
শেষ আপডেট: 4 November 2023 17:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেশ কিছুদিন চুপচাপ ছিল রাজস্থানে কংগ্রেসের বিবদমান অশোক গেহলট ও শচীন পাইলট শিবির। কিন্তু তলে তলে যে দুই শিবিরের মধ্যে রেষারেষি চরমে উঠেছে, তা বোঝা যাচ্ছিল হাত শিবিরের প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত না হওয়ায়। আগামী মাসে যে পাঁচ রাজ্যে বিধানসভার নির্বাচন হতে যাচ্ছে তারমধ্যে একমাত্র রাজস্থানে কংগ্রেস এখনও প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি। কারণ, মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট ও তাঁর বিরোধী শিবির প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী শচীন পাইলটের শিবিরের মধ্যে কিছুতেই ভারসাম্য আনা যাচ্ছে না তালিকায়। যদিও কংগ্রেস হাইকমান্ড তালিকা তৈরির ফর্মুলা বাতলে দিয়েছে প্রায় দিন দশ হয়ে গেল।
বৃহস্পতিবার গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আরও উস্কে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী গেহলট। যোধপুরে সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে গেহলট বলেন, ‘আমি পদ ছেড়ে দিতে চাই। কিন্তু পদ আমাকে ছাড়তে চায় না। ভোটের পর ফের সরকার গড়ার সুযোগ পেলে আমি মুখ্যমন্ত্রিত্ব থেকে রেহাই পাব বলে মনে হয় না।’
গেহলটের এই মন্তব্য নিয়ে শোরগোল শুরু হয়েছে মরুরাজ্যে। রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তিনিই যোগ্যতম, এমনটাই বোঝাতে চেয়েছেন প্রবীণ মুখ্যমন্ত্রী, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। নবীন নেতা শচীন পাইলটের শিবির এই কথা মোটেও মেনে নেবে না, তাতেও কোনও সন্দেহ নেই। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস হাইকমান্ড কী পদক্ষেপ করে সেটাই দেখার।
মুখ্যমন্ত্রী পদের অন্যতম দাবিদার শচীন এবারও ভোটের আগে দাবি তোলেন তাঁকেই মুখ করে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামুক দল। গেহলট শিবিরের বক্তব্য, শচীনকে মুখ করা হলে দলের পরাজয় অনিবার্য। কারণ, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য তিনি বিজেপির হাত ধরার চেষ্টা করেছিলেন, এটা আর গোপন নেই।
শচীনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ যেমন সত্যি, তেমনই রাজ্যে গুজ্জর সম্প্রদায়ের ১৮ শতাংশ ভোটের সিংহভাগ যে তাঁর মুখ দেখে কংগ্রেসের ঝুলিতে আসে সেটাও অস্বীকার করতে পারছে না দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তাই শচীনকে ঝেড়ে ফেলা কঠিন। গেহলট বৃহস্পতিবার যেভাবে নিজেকেই পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তুলে ধরেছেন তাতে শচীনকে নিয়ে বিবাদ নতুন করে মাথাচাড়া দিতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে যদিও অনেক চেষ্টা করে দুই নেতাকে পাশাপাশি বসিয়ে ভোট পর্যন্ত যুদ্ধ বিরতি নিশ্চিত করেছিলেন। সিদ্ধান্ত হয়, দলের তরফে সরকারিভাবে বলা হবে মুখ্যমন্ত্রী পদের ব্যাপারে ভোটের পর সিদ্ধান্ত হবে। দলকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখাই আশু কর্তব্য।
কিন্তু গেহলট সম্পূর্ণ উল্টো কথা বলে দেওয়ায় চিন্তা বাড়ল কংগ্রেসে। এমনিতেই ক্ষমতায় থাকা এই রাজ্যে কংগ্রেসের অবস্থা ভাল নয়। দল ক্ষমতায় টিকে যাবে, এমন কথা কোনও সমীক্ষাতেই বলা হয়নি, কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকা আর এক রাজ্য ছত্তীসগড় সম্পর্কে যা বলেছে বেশিরভাগ সংস্থার রিপোর্ট। এমনকী রাহুল গান্ধীও রাজস্থানে দলের জয় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। এখন দেখার গেহলটের কথায় কী বলে কংগ্রেস হাইকমান্ড।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের দীর্ণ বিজেপি গেহলটের কথায় অস্ত্র পেয়ে গেল। বিজেপির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজেকে দল এবার এখনও টিকিট দেয়নি। শচীনের মতো তিনিও মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হতে চেয়ে দলে ব্যর্থ হয়েছেন।
শুধু বসুন্ধরাই নন, রাজস্থান বিজেপির প্রথমসারির নেতাদের অনেকেই এবার পিছিয়ে পড়েছেন দলের সিদ্ধান্তে। ফলে চরমে উঠেছে গোষ্ঠী বিবাদ।
যদিও কংগ্রেসে ক্ষমতার লড়াই পদ্ম শিবিরের পুরনো অস্ত্র। ঘরোয়া বিবাদের কারণে সেই অস্ত্র এবার খানিক ভোঁতা হয়ে গিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর কথায় তা আবার মজবুত হল কোনও সন্দেহ নেই।