
শেষ আপডেট: 16 November 2024 17:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্র ও ঝাড়খণ্ডে মুসলিমদের বিভিন্ন সংগঠন ‘ইন্ডিয়া’-র শরিক দলগুলিকে ভোট দিতে প্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। তাদের বক্তব্য, এই ধরনের কাজ সংবিধান এবং নির্বাচনী বিধির পরিপন্থী। নির্বাচন কমিশন এবং সুপ্রিম কোর্টের উচিত এই ব্যাপারে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করা।
মুসলিম সংগঠনগুলির ভূমিকা নিয়ে শনিবার দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করেন দলের জাতীয় মুখপাত্র গৌরভ ভাটিয়া। তিনি অভিযোগ করেন, অল ইন্ডিয়া মুসলিম পারসোন্যাল ল বোর্ডের কর্তা মৌলানা সাজ্জাদ নোমানি মহারাষ্ট্রের ২৮৮ আসনের মধ্যে ২৬৯টিতে কংগ্রেস-সহ ইন্ডি জোটের প্রার্থীদের জয়যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। বাকিগুলিতে বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসক জোটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে থাকা শক্তিশালী প্রার্থীকে ভোট দিতে বলেছেন। ভাটিয়ার প্রশ্ন অল ইন্ডিয়া মুসলিম পারসোন্যাল ল বোর্ড কী করে একটি বিশে্ষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে ভোট দেওয়ার কথা বলতে পারে?
বিজেপির জাতীয় মুখপাত্রের অভিযোগ, ঝাড়খণ্ডে জমিয়তে উলেমায় হিন্দ ‘ইন্ডিয়া’-র শরিকদের জয়যুক্ত করতে প্রচার চালাচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন ধর্মের ভিত্তিতে ভোট চাওয়া বা প্রচার করা নিষিদ্ধ। কী করে দুটি সংগঠন একটি বিশেষ রাজনৈতিক শক্তির পাশে থাকতে মুসলিমদের প্রতি আহ্বান জানাতে পারে!
তাৎপর্যপূর্ণ হল, মহারাষ্ট্র এবং ঝাড়খণ্ড কোথাও বিজেপি একজনও মুসলিমকে প্রার্থী করেনি। মহারাষ্ট্রে পদ্ম শিবির শতাধিক আসনে লড়াই করছে। মুসলিমদের টিকিট না দেওয়া নিয়ে দলের বক্তব্য, প্রার্থী বাছাইয়ে বিজেপি কোনও ধর্মীয় বা জাতিগত কোটা বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নেয় না। ভোটে প্রার্থী বাছাইয়ে যোগ্যতাই দলের একমাত্র মাপকাঠি। পদ্ম শিবিরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী দুই রাজ্যের কোথাও একজন মুসলিমকেও বিজেপির প্রার্থী হওয়ার মতো যোগ্য মনে হয়নি।
সেই বিজেপি সংখ্যালঘুদের কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের ভোট দেওয়া আটকাতে সক্রিয়। মহারাষ্ট্রে কংগ্রেসই সবচেয়ে বেশি, নয়জন মুসলিমকে টিকিট দিয়েছে। এই ব্যাপারে দ্বিতীয় স্থানে আছে অজিত পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি। অজিত পাঁচজন মুসলিমকে প্রার্থী করেছেন।
ভাটিয়া আজ বলেন, মুসলিম সংগঠনের নেতারা প্রকাশ্যে ‘ইন্ডিয়া’ হয়ে প্রচার চালাচ্ছে। তারা এটা করতে পারে না। নির্বাচন কমিশন ও সুপ্রিম কোর্টের উচিত পদক্ষেপ করা।
প্রসঙ্গত অল ইন্ডিয়া মুসলিম পারসোন্যাল ল বোর্ড মুসলিমদের অধিকার নিয়ে কাজ করে। অন্যদিকে, জমিয়তে উলেমায় হিন্দু একটি রাজনৈতিক দল হলেও তারা ভোটে অংশ নেয় না। ওই দলেরই শীর্ষ নেতা বাংলার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী পার্টির অনুমতি নিয়ে তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে লড়াই করেন।