আইআইটি হায়দরাবাদের ইতিহাসে প্রথমবার আড়াই কোটির প্যাকেজে চাকরি পেলেন এক কম্পিউটার সায়েন্সের ছাত্র। নেদারল্যান্ডসের সংস্থার এই অফার গড়ল নজির।

এডওয়ার্ড নাথান ভার্গিস
শেষ আপডেট: 1 January 2026 23:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাকরির বাজার যখন মন্দার ধাক্কায় টালমাটাল, তখন নজির গড়ল ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, হায়দরাবাদ (Indian Institute of Technology Hyderabad)। প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও ছাত্র পেল ২.৫ কোটি টাকার প্যাকেজ (Rs 2.5 crore package)। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (Computer Science Engineering) চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্র এডওয়ার্ড নাথান ভার্গিস (Edward Nathan Varghese) এই রেকর্ড গড়লেন চলতি সিজনের প্লেসমেন্টে।
নেদারল্যান্ডসভিত্তিক ট্রেডিং সংস্থা অপটিভারে (Optiver) সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার (Software Engineer) হিসেবে কাজ শুরু করবেন ভার্গিস। আগামী জুলাই মাসে নেদারল্যান্ডসের (Netherlands) অফিসে যোগ দেবেন তিনি। আইআইটি হায়দরাবাদ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম এত বড় অঙ্কের প্যাকেজ পেল প্রতিষ্ঠানটির কোনও ছাত্র।
২১ বছর বয়সি ভার্গিসের এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে তাঁর ইন্টার্নশিপ। অপটিভারে দু’মাসের সামার ইন্টার্নশিপ (Summer Internship) থেকেই প্রি-প্লেসমেন্ট অফার (Pre-Placement Offer বা PPO) পান তিনি। উল্লেখযোগ্য ভাবে, ওই ইন্টার্নশিপে দু’জন ছাত্র সুযোগ পেলেও পিপিও পান একমাত্র ভার্গিসই। ইন্টার্নশিপে প্রথম দু’সপ্তাহ প্রশিক্ষণ এবং পরের ছ’সপ্তাহ ছিল একটি প্রকল্পের কাজ।
হায়দরাবাদে জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই ভার্গিসের। পরে সপ্তম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন বেঙ্গালুরুতে (Bengaluru)। প্লেসমেন্ট নিয়ে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভার্গিস বলেন, 'এই সংস্থাটিই প্রথম এবং একমাত্র যেখানে আমি ইন্টারভিউ দিয়েছিলাম। আমার মেন্টর যখন বললেন সংস্থাটি আমাকে অফার দেবে, তখন আমি যেমন খুশি হয়েছিলাম, তেমনই খুশি হয়েছিল আমার বাবা-মাও।'
বর্তমান চাকরির বাজারের মন্দা তাঁকে দমাতে পারেনি। ওসব ভাবেননি কোনওদিন। তাঁর কথায়, “আমি জানতাম আইআইটি ট্যাগ (IIT tag) ক্যাম্পাসে বড় সংস্থাকে টানবে। প্রথম বর্ষ থেকেই আমি কম্পিটিটিভ প্রোগ্রামিংয়ে (Competitive Programming) যুক্ত ছিলাম এবং দেশের প্রথম ১০০ জনের মধ্যে ছিলাম। সেটাই ইন্টারভিউতে অনেকটা সাহায্য করেছে।” পাশাপাশি, আইআইটি হায়দরাবাদের নমনীয় কারিকুলাম (Curriculum) ও বিভিন্ন কোর্স নেওয়ার সুযোগকেও সাফল্যের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। উল্লেখযোগ্য, ভার্গিসের বাবা-মা দু’জনেই পেশায় ইঞ্জিনিয়ার।
এই সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে আইআইটি হায়দরাবাদের প্লেসমেন্ট পরিসংখ্যানেও বড় বদল এসেছে। চলতি বছরে আরও এক জন কম্পিউটার সায়েন্সের ছাত্র পেয়েছেন ১.১ কোটি টাকার প্যাকেজ (Rs 1.1 crore package)। এর আগে ২০১৭ সালে সর্বোচ্চ প্যাকেজ ছিল প্রায় ১ কোটি টাকা।
শুধু সর্বোচ্চ নয়, গড় প্যাকেজেও বড় লাফ। ২০২৪ সালে যেখানে গড় প্যাকেজ ছিল ২০.৮ লাখ টাকা, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬.২ লাখ টাকা, প্রায় ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি। প্লেসমেন্টের প্রথম পর্যায়ে, যা ডিসেম্বরে শেষ হয়েছে, মোট ২৪টি আন্তর্জাতিক অফার (International Offers) পেয়েছেন ছাত্রছাত্রীরা।
আইআইটি হায়দরাবাদের অফিস অফ কেরিয়ার সার্ভিসেসের (Office of Career Services) ফ্যাকাল্টি-ইন-চার্জ ময়ূর বৈদ্য (Mayur Vaidya) জানিয়েছেন, শুধু বড় প্যাকেজ নয়, আমাদের লক্ষ্য সব পড়ুয়াকে ভাল সুযোগ দেওয়া। টেক জবের পাশাপাশি কোর ইঞ্জিনিয়ারিং (Core Engineering) এবং পিএসইউ (PSU) সংস্থাগুলিকেও আমরা আগেভাগে সুযোগ দিচ্ছি।
বর্তমানে ৬৫০ জন স্নাতকোত্তর (PG) ছাত্রের মধ্যে ১৯৬ জন প্লেসড হয়েছেন, গড় প্যাকেজ ২২ লাখ টাকা। স্নাতক (UG) স্তরে প্লেসমেন্টে বসা ৪৮৭ জনের মধ্যে ৬২ শতাংশ ছাত্র চাকরি পেয়েছেন।