দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাগুয়ার ফাইটার জেট দুর্ঘটনায় শহিদ হয়েছেন। মাত্র ১০ দিন আগে, ২৩ মার্চ বাগদান সেরেছিলেন তিনি। বিয়ে ঠিক হয়েছিল দিল্লির এক তরুণীর সঙ্গে। দুই পরিবারই যখন বিয়ের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, তখনই এল মর্মান্তিক এই খবর। গুজরাতের জামনগরের কাছে শহিদ হয়েছেন ভারতীয় বায়ুসেনার ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট সিদ্ধার্থ যাদব (IAF Flight Lieutenant Siddharth Yadav)।
গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে, জামনগর এয়ারফিল্ড থেকে উড়ানের কিছুক্ষণের মধ্যেই জামনগর শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরের একটি গ্রামে জেটটি বিধ্বস্ত হয়। মাঠের মধ্যে আছড়ে পড়ে তৎক্ষণাৎ আগুন ধরে যায় তাতে। ঝলসে মারা যান সিদ্ধার্থ। যদিও সহ-পাইলট প্রাণে বেঁচে গেছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে তাঁর।
হরিয়ানার রেওয়ারি জেলার মজরা ভলখি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন সিদ্ধার্থ যাদব। তাঁর রক্তে ছিল দেশসেবার গৌরবময় ইতিহাস। বাবা সুশীল যাদব ভারতীয় বায়ুসেনার অবসরপ্রাপ্ত কর্মী, ঠাকুরদা রঘুবীর সিংহ ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্য।
২০১৬ সালে NDA-তে যোগ দেন সিদ্ধার্থ এবং ২০১৭ সালে ভারতীয় বায়ুসেনায় কমিশনড অফিসার হন। নিজের কর্মজীবনে অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন তিনি।
বায়ুসেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জামনগর এয়ারফিল্ডের জাগুয়ার টু-সিটার এয়ারক্রাফ্টটি রাতের মিশনে ছিল। ওড়ার কিছুক্ষণ পরই কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। দু'জন পাইলটই ইজেকশন প্রক্রিয়া শুরু করেন এবং জনবহুল এলাকা এড়িয়ে বিমানটিকে খোলা জায়গায় ক্র্যাশ করান।
ভাগ্য সহায় হয়নি সিদ্ধার্থের। সহপাইলট গুরুতর আহত হলেও বেঁচে গেছেন, কিন্তু সিদ্ধার্থ শহিদ হন। বায়ুসেনা ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তে ‘কোর্ট অফ এনকোয়ারি’ শুরু করেছে।
ঘটনার পরে রাত ১১টার দিকে সিদ্ধার্থের বাবা সুশীল যাদবের কাছে ফোন আসে, জানানো হয় ছেলের মৃত্যুসংবাদ। সুশীলবাবু বলেন, 'ও ছিল আমার একমাত্র ছেলে। আমি গর্বিত, কারণ A আরেকজনের জীবন বাঁচিয়ে নিজের জীবন দিয়েছে। কিন্তু একইসঙ্গে আমি বিধ্বস্তও, কারণ সে আমার একমাত্র সন্তান ছিল...'
সিদ্ধার্থের পরিবার, বন্ধুবান্ধব, গোটা গ্রাম শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে বুধবার রাত থেকে। দিল্লির যে তরুণীর সঙ্গে সম্প্রতি বাগদান হয়েছিল, তাঁর জীবনও মুহূর্তে বদলে গেল, সদ্য শুরু হতে চলা একটি নতুন জীবনের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। এই দুর্ঘটনা যেন কেবল এক পাইলটের মৃত্যু নয় দু'টি পরিবারকেই চিরতরে শূন্য করে দিল।