
শেষ আপডেট: 25 February 2025 09:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের (United nations general assembly) ভোটাভুটিকে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ (Russia-Ukraine war) বন্ধের প্রস্তাব নিয়ে আমেরিকার (United States) বিপরীত অবস্থান নিল ভারত ও চিন (India and China) । আরও ৬৫টি দেশের সঙ্গে দিল্লি ও বেজিংয়ের (New Delhi and Beijing) প্রতিনিধিরা ভোটদানে বিরত থাকেন।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের তিন বছর পূর্তিতে ভারতের সময় সোমবার গভীর রাতে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দুটি প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটি হয়। প্রথমটি আনে ইউক্রেন ও তাদের সহযোগী ইউরোপের দেশগুলি। তাতে রাশিয়াকে অবিলম্বে ইউক্রেন থেকে সেনা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়। আর একটি প্রস্তাবের অন্যতম প্রস্তাবক ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট। তাতে একতরফা যুদ্ধ বন্ধের কথাটুকুই শুধু ছিল।
দীর্ঘ আলোচনা শেষে ভারত ও চিন দুটি প্রস্তাবের কোনওটিতেই ভোট দেয়নি। যে ৬৫টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে তাতে ভারত ও চিন ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ দেশ হল ব্রাজিল। তাৎপর্যপূর্ণ হল, প্রস্তাবটি পাশ হবে না বুঝে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ভোটাভুটি থেকে সরে যায়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) প্রশাসন বিষয়টি রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পেশ করবে।
গত মাসে দ্বিতীয়বার আমেরিকার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে তৎপর হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। উদ্দেশ তাঁর নেতৃত্বাধীন আমেরিকার কর্তৃত্ব জাহির করা।
কিন্তু ট্রাম্পের উদ্যোগ ভালভাবে নিচ্ছে না ভারত, চিন। এই দুই দেশ রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হলেও ট্রাম্প যেভাবে যুদ্ধের দায় ইউক্রেনের উপর চাপিয়ে দিচ্ছেন এবং যুদ্ধ না থামাতে জেলেনেস্কির দেশ দু-টুকরো করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন তা ভালভাবে নিচ্ছে না নয়া দিল্লি ও বেজিংয়ের নেতৃত্ব। ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর ইউক্রেনকে অস্ত্র সাহায্য দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। ভ্লাদিমির জেলেনেস্কির দেশকে অস্ত্র ও অর্থ সাহায্য করায় তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Indian Prime Minister Narendra Modi) সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভাল হলেও রাশিয়া-ইউক্রেন ইসুতে ভারত নিঃশর্তে আমেরিকার পাশে নেই। ট্রাম্প যখন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন তখন সমান্তরালে ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর কথা চালিয়ে গিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে।
কূটনৈতিক মহল মনে করছে, ভারত খুবই কুশলী অবস্থান নিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে বাকিদের সঙ্গে সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি করতে চাইছে না নয়াদিল্লি। ভোটাভুটিতে বিরত থেকে ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য নয়াদিল্লি একতরফা একটি দেশকে দোষারোপ করার পক্ষপাতী নয়।