
জগদীপ ধনখড়।
শেষ আপডেট: 10 December 2024 14:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার বিরোধীরা উপরাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড়ের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনল। কংগ্রেসের নেতৃত্বে এই অনাস্থা নোটিস আনা হয়। সংসদের উচ্চকক্ষে চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিরোধীদের ক্রমাগত সংঘাতের জেরে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দেশের সংসদীয় ইতিহাসে এই প্রথম এ ধরনের ঘটনা ঘটল।
২০২৪-এর লোকসভা ভোটের পর সংসদে কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে বোঝাপড়া প্রায় নেই বললেই চলে। গৌতম আদানির কোম্পানির বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও কংগ্রেসের সিদ্ধান্তে গলা মেলায়নি তৃণমূল। কিন্তু রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের অনাস্থা প্রস্তাবে পাশে থাকার কথা জানিয়েছে জোড়াফুল-সহ একাধিক বিরোধী দল।
ধনখড়ের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের অভিযোগের সার কথা হল, রাজ্যসভার চেয়ারম্যান নিরপেক্ষ রেফারির ভূমিকা ছেড়ে শাসকদল বিজেপির গোলকিপারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। অভিযোগটা নতুন নয়। কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির বক্তব্য, হালে ধনখড়ের এমন আচরণ মাত্রা ছাড়িয়েছে।
সম্প্রতি বিজেপি সাংসদরা মার্কিন ধনকুবের জর্জ সোরসকে জড়িয়ে কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছেন। অভিযোগ করেছেন সোরসের সংস্থার কাছ থেকে কংগ্রেস বিপুল টাকা পেয়ে থাকে, যারা কাশ্মীর-সহ নানা ইস্যুতে বিশ্বব্যাপী ভারতের নিন্দামন্দ করে থাকে। বিজেপির আরও অভিযোগ, কংগ্রেস দেশবিরোধীদের টাকা নিয়ে থাকে। এমনকী এই অভিযোগও করা হয়েছে, যে কংগ্রেসের সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন তথা রাজ্যসভা সদস্য সনিয়া গান্ধী জর্জ সোরসের প্রতিষ্ঠান ফোরাম অফ এশিয়া প্যাসিফিকের সদস্য। প্রসঙ্গত গত বছর সোরসকে নিয়ে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে বিবাদ মাত্রা ছাড়িয়েছিল। সোরস প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছিলেন, নরেন্দ্র মোদীর জমানায় ভারতে গণতন্ত্র বিপন্ন। আরও বলেছিলেন, তাঁর সংস্থা ভারতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সাহায্য করতে আগ্রহী।
কংগ্রেস পত্রপাঠ সোরসের প্রস্তাব খারিজ করে দিয়ে বলেছিল, ভারতের সমস্যা ভারত একাই মেটাতে পারবে। ভারতের জনগণই এই ব্যাপারে শেষ কথা বলবে। কারও নাক গলানোর প্রয়োজন নেই। কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভায় দলের নেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গের অভিযোগ, ধনখড় বিজেপির সাংসদদের রাজ্যসভায় এমন সব ভিত্তিহীন কথা বলতে দিয়ে কংগ্রেসকে আক্রমণ এবং হেয় করার সুযোগ করে দিয়েছেন। কিন্তু পাল্টা কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলিকে বলার সুযোগ দেননি।
কংগ্রেস নেতৃত্ব অন্য বিরোধী দলগুলির সঙ্গে ধনখড়ের এমন আচরণ নিয়ে কথা বলেছে। সংসদ সূত্রের খবর, তৃণমূল কংগ্রেস-সহ একাধিক বিজেপি বিরোধী দল এই ব্যাপারে কংগ্রেসের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে যে ধনখড়ের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনলে তারা সেটি সমর্থন করবে। রাজ্যসভায় এখন বিজেপি তথা এনডিএ সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাই ভোটাভুটি করে রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের আসন থেকে ধনখড়কে সরানো কঠিন। আরও বড় প্রশ্ন, ধনখড় তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সুযোগ দেবেন কিনা। তবে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ হওয়াটাই রাজ্যসভার চেয়ারম্যান, লোকসভার স্পিকারের জন্য অস্বস্তিদায়ক। সেই কারণেই কংগ্রেস ধনখড়ের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে এল।