের শত্রু পাকিস্তানের। যদিও ঠাণ্ডা যুদ্ধের অঙ্কে ১৯৭১-এ ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ, যা একই সঙ্গে ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, তাতে চিন ও আমেরিকা অভিন্ন অবস্থান নিয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের কারণে। যুদ্ধ চলাকালে ভারত-সোভিয়েত প্রতিরক্ষা চুক্তি সব অঙ্ক চূরমার করে দেয় তখন।

নয়ের দশকের শুরুতে ঠাণ্ডা যুদ্ধের অবসানের পর চিন-আমেরিকা সম্পর্কের শীতলতা কমে আসতে শুরু করে। কিন্তু ভারত ও চিনের পারস্পরিক দৃষ্টিভঙ্গির তেমন একটা পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়নি। আমেরিকার পাশাপাশি ভারতের সোভিয়েত, পরবর্তীতে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাকে চিন তাদের সুরক্ষার ঝুঁকি হিসাবে দেখেছে।

পাশাপাশি দিল্লি ও বেজিংয়ের কর্ণধারেরা একে অপরকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিষ্ক্রিয় রাখতে, বলতে গেলে জোট নিরপেক্ষ অবস্থান নিতে বাধ্য করেছে বারে বারে। দুই দেশই চায়নি তারা আমেরিকায় ঘনিষ্ঠ হোক। দুই দেশই তাই পরস্পরের স্পর্শকাতর ইস্যুগুলি খুঁচিয়ে তুলতে চেয়েছে। চিন হাতিয়ার করেছে কাশ্মীর। ভারত কখনও তীব্বত, তো কখনও তাইওয়ান নিয়ে চিনকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। ভারতের তাইওয়ান ঘনিষ্ঠতা চিন ভাল ভাবে নেয়নি। ভারত চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভকে সার্বভৌমত্বের বিরোধী বলে গ্রহণ করেনি।

অন্যদিকে, ভারতের প্রতিবেশি দেশগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে বেজিং নয়া দিল্লিকে চিন্তায় রেখেছে। তাৎপর্যপূর্ণ হল, ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলিতে এই মূহূর্তে ক্ষমতাসীন নেতৃত্ব বেজিংয়ের প্রতি অনুগত। নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির পর বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস দ্বিপাক্ষিক সফরে প্রথমে চিনে গিয়েছেন। গত ৭৫ বছরের ইতিহাস বলছে, দুই দেশই প্রতিবেশী এবং তথাকথিত সুপার পাওয়ারের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে পরস্পরকে দোষারোপ এবং সন্দেহের চোখে দেখে এসেছে। অথচ তারা নিজেরাই সুপার পাওয়ার হতে পারত পরস্পরের দিকে হাত বাড়ালে।

হয়তো, তাহলে কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষেই ভারত ও চিনের উপর একতরফা রপ্তানি শুল্ক চাপানোর মস্তানি করা সম্ভব হত না। আগেকার দিনে, রাজা-মহারাজা-জমিদারের একে অপরের অতীত, সম্পদের গরিমা নিয়ে বিবাদে লিপ্ত থাকতেন। এশিয়ার দুই প্রাচীন সভ্যতা, ইতিহাস, ঐতিহ্যের ধারক চিন ও ভারত কি সেই আত্মশ্লাঘার কারণে কাছাকাছি না এসে বিবাদ করে গেল?

১৯৬২-এর পর চিনের সঙ্গে আরও কয়েকবার ভারতের সামরিক সংঘাত হয়েছে। তবে ২০২০-তে পূর্ব লাদাখের গালোয়ানের সংঘাতটি ছিল ভয়াবহ। সে বছর জুনে চিনের লাল ফৌজের হামলায় ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হন। পাল্টা হামলায় চিনেরও বেশ কয়েকজন জওয়ান নিহত ও আহত হন বলে খবর।

সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সম্পর্কের শীতলতা কাটতে শুরু করে গত বছর রাশিয়ার কাজান শহরে ব্রিকস সম্মলনের সময়। সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠক করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

শি চিনের কর্ণধার হয়েছেন ২০১৩-তে। মোদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন পরের বছর। অর্থাৎ দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে দু’জনের অভিজ্ঞতা প্রায় সমান। দশ-বারো বছর সেই দায়িত্ব পালনের পর দু’জনেই হয়তো উপলব্ধি করেছেন, দু’দেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলি এমন যে দেশিয় বাস্তবতা বিবেচনায় রাখতে হলে সেগুলি নিয়ে কয়েক দফা বৈঠকে মীমাংসা সুত্র মিলবে না। তার চাইতে বরং সম্পর্কের শীতলতা দূর করতে শুধু সীমান্তের দিকে চেয়ে না থেকে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রস্তুত করা বাস্তবচিত।

রাশিয়ায় শি-মোদী বৈঠকের আগে লাদাখ নিয়ে সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে কয়েক দফা বৈঠক হয় দু-দেশের। যার পরিণতিতে দুই শীর্ষ নেতা মুখোমুখি বসেছিলেন। অর্থাৎ শীর্ষ বৈঠকের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয় যুদ্ধক্ষেত্র থেকে। ধরেই নেওয়া যায়, দুই নেতাই ২০২৫-এ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তির বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছিলেন।

গত বছর ছিল রবি ঠাকুরের চিন ভ্রমণের শতবর্ষ। চিন এই উপলক্ষে বহু যৌথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। আগামী মাসে শান্তি নিকেতনে চিনা ভবনে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে কবির চিন যাত্রা বিষয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনাচক্র। ভারত-চিন সম্পর্কের প্রতীক হয়ে আছেন কবিগুরু।

জনসংখ্যায় বিশ্বের প্রথম ও দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ দুটির প্রধান সম্পদ তাঁর নাগরিকেরা। ভারত জনসংখ্যায় চিনকে ছাপিয়ে গেল কী গেল না তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার আগে খেয়াল রাখা দরকার এত বিপুল কর্মক্ষম মানুষ খুব কম দেশে আছে যা এই দুই দেশে মিলবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের হল, দু-দেশ একে-অপরের বাজারের দখল নিতে চাইলেও নাগরিক সম্পর্ক নেই বললেই চলে। ভিসার সংখ্যা এবং চরিত্র থেকে বোঝা যায় নাগরিক সম্পর্ক থমকে আছে মূলত ব্যবসায়ী মহলে। সেই সম্পর্কেও ভারসাম্যের অভাব, রপ্তানিতে চিন অনেক এগিয়ে।

কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছরকে সামনে রেখে দুই-দেশই আশা করা যায় নাগরিক-সম্পর্ক স্থাপনে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ করবে। তবে সেগুলি নিছকই প্রতীকি হলে চলবে না। ধারাবাহিকা জরুরি। সীমান্ত বিবাদকে পাশ কাটিয়ে দুই দেশ যদি সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তিতে হাত ধরতে পারে, তাহলে আলিঙ্গনে বাধা কোথায়, এই প্রশ্ন ন্যায্য।

বিশেষ করে ট্রাম্পের মতো মানুষ যখন আমেরিকার মসনদে তখন বিশ্ব রাজনীতি, কুটনীতি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। তাঁর বাণিজ্যমুখী বিদেশ নীতির কারণেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের প্রশংসায় ট্রাম্প পঞ্চমুখ। তাঁদের বোঝাপড়া হলে মস্কোর বেজিং নির্ভরতাও কমে আসবে। তাই পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির কারণেও চিন ও ভারতের আরও কাছাকাছি আসা সময়ের দাবি। একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে তারা বন্ধুত্বকে হাতিয়ার করে আমেরিকাকেই পাল্টা চোখ রাঙাতে পারে।


```